এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য কেন খদ্দের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না

জুন ২০১৭-র তথ্য অনুযায়ী করদাতাদের ৫২,০০০ কোটি টাকা ধ্বংস করেছে ভারতীয় আকাশের 'মহারাজা'

 |  3-minute read |   09-05-2018
  • Total Shares

হন্যে হয়ে এয়ারইন্ডিয়ার জন্য ক্রেতা খুঁজছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু বিমান সংস্থাটির ৭৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরেও কোনও বিমানসংস্থার এয়ার ইন্ডিয়া কিনতে খুব একটা আগ্রহ প্রকাশ করছে না। এতে সরকারের মুখ পুড়েছে। আসলে, বিলগ্নিকরণ অভিযানের যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছিল তার মডেল হিসেবে এয়ারইন্ডিয়ার বিলগ্নিকরণকে তুলে ধরবার পরিকল্পনা ছিল মোদি সরকারের। আপাতত, সেই গুড়ে বালি।

জেট এয়ারওয়েজ ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এয়ারইন্ডিয়া কিনতে আগ্রহী নয়। ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে এর আগে ইন্ডিগো একই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অনেকেই ভেবেছিল টাটা গ্রুপ হয়ত এয়ার ইন্ডিয়া কিনতে চাইবে। কিন্তু এই সংস্থাটিও বিডিং প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ দানা বেঁধেছে। অনেকেই মনে করছেন, এয়ারইন্ডিয়া বিলগ্নিকরণ প্রক্রিয়া সরকারি শর্তগুলো অত্যন্ত কঠোর আর তাই কোনও সংস্থাই এয়ারইন্ডিয়া নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছেন না।

এয়ারইন্ডিয়া কিনে নেওয়ায় তাদের পক্ষে লাভজনক নয়, এই অজুহাতে তিন তিনটে সম্ভাব্য সংস্থা হাত গুটিয়ে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে এয়ারইন্ডিয়া ও তার দুই অধীনস্থ দুটি সংস্থার হাল কিন্তু বেশ খারাপ।

এর মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে আগ্রহপত্র জমা দেওয়া সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ মে করা হয়েছে।

কিন্তু বিলগ্নিকরণ প্রক্রিয়া যত বিলম্বিত হবে ততই এয়ারইন্ডিয়ার ক্ষতি বাড়বে। বছরে গড়ে ৫,০০০ কোটি টাকা লোকসানে চলছে জাতীয় বিমান সংস্থাটি, যা রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০১৭ সালের জুন মাসের তথ্য অনুযায়ী ভারতীয় আকাশের 'মহারাজা' বলে চিহ্নিত এয়ার ইন্ডিয়া করদাতাদের ৫২,০০০ কোটি টাকা ধ্বংস করে ফেলেছে। আর, তাই সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

air-india-copy_05081_050918012849.jpgএয়ার ইন্ডিয়া কিনলেও কর্মী ছাটাই করা যাবে না

সরকার এয়ার ইন্ডিয়ার বিলগ্নিকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু সরকারি শর্তগুলো ক্রেতাদের পক্ষে যথেষ্ট কঠোর। শর্তে বলা হয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া কেনার বরাত যে সংস্থাকে দেওয়া হবে সেই সংস্থা, যতদিন এয়ার ইন্ডিয়ার উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, ততদিন তাদের অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গে এয়ার ইন্ডিয়াকে সরাসরি যুক্ত করতে পারবে না।

এই প্রক্রিয়া কর্মচারীদের স্বার্থ বিষয়ক কয়েকটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই শর্তে বলা হয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া বিলগ্নিকরণের বরাত যে সংস্থা পাবে সেই সংস্থা কোনও ভাবেই কর্মী ছাঁটাই করতে পারবে না। মূলত এই শর্তটির জন্যই কোনও সংস্থাই বিডিং প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে করতে চাইছে না।

অতীতে এয়ার ইন্ডিয়ার কর্মীরা যে ইউনিয়নের মাধ্যমে সংস্থাটির পরিচালকবর্গকে একাধিকবার বিভিন্ন ধরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছেন তা সকলেই জানে। সব জেনেশুনেও একটি বেসরকারি সংস্থা খামোখা ঝুঁকি নিতে যাবে কেন? এই মুহূর্তে এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য আরও খারাপ খবর অপেক্ষা করে রয়েছে। বিশেষজ্ঞ বিমান পরামর্শদাতা সংস্থা কাপা ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিলগ্নিকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে এয়ার ইন্ডিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

পরামর্শদাতা সংস্থাটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে সরকার যদি শর্ত পরিবর্তন না করে তাহলে এই বিলগ্নিকরণ প্রক্রিয়া সফল হবে না। এয়ারলাইনের ৭৬ শতাংশ কিনে নেওয়া মানে বেশ কয়েক বছর ধরে মোটা অঙ্কের লোকসান বহন করতে হবে নতুন মালিককে এবং এর থেকে বেরিয়ে আসার উপায়ও দ্রুত বের করতে হবে। এছাড়া এয়ার ইন্ডিয়া কিনতে যাওয়া মানেই বিভিন্ন ধরণের রাজনৈতিক ঝক্কির সম্মুখীন হওয়া। তাই অনেকেই বিলগ্নিকরণ প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে নারাজ।

মোদী সরকারের দৌড় এবার শেষের দিকে। আগামী বছরের মে মাসের মধ্যেই আবার লোকসভা নির্বাচন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করলে মোদী সরকার যে আবার ক্ষমতা দখল করবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এহেন অবস্থায় একটি বিমান সংস্থা কেন এয়ারইন্ডিয়া কিনে নেওয়ার অহেতুক ঝুঁকি নিতে উদ্যত হবে?

এয়ার ইন্ডিয়া ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ আর্থিক বর্ষে ৯,৭৫০ থেকে ১৩,০০০ কোটি টাকা মতো লোকসান করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই অবস্থায় বিলগ্নিকরণই একমাত্র উপায়, কিন্তু সময়টা যে সঠিক নয়।

(সৌজন্যে: মেল টুডে)

লেখাটি পড়ুন ইংরেজিতে

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

MG ARUN MG ARUN @mgarun1

The writer is Deputy Editor, India Today.

Comment