দৃশ্য নয়নাভিরাম, দক্ষিণেশ্বর মন্দির চত্বরে যানজট কমাবে শহরের প্রথম স্কাইওয়াক
খরচ ৬৫ কোটি টাকা, থাকছে ১২টি এস্কালেটর, চারটি লিফট ও আটটি সিঁড়ি
- Total Shares
বিভিন্ন কারণে বেশ কয়েক বার পিছিয়ে পড়ার পর অবেশেষে খুলছে দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াক। কালীপুজোর একদিন আগে, অর্থাৎ সোমবারই এই স্কাওয়াক উদ্বোধন করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত মঙ্গলবারই কেএমডিএ-র হাতে স্কাইওয়াকের দায়িত্বভার তুলে দিল নির্মাণকারী সংস্থা।
কেন এই স্কাইওয়াক
দক্ষিণেশ্বর মন্দির যাতায়াতের রাস্তায় যানজট ও দর্শনার্থীদের ভিড় কমাতে এই স্কাইওয়াক তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার।
মন্দিরে প্রবেশের জন্য মাত্র একটি পথই রয়েছে - রানি রাসমণি রোড। এই রাস্তার দু’ধারে ছিল প্রসাদ, নানাবিধ খাবার, আচার-সহ হরেক রকমের দোকান। ফলে, প্রতিনিয়ত এই রাস্তায় দর্শনার্থী ও যানবাহনের জট লেগেই থাকে। এই রাস্তাকে যানজট মুক্ত করতে দীর্ঘ দিন ধরে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছিল দক্ষিণেশ্বর মন্দির কর্তৃপক্ষ। তার পরিপ্রেক্ষিতেই ওই রাস্তায় স্কাই ওয়াক তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী এই স্কাইওয়াকের তলা দিলে শুধুমাত্র গাড়ি চলবে। পথচারীদের এই স্কাইওয়াক ধরেই মন্দিরের মূল দুয়ারে প্রবেশ করতে হবে। এই স্কাইওয়াক বেশ দৃষ্টিনন্দন এমনকি আধুনিকও।
কালী পুজোর আগের দিন, অর্থাৎ সোমবার, উদ্বোধন হবে স্কাইওয়াক [সৌজন্যে: টুইটার]
১০.৫ মিটার লম্বা এই স্কাইওয়াকে থাকছে ১২টি এস্কালেটর, চারটি লিফট ও আটটি সিঁড়ি। দক্ষিণেশ্বর স্টেশন লাগোয়া ট্রাফিক সার্কেল থেকে মন্দিরের সিংহদুয়ার অবধি বিস্তৃত এই স্কাইওয়াক।
নিঃসন্দেহে ৬৫ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হওয়া এই স্কাইওয়াক কিন্তু মন্দির প্রাঙ্গনের যানজট অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
স্কাইওয়াকের সুরক্ষা ব্যবস্থা
২০১৫ সালের মাঝামাঝি দক্ষিণেশ্বরে স্কাইওয়াকের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু কাজ শুরু করতে গিয়ে রাস্তার দু’ধারের দোকানদারদের বাধার মুখে পড়তে হয় প্রশাসনকে। এর পরে আইনি জটিলতা কাটিয়ে ওই বছরের শেষের দিকে স্কাইওয়াক তৈরির কাজ শুরু হয়। তবে এর পরেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সহ বিভিন্ন কারণে কাজে দেরি হয়েছে।
এই প্রকল্পের মূল কাজটি শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের। সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পরিষেবার লাইন সরাতে হয়েছে। মাটির নীচ থেকে জল উঠছিল, তার সঙ্গে বর্ষাও যথেষ্ট সমস্যা করেছে।
এর পর আবার পোস্তায় বিবেকানন্দ রোডের উপরে নির্মীয়মান উড়ালপুল ভেঙে পড়ার পর থেকেই যে কোনও সেতু বা উড়ালপুল তৈরিতে বাড়তি নজরদারি, নিরাপত্তা, সতর্কতা অবলম্বন করছিল রাজ্য সরকার। সুরক্ষা খতিয়ে দেখার উপরে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছিল। এর ব্যতিক্রম হয়নি দক্ষিণেশ্বর স্কাইওয়াক তৈরিতেও। এই প্রকল্পে ব্যবহৃত সমস্ত লোহা ও ইস্পাতের পাত পরীক্ষা করে রাইটস ছাড়পত্র দেওয়ার পরেই তা এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, প্রকল্প শুরুর আগে বেসরকারি একটি সংস্থাকে দিয়ে এই স্কাইওয়াকের বহন ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেই সংস্থা সবুজ সঙ্কেত দেওয়ার পরেই এই প্রকল্প সাধারণ মানুষদের জন্য চালু করা হচ্ছে।
দোকানদারদের ক্ষোভ
প্রকল্প শুরুর দিনগুলোতে প্রকল্প তৈরিতে বাধা এসেছিলেন রানি রাসমণি রোডের দোকানদাররা। রীতিমতো আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মামলা করেন হকাররা। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ আলোচনার পর সমাধান সূত্রও বের হয়। ঠিক করা হয়েছে রানি রাসমণি রোডের যে সব দোকানদাররা ক্ষতিপূরণ নিতে রাজি হননি তাঁদেরকে স্কাইওয়াকের উপর পুনর্বাসন দেওয়া হবে।
কালীপুজোর শেষে, অর্থাৎ এই সপ্তাহান্তে, লটারির মাধ্যমে সেই পুনর্বাসনের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
সব ভালো যার শেষ ভালো।

