প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসনীয় উদ্যোগ: বিমানের মত গাড়িতেও বিকল্প চালক

২৩ জুন একদিনে ১২ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৯ জনের মৃত্যু হয়

 |  4-minute read |   27-06-2018
  • Total Shares

বিমানের মত বাংলাদেশের দূরপাল্লার গাড়িতেও বিকল্প চালক রাখার সিস্টেম করতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দূরপাল্লায় চালকদের যাতে একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে না হয় সেজন্য এব্যবস্থার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা যে জনমনে স্বস্তি এসেছে তা গত ২দিনে লক্ষ্য করা গেছে বিভিন্ন আলোচনায়।

সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেন সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর হতে।

প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, সড়কের পাশে বিশ্রামাগার তৈরি, সিগন্যাল মেনে চলা, অনিয়মতান্ত্রিক রাস্তা পারাপার বন্ধ,সিট বেল্ট বাঁধা এবং চালক ও তার সহকারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার।

ঈদের ছুটি শেষে ফিরতিযাত্রার গত ২৩ জুন একদিনে ১২ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। আরপরের দিন গাইবান্ধা থেকে ট্রাকে করে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে সোমবার সকালে টাঙ্গাইলে দুর্ঘটনায় পড়ে প্রাণ গেছে আরও ছয়জনের।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মাঝে মধ্যে বসে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষণ করতে নির্দেশও দেন।

body_062718124228.jpgঅল্প দক্ষ বা অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানোই সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ

২০১১ সালে মানিকগঞ্জে একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে সংবাদ মাধ্যম এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনীর ও চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনা পুরো বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দেয়।

এর পর সড়ক দুর্ঘটনা ঠেকাতে এ সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করা দাবি উঠে। তবে আইনটি এখনও পাস হয়নি, ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে আছে, দ্রুততার সাথে নিষ্পত্তির কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অল্প দক্ষ বা অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানোই সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। বেপরোয়া গাড়ি চালাতে গিয়ে যাতে জীবনহানি না হয়, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

২০১৭ সালেই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭৩৯৭

বাংলাদেশে ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ৩৯৭ জন। আর আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ১৯৩ জন। এ তথ্য বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে ৪ হাজার ৩১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৫৫ জন নিহত ও ১৫ হাজার ৯১৪ জন আহত হয়েছিল। বিগত বছরের তুলনায় ২০১৭ সালে দুর্ঘটনা বেড়েছে ১৫.৫ শতাংশ। নিহত ২২.২ শতাংশ এবং আহত ১.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানান সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

body1_062718124304.jpgবাংলাদেশে ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ৩৯৭ জন। আর আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ১৯৩ জন।

এতে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছোট বড় ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এতে সর্বমোট ২৩ হাজার ৫৯০ জন যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিক সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ৩৯৭ জন, আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ১৯৩ জন। এর মধ্যে হাত-পা বা অন্য কোনো অঙ্গ হারিয়ে পঙ্গু হয়েছেন ১ হাজার ৭২২ জন। দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জিডিপির প্রায় দেড় থেকে দুই শতাংশ।

১ হাজার ২৪৯টি বাস, ১ হাজার ৬৩৫টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ২৭৬টি হিউম্যান হলার, ২৬২টি কার, জিপ, মাইক্রোবাস,১ হাজার ৭৪টি অটোরিকশা, ১ হাজার ৪৭৫টি মোটরসাইকেল, ৩২২টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৮২৪টি নছিমন করিমন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

সড়কে আর দূর্ঘটনা নয়!

সড়কে যাতে আর না ঝড়ে কোনো প্রাণ সেজন্যই মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর হয়েছেন দূর্ঘটনা প্রতিরোধে।দূরপাল্লার গাড়িতেও বিকল্প চালক রাখার সিস্টেম করতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দূরপাল্লায় চালকদের যাতে একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে না হয় সেজন্য এব্যবস্থার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা সমর্থন এসেছে সর্ব মহল থেকেই। সড়ক বিষেশজ্ঞরা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন হলে সড়ক দূর্ঘটনা কমে আসবে। বাঁচবে হাজারো প্রাণ।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরো কিছু পরামর্শ দিয়েছেন সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিরোধে।

body2_062718124514.jpgদূরপাল্লায় চালকদের একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে না দেওয়ার জন্যে এই নতুন নির্দেশিকা

তিনি বলেন, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বেড়ে যায় কর্মজীবী মানুষের ব্যস্ততা। আর এই ব্যস্ততা যেমন বেড়ে যায়, তেমনি বেড়ে যায় গাড়ি, জ্যাম আর সড়ক দুর্ঘটনা। এই দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে আমাদের মাথা ঠাণ্ডা রেখে চালাতে হয় গাড়ি। কারণ আপনার সচেতনতাই রক্ষা করতে পারে হাজারো মানুষের জীবন।

মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেছেন, অনেকে মানছে না ট্রাফিক আইন। হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণ হারাচ্ছেন চালক ও আরোহী। তাই একটুখানি সচেতনতাই পারে আপনাকে দুর্ঘটনা এবং আইনি ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখতে।অনেকে আবার ফাঁকা রাস্তা পেয়ে বেপরোয়া গাড়ি চালাতে চেষ্টা করেন। যার ফল হয় ভয়াবহ। প্রাণহানি ঠেকাতে সাবধানে গাড়ি চালাতে হবে। মনে রাখবেন একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশানা

>> গাড়ির চালক ও তার সহকারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

>> লং ড্রাইভের সময় বিকল্প চালক রাখা, যাতে পাঁচ ঘণ্টার বেশি কোনো চালককে একটানা দূরপাল্লায় গাড়ি চালাতে না হয়।

>> নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর সড়কের পাশে সার্ভিস সেন্টার বা বিশ্রামাগার তৈরি।

>> অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাস্তা পারাপার বন্ধ করা।

>> সড়কে যাতে সবাই সিগন্যাল মেনে চলে- তা নিশ্চিত করা। পথচারী পারাপারে জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার নিশ্চিত করা।

>> চালক ও যাত্রীদের সিটবেল্ট বাধার বিষয়টি নিশ্চিত করা।

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

SAHIDUL HASAN KHOKON SAHIDUL HASAN KHOKON @hasankhokonsahi

Bangladesh Correspondent, TV Today.

Comment