বেকারদের কর্মসংস্থান প্রয়োজনীয়, তাই বলে অন্যের জীবনের ঝুঁকির বিনিময় নয়
আদালতের নির্দেশে তিন মাসের মধ্যে সমস্ত ই-রিক্সাকে নথিভুক্ত করতে হবে
- Total Shares
টোটো বা ই-রিক্সা সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ একটি কড়া নির্দেশ জারি করেছে। প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যেন আগামী তিন মাসের মধ্যে সারা রাজ্যে সব ই-রিকশাকে তিন মাসের মধ্যে ‘রেজিস্ট্রেশন’ বা নথিভুক্ত করতে হবে। নিঃসন্দেহে এই নির্দেশ যথেষ্ট যুক্তিপূর্ন।
বর্তমানে এ রাজ্যে যে টোটো বা ই-রিক্সা চলে তার অধিকাংশেরই রেজিস্ট্রেশন নেই। এই রাজ্যের অটোরিকশাগুলোর ক্ষেত্রে বৈধ কাগজপত্র না থাকার সমস্যা বহু দিনের। কিন্তু এই সমস্যা তার চাইতেও সাংঘাতিক। কারণ রেজিস্ট্রেশন না থাকার ফলে কোনও দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মামলা রুজু করা তো দুরস্ত, অনেক ক্ষেত্রে মালিক বা চালককে সনাক্ত করা যায় না। একই সঙ্গে টোটো বা ই-রিক্সার ধাক্কা মারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারবর্গ কোনও রকম ক্ষতিপূরণ পান না।

আপাতত তার একটা উপায় বাতলে দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফ থেকে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পরিবহণ আইন এবং রাজ্যের নির্দেশিকা মেনে এই তিন মাসের মধ্যে কোনও ই-রিকশা দুর্ঘটনায় পড়লে পরিবহণ আইন মেনে যাত্রীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। রাজ্য সরকারের পরিবহণ দপ্তর সেই ক্ষতিপূরণ দেবে। তবে সরকার যদি মনে করে, তাহলে ভবিষ্যতে সেই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক মালিকদের কাছ থেকে আদায় করতে পারে।
আদালতের এই নির্দেশ নতুন নয়। তিন বছর আগে এই একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তিন বছর আগের নির্দেশিকা তৈরি করেও এত দিন তা রূপায়ণ করা হয়নি কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন প্রধান বিচারপতি।

আসল সমস্যা হচ্ছে সরকার চেয়েছিল যে এলাকার বেকার যুবকদের জন্যে রুজিরোজগারের ব্যবস্থা করে দিতে এই ই-রিক্সার প্রচলন করা হোক। তাই রাজ্যজুড়ে অধিকাংশ ই-রিক্সা নামান হয়েছিল পুরসভাগুলোর মাধ্যমে। যেখানে রাজ্যের পরিবহণ দপ্তরের কোনও ভূমিকা ছিল না। রাজ্য সরকার চেয়েছিল একে বারে কম খরচে বেকার যুবকরা যেন ই রিক্সা পথে নামাতে পারে। তাই নথিভুক্ত বা রেজিস্ট্রেশন নম্বরে ঝক্কি রাখা হয়নি।
তবে পরিবহণ আইন অনুযায়ী যে সকল গাড়ির গিয়ার আছে তাদের ক্ষেত্রে নথিভুক্ত, বীমা ও চালকদের ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। কিন্তু কোনও এক অজানা কারণে সেই আইন সেই সময় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল।
বেকারদের কর্মসংস্থান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই বলে অন্যের জীবনের ঝুঁকির বিনিময় নয়।

