অটো চালকদের বিরুদ্ধে যাত্রী বিক্ষোভ: উল্টোডাঙায় পথ অবরোধে বিরোধীদের হাত?
অটো চালকদের বয়কট করে যাত্রীদের উচিত সরকারি পরিষেবার সুযোগ নেওয়া
- Total Shares
গত তিন মাসে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার। গত মঙ্গলবার অটো চালকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে উল্টোডাঙার মতো ব্যস্ত মোড় অবরোধ করলেন যাত্রীরা। ব্যস্ত সময় উল্টোডাঙ্গা মোড় অবরোধের ফলে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
অটো চালকদের হাতে যাত্রী হেনস্থার খবর এই শহরে নতুন নয়। সাধারণত, বচসার মধ্যে দিয়ে শেষ হয় যায় এই ঘটনাগুলো। বেশ কিছু ক্ষেত্রে পুলিশকে তলব বা পুলিশে মামলাও করা হয়েছে। কিন্তু যাত্রীরা একজোট হয়ে প্রতিবাদে নেমে পথ অবরোধ করছে এমন দৃশ্য কিন্তু সচারচর দেখা যায় না। উল্টোডাঙায় তো এই ঘটনা আবার তিনমাসের মধ্যে দু-দু'বার ঘটল।
যাত্রীদের ক্ষোভ কেন
উল্টোডাঙ্গা থেকে সেক্টর ফাইভ-সহ আর যে সমস্ত রুট রয়েছে সেই রুটগুলিতে অটোরিকশার সংখ্যা নেহাত কম নয়। কিন্তু যাত্রীদের দাবি, নিত্যদিনই অটো স্ট্যান্ডে মাত্র হাতেগোনা কয়কেটি অটো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বাকি অটোগুলো নিজেদের ইচ্ছে মতো যেখান সেখান থেকে যাত্রী তোলে। তার চেয়েও ভয়ঙ্কর, খেয়াল খুশি মতো ভাড়া চাওয়া। উল্টোডাঙা থেকে সেক্টর ফাইভ যাওয়ার ভাড়া যেখানে মাত্র ১৫ টাকা, যাত্রীদের দাবি অটো চালকরা সেই দূরত্বের জন্য ১০০ টাকা করে ভাড়া হাঁকেন। বাসের সংখ্যা পর্যাপ্ত না থাকায় বাসে বাদুড় ঝোলা ভিড় হয়। আর তাই যাত্রীদের একাংশ ১০০ টাকা ভাড়া দিয়েই অটো চাপতে রাজি হয়ে যান।

সরকারি ব্যবস্থা
কিছুদিন আগেই সরকারের তরফ থেকে এই সমস্যা সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের তরফ থেকে উল্টোডাঙা থেকে যে যে রুটে অটো পরিষেবা আছে সে রুটগুলোতে সরকারি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যস্ত সময় ১৫ থেকে ২০ মিনিট অন্তর এক একটি রুটের বাস পাওয়া যাবে। দুপুরের দিকে অবশ্য তিরিশ মিনিট থেকে ৪৫ মিনিট অন্তর পাওয়া যাবে এই পরিষেবা। কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তুলে উল্টোডাঙা মোড় থেকে সামান্য দূরে তৈরি করা হয়েছে বাস বে। সরকারের তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে চাহিদা বাড়লে পরিষেবা বাড়ানোও হতে পারে।
এর পরেও ক্ষোভ কেন?
সচরাচর যাত্রীদের এ ভাবে একজোট হয়ে প্রতিবাদ করতে খুব একটা দেখা যায় না। সাধারণত, পথ অবরোধের মতো কর্মসূচি কোনও রাজনৈতিক দল বা সংগঠন ছাড়া খুব একটা চোখে পড়ে না। সে ক্ষত্রে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে যে এই যাত্রী বিক্ষোভের পিছনে কি কোনও রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের মদত রয়েছে? পুলিশের একাংশ দাবি করছে, আছে। মঙ্গলবার বিক্ষোভের সময় বেশ কয়েকজন স্থানীয় লোককে বিক্ষোভ চলাকালীন ঘটনাস্থলে বিক্ষোভকারীদের মাঝে দেখা গিয়েছে। এরা এলাকায় বিরোধী একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে রাজনীতি করেন।
পুলিশের কিছু আধিকারিক দাবি করেছেন যে তাঁরা যাত্রীদের বুঝিয়ে নতুন তৈরি বাস বেতে গিয়ে বাসে ওঠার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বেশ কয়েকটি বাস তখন দাঁড়িয়েও ছিল। কিন্তু যাত্রীদের একাংশ তাঁদের দাবি না মেনে নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল।
এই সমস্যার উপায় একটাই। অটো চালকদের বয়কট করা। সেই পথ অনুসরণ করার জন্য বাস পরিষেবা চালু করে যাত্রীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে পরিবহণ দপ্তর। যাত্রীদের উচিত, এই লড়াই জিততে হলে, সরকারি পরিষেবা পুরদস্তুর কাজে লাগানো।

