শরীরকে সম্পৃক্ত রাখতে বাটারমিল্ক খান
বাটারমিল্কে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং জল থাকে
- Total Shares
বাটারমিল্ক বা যাকে হিন্দিতে ছাঁচ বলে সেটা আমার অতি পছন্দের একটা দুগ্ধজাত খাবার। বাটারমিল্ক আমি যেমন খেতে খুব ভালোবাসি ঠিক তেমন আমার কাছে যাঁরা পরামর্শ নিতে আসেন তাঁদেরকেও বাটারমিল্ক প্রচুর পরিমাণে বাটারমিল্ক খেতে বলি। অতিজনপ্রিয় লস্যির মশলাদার সংস্করণের নাম হল বাটারমিল্ক বা ছাঁচ।
বাটারমিল্ক শরীরকে সম্পৃক্ত রাখে।
বাটারমিল্কে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়ামের মতো ইলেক্ট্রোলাইট এবং জল থাকে। তাই ছাঁচ খেলে শরীরে জলের অভাব হয় না।
শরীরকে সম্পৃক্ত রাখতে বাটারমিল্ক খান
আপনি যদি মনে করেন যে অস্তি শক্ত করতে শরীরকে কিছুটা ক্যালসিয়াম দেবেন তাহলে অবশই ছাঁচ পান করুন। দই থেকে তৈরি ছাঁচে রয়েছে ক্যালসিয়াম। এমনকি যাঁদের দুগ্ধজাত খাবা খেলে সহ্য হয় না তাঁরাও ছাঁচ খেতে পারেন, এটা আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। প্রত্যেকদিন এক কাপ দই দিয়ে বানানো দু'গ্লাস ছাঁচ খেলে শরীরে অএঙ্কটা ক্যালসিয়াম যায়। তাই আপনার যদি লাক্টোজে সমস্যা হয় তাহলে প্রত্যেকদিন ছাঁচ খেলে যে শরীরের যে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন পড়ে সেটা পূর্ণ হয়।
ভিটামিনে ভরপুর
বাটারমিল্ক বা ছাঁচে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, এ ও ই। এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন বি১২। যাঁরা নিরামিষাশী তাঁদের শরীরে ভিটামিন বি১২-এর অভাব দেখা দেয়।
পিটার পক্ষে বাটারমিল্ক খুব উপকারী। বাটারমিল্ক খুব হালকা বলে হজম হতেও কোনও অসুবিধা হয় না। বাটারমিল্ক গ্যাস অম্বল দূর করে এবং পেট ঠান্ডা রাখে। এছাড়া খুব ঝাল-মসলা দেওয়া খাবার খেলে যে গ্যাস-অম্বল হয়ে পেট জ্বালা ভাব হয় তাই বাটারমিল্ক খেলে কিছুটা উপশম হয়।
বাটারমিল্কের সঙ্গে কিছুটা আদা, গোলমরিচ এবং জিরে মিশিয়ে খেলে তা খাবার হজম হতে সাহায্য করে।
এটা পেট পরিষ্কার রাখে, কারণ বাটারমিল্ক খেলে পেটের বিভিন্ন পরতে জমে থাকা স্নেহপদার্থ বা তেল, ঘি অথবা মাখন বেরিয়ে যায়। এইসব পেটে জমে থাকলে খাদ্যনালী ও পেটের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। বাটারমিল্কে রিবোফ্লাভিন থাকে বলে যকৃৎ সুস্থ থাকে এবং পেটের ভেতরটাও পরিষ্কার থাকে।
বাটারমিল্ক থেকে তৈরি সাতটি পদ
ছাঁচ বানানো খুব সোজা, একটা শিশুও ছাঁচ বানাতে পারবে। কিছুটা গোলমরিচ,কারিপাতা,ধনেপাতা এবং কিছুটা আদাকুচি শিলনোড়ায়ে থেঁতো করেনিন। এবার কিছুটা দই নিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন এবং তাতে কিছুটা জল মিশিয়ে নিন। এবার অল্প নুন ও আগে থেকে বানিয়ে রাখা মশলাটা মিশিয়ে নিন। এবার মিশ্রণকে ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে খান।
বাটারমিল্কে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং জল থাকে
একটু অন্যভাবে ছাঁচ খান। ছাঁচের সঙ্গে বিটরুট মিশিয়ে খান। একটা বিটরুট সেদ্ধ করে সেটা মিক্সিতে দিয়ে পিষে নিন। এবার আধ কাপ দই ফেটিয়ে তাতে দু'কাপ জল মিশিয়ে ছাঁচ তৈরি করে নিন। এবার ছাঁচে সঙ্গে বিটরুটের মিশ্রণটিকে মিশিয়ে নিন। অর্ধেক চা চামচ তেলে কিছুটা শর্ষে, কয়েকটি কাড়িপাতা, কিছুটা আদাবাটা, একটা কুচোনো লঙ্কা এবং বিটের ছাঁচটা মিশিয়ে দিন। ঠান্ডা করে খান।
এটা দিয়ে একটা পদ বানিয়ে খান। হাল বাই কর্নাটকের একটি জনপ্রিয় প্রাতরাশে পদ, যা বাটারমিল্ক দিয়ে বানানো হয়। এই পদটি বানিয়ে খান। হাফ কাপের মতো কোরান নারকেলের সঙ্গে খানিকটা আগে থেকে ভিজিয়ে রাখা চাল যোগ করুন। দুটিকে একসঙ্গে গুঁড়ো করেনিন। এবার এতে এক কাপ বাটারমিল্ক যোগ করুন সঙ্গে মেশান এক চিমটে হিং, কয়েকটি কারিপাতা, কুচোনো কাঁচা লঙ্কা, খানিকটা আদাবাটা এবং পরিমাণ মতো নুন। এবার কড়াইতে এক চা চামচ তেল দিয়ে মিশ্রণটি ঘন হওয়া পর্যন্ত নেড়ে নিন।
কিছুটা মাখন বা ঘি দিয়ে উন্নয়ন থেকে নামিয়ে রাখুন। এবার একটা থালায় কিছুটা তেল মাখিয়ে নিন এবং তার উপর মিশ্রণটিকে আগাগোড়া ছড়িয়ে ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হলে চৌকোনা করে টুকরো টুকরো করে কেটে নিয়ে খান। কিন্তু গুজরাটিদের অতি প্রিয় খাবার হান্দাভ বানিয়ে খেতে পারেন। বিভিন্ন ধরণের ডাল, চাল ও ব্যাটামিলক দিয়ে এই অত্যন্ত পুষ্টিকর পদটি বানানো হয়। এছাড়াও একটু অন্যরকম ভাবে বাটারমিল্ক দিয়ে মেই সম্বর বানানো হয়।
প্রাতরাশে বাটারমিল্ক দিয়ে একটি শরবত বানিয়ে খান। খানিকটা বাটারমিল্কের সঙ্গে কয়েক টুকরো স্ট্রবেরি, কলা ও কিছুটা ম্যাপেলের রস মিশিয়ে টক-মিষ্টি স্বাদের একটা শরবত বানিয়ে নিন। এক গ্লাস শরবত দিয়ে দিন শুরু করতে বেশ ভালোই লাগবে।
স্যালাডের সঙ্গে কিছুটা বাটারমিল্ক মিশিয়ে দেখুন। একটি বাটিতে কিছুটা বাটারমিল্কের সঙ্গে খানিকটা অলিভ অয়েল সঙ্গে স্বাদানুসার নুন ও কলমরিচ দিয়ে মিশিয়ে নিন। যেখানও শাকসবজির সঙ্গে এটা খুব ভালো কেহেত লাগে।
কিছুটা আলু সেদ্ধ করা মেখে নিন এবার তাতে খানিকটা বাটারমিল্ক মেশান।গ্রিল করা চিকেন বা মাছের সঙ্গে একটা খুব ভালো যায়। আলু সিদ্ধর সঙ্গে বাটারমিল্ক মেশালে সেটা বেশ ঘনত্ব পায়।
বাটারমিল্ক দিয়ে একটি সুপ বানিয়ে খান। বাটারমিল্ক দিয়ে একটি ঠান্ডা সুপ বানাতে হলে আপনার লাগবে কিছুটা রসুন কুচি, কুচোনো টমেটো ও কিছুটা কুচোনো পেঁয়াজ। এবার এসব কিছু বাটারমিল্কের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার তাতে সামান্য কালোমরিচ এবং স্বাদানুসার নুন যোগ করুন। সুপার বাটিতে ঢেলে নিন ও ওপর দিয়ে বেসিল পাতা ছড়িয়ে দিন। আর যদি গরম গরম খেতে চান তাহলে বাটারমিল্কের সঙ্গে কিছুটা সিদ্ধ করা পালংশাক একসঙ্গে পিষে নিন। কিছুটা জিরে যোগ করুন এবং সঙ্গে আরও কিছুটা বাটারমিল্ক যোগ করুন সঙ্গে একটু নুন দিয়ে একফুট দিয়ে নামিয়ে নিন।
লেখাটি ইংরেজিতে পড়ুন

