রেস্তোরাঁয় পচা ও ভাগাড়ের মাংসের বিরুদ্ধে অভিযানে লাভ হল শুধু শকুনের
ভাগাড়ের মাংস শুধু এ রাজ্য বা পাশের রাজ্যে নয়, গিয়েছে নেপাল-ভুটানেও
- Total Shares
ভাগাড়ের মাংস যাঁরা খেয়েছেন (অজ্ঞাতে), তাঁরা কেউই বিচলিত নন, বরং এ সব নিয়ে কৌতুক ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভাগাড়ের কুকুর-বিড়াল মানুষ খেয়ে ফেলার জন্যই নাকি শকুন এখন বিপন্ন। আরেকটা পোস্ট তো অবাক করে দেওয়ার মতো।
কেভিন পিটারের কালজয়ী ছবির সঙ্গে তুলনা করে বলা হয়েছে, আগে শকুন অপেক্ষা করত কখন মানুষ মরবে, এখন মানুষ অপেক্ষা করে থাকে কখন শকুন মরবে। শকুন মরলে তা দিয়েই নাকি এখন তন্দুর-চিকেন হচ্ছে। পাড়ার নেড়িকুকুর নাকি গান ধরেছে, এবার মলে মাটন হব... এমন কত কি!
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন পঞ্চায়েত ভোট মেটার দশ-বারো দিনের মধ্যেই ভাগাড়ের মাংসের জাল গুটিয়ে ফেলবে পুলিশ-প্রশাসন
তবে রঙ্গরসিকতার মধ্যেই খবর আসছে, ধরা পড়েছে এক চাঁই। কোটি কোটি টাকার ব্যবসার সন্ধানও পাওয়া যাচ্ছে ভাগাড়ের মাংস ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। ধাপার কাছে একটি হাড় কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলেও সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচারিত হয়েছে। কারা আবার বলছে, রাজ্যের মানুষকে নিরামিষাসী বানাতেই কেউ চক্রান্ত্র করছে।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, পঞ্চায়েত ভোট মেটার দশ-বারো দিনের মধ্যেই ভাগাড়ের মাংসের জাল গুটিয়ে ফেলবে পুলিশ-প্রশাসন। তবে এ ব্যাপারে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীকেও চিঠি দিচ্ছেন। ভাগাড়ের মাংস শুধু এ রাজ্যে নয়, পাশের রাজ্যে নয়, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে নেপাল-ভুটানেও গিয়েছে বলে আশঙ্কা।
ভাগাড়ের মাংসের কথা জানাজানি হতেই বিড়াল-বাহিত রোগও ধরা পড়তে শুরু করে কলকাতায়
ভাগাড়ের মাংসের কথা জানাজানি হতেই বিড়াল-বাহিত রোগও ধরা পড়তে শুরু করে কলকাতায়, যদিও তা নিয়ে এখন একেবারেই হইচই শোনা যাচ্ছে না, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক ছবি ছড়িয়ে পড়ছে, তার কতটা সত্যি আর কতটা সাজানো, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
কলকাতা পুর এলাকা ছাড়াও অন্য বেশ কয়েকটি পুর এলাকার হোটেল-রেস্তরাঁয় স্থানীয় পুর আধিকারিকরা অভিযান করে পচা মাংস উদ্ধার করেছেন। এই তালিকায় এখনও পর্যন্ত সর্বশেষ সংযোজন হল নাগেরবাজারের একটি নামী দোকান।
ভাগাড়ের মাংস বিক্রিতে একের পর এক অভিযুক্ত ধরা পড়েছে, টন টন মাংস উদ্ধার হয়েছে ঠান্ডাঘর থেকে, কিন্তু তার এতদিন পরেও বিভিন্ন হোটেল-রেস্তরাঁ থেকে পচা মাংস উদ্ধার হওয়ার অর্থ, এখনও এই চক্রের বহু লোকই পুলিশের জালের বাইরে রয়েছে।
পুরো ঘটনায় লাভ যদি কারও হয়ে থাকে, তা হল শকুনের
পচা মাংস পাচারের জন্য কি শুধুমাত্র দায়ী পাচারকারীরা? যাঁরা সেই অতি শস্তাদরে সেই মাংস কিনেছেন তাঁদের কখনও কিছু মনে হয়নি? পাইকারি দরে কিনলে কতটা শস্তা হতে পারে সেই ভাবনাই বা তাঁদের মনে আসেনি কেন? কোনও হ্যাচারি ও স্লটারহাউসে খোঁজ নিলেই তো তাঁরা জানতে পারতেন কতটা শস্তায় মাংস পাওয়া সম্ভব। আর যদি বাজারদরেই তাঁরা সেই মাংস কিনে থাকেন, তা হলেই বা কী দেখে তাঁরা সেই মাংস নেওয়া শুরু করলেন?
আশা করা যায়, ভাগাড় থেকে এখন আর পশু লোপাট হচ্ছে না। পুরো ঘটনায় লাভ যদি কারও হয়ে থাকে, তা হল শকুনের।

