স্থূলতার মতো ক্রমাগত বেড়ে চলা সমস্যা কী ভাবে রোধ করা যায়
১৯৭৫ থেকে এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে স্থূলকায় মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় তিনগুণ
- Total Shares
অপুষ্টির হাত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করার জন্য যখন বিশ্বের বহু দেশ লড়াই করে চলেছে তখন কয়েকটি দেশের সমস্যা হল খাদ্যের প্রাচুর্য যা আবার উল্টো ভাবে তাদের অস্বাস্থ্যের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্তুলতা ক্রমশই একটা বড় শারীরিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু একটি রিপোর্টে জানিয়েছে যে ১৯৭৫ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত পৃথিবীতে স্থূলকায় মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। এটি একটি জটিল শারীরিক সমস্যা, নানা কারণে স্তুলতা হতে পারে। হু'র প্রকাশিত তথ্য অনুসারে সমস্যাটা এতটাই বড় আকার নিয়েছে যে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেখা গেছে যে প্রায় ১৯০ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ছিল এবং এঁদের মধ্যে ৬৫ কোটির বেশি ব্যক্তি স্থূলতার সমস্যায় ভুগছিলেন।
স্থূলতা বড় সমস্যা
বিষয়টি নিয়ে আমরা কেউ তেমন একটা মাথা ঘামাই না বটে তবে অপুষ্টির মতো স্থূলতাও একটা বড় সমস্যা। হু জানিয়েছে, “বিশ্বে যতজন মানুষের ওজন কম হওয়ার জন্য মৃত্যু হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয় শরীরের অতিরিক্ত ওজন এবং স্থূলতার জন্য।” কম ওজনের মানুষের চেয়ে পৃথিবীতে স্থূল মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। সাহারা মরু অঞ্চলের একাংশ এবং এশিয়ার কয়েকটি দেশ ছাড়া।
স্থূলতা শুধুমাত্র একটা বংশ পরম্পরাগত সমস্যা নয়
স্থূলতা সারাতে কৃত্রিম বুদ্ধির ব্যবহার
শরীরের অতিরিক্ত ওজন এবং স্তুলতা একটা বড় শারীরিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক এবার কৃত্রিম বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে সমস্যাকে চিহ্নিত করে তা উপশম করার চেষ্টা করছেন।
গুগল ম্যাপের সাহায্যে কোন অঞ্চলে ঠিক কতজন স্তুলতায় ভুগছেন সেটা যেমন চিহ্নিত করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধি ঠিক তেমনভাবেই শারীরিক এবং শহুরে পরিবেশ ছাড়াও আর কোন কারণে এঁদের মধ্যে স্থূলতা দেখা দিচ্ছে তা নির্ণয় করবে।
মজার ব্যাপার হল, শুধুমাত্র সফটওয়ারের মাধ্যমে স্থূল ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হবে।
পদ্ধতিটি কী ভাবে কাজ করে?
শুনতে বেশ সহজ মনে হলেও গবেষকরা জানিয়েছেন যে এমন একটি বুদ্ধিসম্পন্ন পদ্ধতি যা নির্ভুলভাবে কোন অঞ্চলে ঠিক কতজন স্থূলকায় মানুষ আছেন তা বলে দিতে পারে তেমন পদ্ধতি বানানো খুব একটা সহজ ব্যাপারও নয়।
আইএএনএস-এর একটি রিপোর্ট অনুসারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চারটি এলাকা - লস অ্যাঞ্জেলেস, মেম্পিস, সান আন্তোনিও ও সিয়াটলে এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হয়েছে। গুগল ম্যাপ থেকে নেওয়া ওই অঞ্চলগুলির মোটামুটি দেড় লক্ষ খুব ভালো মানের ছবি সফ্টওয়্যারে লোড করা হয়। তারপর সফটওয়ারটি সে সব ছবিগুলোকে খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখে ওখানে বাড়িগুলোর আশপাশে ঠিক কী আছে বা ওখানে কতখানি সবুজ জমি ও সবুজ পথ আছে।
স্থূলতা শুধুমাত্র একটা বংশ পরম্পরাগত সমস্যা নয়
সমস্ত তথ্য একত্রিত করে সেগুলিকে একটি বিশেষ ধরণের শিক্ষার পদ্ধতি - কনভোলিউশনল ডিপ লার্নিং নিউট্রাল নেটওয়ার্ক (convolutional deep learning neural network)-এর মাধ্যমে বিচার-বিশ্লেষণ করে গবেষকদের সামনে অনেকগুলো চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।
সুস্থ দেশ গড়তে কৃত্রিম বুদ্ধির ব্যবহার
উপমাস্বরূপ স্থূলতাকে একটা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জন্মগত সমস্যা এবং খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হত। তবে গবেষণায় দেখা গেল যে পরিবেশ এবং বাসস্থানের কাছাকাছি ঠিক কতটা সবুজ গাছপালা বা পথ রয়েছে তার সঙ্গে সমস্যাটির একটা সরাসরি যোগাযোগ আছে।
গবেষকের দল বলেন, "গবেষণায় দেখা গেছে যে একজন ব্যক্তি যেখানে বসবাস করছেন তার চারপাশে কী রয়েছে যেমন -খেলার মাঠ বা উদ্যান, হাইওয়ে, সবুজ পথ, ক্রসওয়াক (রাস্তা পারাপারের নির্দিষ্ট জায়গা) এবং বিভিন্ন ধাঁচের বাড়ি তার উপরে নির্ভর করে যে সেই অঞ্চলের স্থূল মানুষের সংখ্যাটা ঠিক কতটা হতে পারে।"
সুস্থ দেশ গড়তে কৃত্রিম বুদ্ধির ব্যবহার
মজার ব্যাপার হল, গবেষকরা বলেন যে এই পদ্ধতিটি যদি আরও অনেক বেশি মানুষের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় তাহলে অঞ্চলগুলিকে সুস্থ রাখা সম্ভব হবে এবং স্তুলতা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা আর থাকবে না।
গবেষকরা বলেছেন, "নিজের বাসস্থানের চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে স্তুলতার যে একটা গভীর যোগাযোগ রয়েছে সেটা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারলেই কয়েকটি বদল আনা সম্ভব হবে যেমন কায়িক পরিশ্রম করা এবং যাতে স্থূলতা না হয় সেদিকে নজর দেওয়া।"
লেখাটি ইংরেজিতে পড়ুন

