মানুষের জন্য পরিষেবা তবে দাবি মেটানোর 'ধর্মঘটে' নাকাল হচ্ছে মানুষই

ব্যাঙ্ককর্মীদের মতে কয়েকদিন আগে আইনজীবীদের কর্মবিরতির ফলে বিচারপ্রার্থীদেরও ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়

 |  2-minute read |   07-07-2018
  • Total Shares

সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ও সরকারি ব্যাঙ্ক কর্মীদের ডাকা ধর্মঘটকে বেআইনি বলে ঘোষণা করার আবেদন নিয়ে গত ২ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী অক্ষয়কুমার ষড়ঙ্গী যে জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেন তার প্রথম শুনানি ছিল ৬ই জুলাই। পরের শুনানীতি হবে ১৩ জুলাই।

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন বলেন যে যেহেতু জনস্বার্থ মামলাটির সঙ্গে ব্যাঙ্ক কর্মী ও ব্যাঙ্ক এসোসিয়েশনগুলোর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে তাই আবেদন পত্রে তাদেঁর নামও যোগ করতে হবে। উত্তরে মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী শ্রীকান্ত দত্ত জানান যে, "সারা দেশজুড়ে বহু ব্যাঙ্ক এসোসিয়েশন রয়েছে তাই আমরা আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম যে কোনও একটি এসোসিয়েশনকে যোগ করতে অনুমতি দেওয়া হোক যাঁরা বাকিদের হয় প্রতিনিধিত্ব করবেন। আদালত আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।" যদিও সরকারি পক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল কৌশিক ছন্দ বলেন যেহেতু ব্যাঙ্ককর্মী ও ব্যাঙ্ক এসোসিয়েশনগুলি ট্রেড ইউনিয়ানের আওতার মধ্যেই পড়ে তাই তাঁদের ধর্মঘট করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকটি অধিকারের যে কয়েকটি ব্যতিক্রম রয়েছে সে কথা পাল্টা বলেন আইনজীবী শ্রীকান্ত দত্ত।

body1_070718081701.jpg

অন্যদিকে ব্যাঙ্ক কর্মীদের দাবি যে তাঁরা এ কথা মানেন যে ব্যাঙ্ক শিল্প অত্যাবশ্যক পরিষেবার আওতায় পড়ে বলে ধর্মঘট হলে সাধারণ মানুষকে নাকাল হতে হয়। তবে আজ দীর্ঘদিন ধরে দফায় দফায় তাঁদের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার কথা তাঁরা বলে আসছেন কিন্তু কোনও কাজের কাজই হয়নি এখনও।

তাঁদের মতে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন (Indian Banks' Association)-কে বহুবার ব্যাঙ্ককর্মীদের দাবি জানানো সত্ত্বেও সে কথায় বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করা হয়নি। ১৯৬৬ সালে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা  (Bipartite Wage Settlement) প্রথম চালু হয়েছিল। প্রতি পাঁচবছর অন্তর আইবিএ ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার  মাধ্যমে বেতন বৃদ্ধি হয়। কিন্তু কোনও বার ঠিক পাঁচবছরের মাথায় তাঁদের বেতন বৃদ্ধি হয় না বরং নিয়মমাফিক বেতন বৃদ্ধির জন্য তাঁদের আন্দোলন করতে হয়েছে। তাই এমনই একটি ব্যাঙ্ককর্মীদের ইউনিয়ানের আহ্বায়ক সিদ্বার্থ খান জানান, “এ বারেই যেমন নয় নয় করে প্রায় ছ’বছর হতে চলল এখনও ব্যাঙ্ককর্মীদের বেতন বৃদ্ধি হয়নি। তাই বাধ্য হয় আমাদের ধর্মঘট ও আন্দোলনের পথই বেছে নিতে হয়।”

body2_070718081725.jpg

আমরা যখন স্ট্রাইক করি যখন নিয়মমাফির আইবিএ-কে মোটামুটি ১৫ থেকে ২২ দিন আগেই চিঠি দিয়ে পুরো বিষয়টি জানিয়ে রাখি পাশাপাশি চিঠির আর একটি কপি কেন্দ্রীয় শ্রম দফতরেও পাঠানো হয়ে থাকে। তাই মনে করলেই তাঁরা আলোচনার মাধ্যমে মধ্যস্ততা করে এই ধর্মঘটটিকে রাখা যায়। যদিও সিদ্ধার্থ খান বলেন যে ধর্মঘটকে তাঁরা শেষ অস্ত্র হিসেবেই ব্যবহার করতে চান কারণ আমরা প্রথমে আলোচনার মধ্যে দিয়েই আমাদের দীর্ঘদিনের দাবিদাবাগুলো মানবার চেষ্টা চালাই।

body3_070718081740.jpg

নোটবন্ধীর সময় কেন্দ্র সরকার আমাদের দেশে অর্থের লেনদেন ও ব্যাঙ্কিং পরিষেবাকে ডিজিটাল করার করা বলেছিলেন পাশাপাশি সমস্থ মানুষকে অর্থ লেনদেনের জন্য কার্ড দেবে সেই প্রতিশ্রুতিও করেছিল যার প্রায় কোনওটাই পূরণ করতে পারেনি।

body6_070718081713.jpg

ব্যাঙ্ককর্মীদের একাংশ বলেছেন যে আজ যেই আইনজীবী জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন আজ থেকে বেশি কিছুদিন আগে কলকাতা হাইকোর্ট বার এসোসিয়েশন যে কর্মবিরতি চালিয়েছিলেন তখন কি সাধারণ মানুষ ও বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েনি? বিচারের জন্য তখন উচ্চ আদালতে যেতে না পেরে বিভিন্ন ভাবে বিপর্যস্ত হয়েছিলেন।

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

Comment