কলকাতা থেকে রেড আই ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হোক, শহরে এই পরিষেবা জনপ্রিয় হবেই

রাতভোর বিমান যাত্রার পর গন্তব্যে পৌছিয়ে চোখ লাল হতে পারে, তাই বিমানগুলোর পোশাকি নাম রেড আই

 |  2-minute read |   30-10-2018
  • Total Shares

গভীর রাতে আন্তর্দেশীয় বিমান চালাবে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। নভেম্বর ৩০ তারিখ থেকে দিল্লি গোয়া, দিল্লি কোয়েম্বাটোর ও বেঙ্গালুরু আহমেদাবাদ রুটে চালু হচ্ছে এই গভীর রাতের বিমান। যার পোশাকি নাম রেড আই ফ্লাইট। বিমান সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে যে ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি রুটে গভীর রাতে আন্তর্দেশীয় বিমান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

এয়ার ইন্ডিয়া অশ্য স্বচ্ছন্দে এই তালিকায় কলকাতার নামটি রাখতে পারত। কলকাতায় এই ধরণের গভীর রাতের বিমান বা রেড আই ফ্লাইটের সাফল্যের সম্ভাবনা ষোলোআনা। কেন?

রেড আই ফ্লাইট কী?

আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন রেড আই ফ্লাইট মানে কী। যে বিমানগুলো গভীর রাতে চলাচল করে তাদের রেড আই ফ্লাইট বলা হয়। এই ধরণের বিমান মূলত পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে যায়, অর্থাৎ পূর্বমুখী হয়।

এই ধরণের বিমানের সুবিধা হচ্ছে স্থানীয় সময়ের তারতম্যের জন্য অনেকটা এগিয়ে যাওয়া যায়। ধরুন, আপনি কলকাতা থেকে গভীর রাতের আন্তর্জাতিক বিমান ধরে ব্যাঙ্কক যাচ্ছেন। বিমানে যাতায়াতের সময় হয়ত মাত্র আড়াই ঘণ্টা। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে ঘণ্টা দেড়েকের সময় পার্থক্য। তাই আপনি ব্যাঙ্কক পৌঁছাবেন কাক ভোরে।

রাতের বেলার বিমান। তাও আবার আট ঘণ্টার কম সময় লাগে। ঠিক মতো ঘুম হয় না। তাই, স্বভাবতই গন্তব্যে পৌছিয়ে চোখ লাল থাকার সম্ভাবনা প্রবল। আর, প্রবণতার জন্যেই এই বিমানগুলোর পোশাকি নাম রেড আই।

body_103018042224.jpgকলকাতায় সফল হতে বাধ্য রেড আই ফ্লাইট [ছবি: এপি]

সুবিধা

এই রেড আই ফ্লাইটের সুবিধা অনেক। বিশেষ করে তা যদি আন্তর্দেশীয় ক্ষেত্রে হয়।

প্রথমত, এই বিমানগুলোর ভাড়া তুলনামূলক কম। সুতরাং অনেকের (বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের) কাছে এই বিমানের ভাড়া সাধ্যের মধ্যে। দ্বিতীয়ত, যেহেতু রাতের দিকে চলে আর সকালের আগে গন্তব্যে পৌছে যায় তাই যাত্রীরা দুই শহরেরই (যেখান থেকে যাত্রীরা বিমান ধরছেন আর গন্তব্য শহর) যানজট এড়াতে পারেন। অর্থাৎ, হোটেল বা বাড়ি থেকে বিমানবন্দর আবার বিমানবন্দর থেকে বাড়ি বা হোটেল পৌঁছাতে খুব বেশি বেগ পেতে হয় না।

তৃতীয়ত, যেহেতু রাতের বেলা চলে তাই গোটা দিনটাই হাতে পাওয়া যায় এবং সব শেষে এই বিমানে টিকিট কাটা মানে রাতটা বিমানে কাটানো। অর্থাৎ, বিলাসবহুল হোটেলের বিলটা সাশ্রয় হয়।

কলকাতায় কেন সফল হবে?

এয়ার ইন্ডিয়া ও সব ক'টি বেসরকারি বিমান সংস্থার অফিসে খোঁজ নিলে একটা খবর পাওয়া যাবে। এই শহর বিমান টিকিট বিক্রিতে অন্যান্য মেট্রোপলিটন শহরগুলোর সঙ্গে সেয়ানে সেয়ানে লড়ে। কিন্তু কলকাতা থেকে বিমান সংস্থাগুলোর প্রকৃত আয়ের পরিমাণ অত্য়ন্ত কম। এর প্রধান কারণ কম দামি টিকিটগুলো সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় কলকাতা থেকে। রেড আই বিমানের ভাড়া তুলনামূলক ভাবে অনেকটাই কম। সুতরাং কলকাতার মতো শহরে এই বিমানগুলো জনপ্রিয় হবেই।

ইতিমধ্যেই এই শহর থেকে রেড আই বিমান চালু করেছে ভিস্তারা সহ বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা। এর কোনওটারই গড় যাত্রীর সংখ্যা বিমানের মোট আসনের ৮০ শতাংশের চেয়ে কম নয়।

ভারতের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা যদি উপযুক্ত পরিকল্পনা করে চালাতে পারে তাহলে তাদের পরিষেবাও জনপ্রিয় হবে।

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

ARPIT BASU ARPIT BASU @virusfound007

Arpit Basu is the Special Correspondent with the India Today Group’s fact check team. With more than one-and-a-half decade's experience in print and digital media, he has reported on aviation, transport, crime, civic and human interests issues. His sting operation on how precious Aviation Turbine Fuel, meant for Kolkata airport, was pilfered and sold in local market as ‘white kerosene’ received widespread acclaim. Arpit has worked with reputed media houses like The Times of India and Hindustan Times and had received letter of appreciation for reporting during the Phalin cyclone in Odisha in 2013.

Comment