সুস্থ থাকতে হলে আজ থেকেই উৎসেচক সমৃদ্ধ খাবার খান

ক্লান্তি, পেট ফাঁপা, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং এই ধরণের আরও সমস্যা হতে পারে উৎসেচকের অভাবে

 |  4-minute read |   07-08-2018
  • Total Shares

আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন খাবারদাবারের মধ্যে এমন কোন জিনিষটি আছে যেটা সম্বন্ধে আমরা খুব কম বুঝি, তা হলে আমি এক কথায় বলব: উৎসেচক।

এমনকি স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ যাঁরা সুস্থ থাকতে বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবারদাবার (সুপারফুডস) খান এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা (ফ্যাটডায়েট) মেনে চলেন তাঁরাও উৎসেচক সম্বন্ধে তেমন একটা কিছু বলতে পারবেন না। "উৎসেচক আমাদের বেশ পরিচিত। আমি স্কুলে থাকতে উৎসেচক সম্পর্কে পড়েছিলাম... রোজকার খাবার থেকে আমাদের শরীর উৎসেচক পায়। তাই না?" উৎসেচকের সম্বন্ধে কিছু বলতে গেলে বেশিরভাগ লোক সাধারণত এটাই বলেন।

আমার মনে হয় কোনও উপকারী জিনিষকে এতটা খাটো করে এর আগে বোধহয় দেখানো হয়নি। সুস্থ থাকতে  উৎসেচকের একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে। আমাদের শরীরের ভেতরে সর্বক্ষণ যেসব রাসায়নিক ক্রিয়া হতে থাকে তা যাতে ঠিকঠাক হতে পারে সেই জন্য উৎসেচকের একটা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।  তাই খুব কম মাত্রায় উৎসেচকও আমাদের শরীরের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শরীরে শক্তি জোগাতে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে,  শরীরে পুষ্টি গ্রহণে সহায়তা করতে, হরমোনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে, শরীরে কোথাও কেটে গেলে তা দ্রুত সারাতে এবং শরীর থেকে অপকারী ও দূষিত পর্দাথ দূর করতে সহায়তা করে উৎসেচক।

তাই আসুন জেনেনি উৎসেচক কী ও শরীর সুস্থ থাকতে উৎসেচকের ভূমিকা কী।

উৎসেচক সম্বন্ধে আমরা অনেক বেশি সচেতন হই যখন একটি গবেষণায় উঠে আসে যে গরুর পাকস্থলীতে এমন একটি বিশেষ উৎসেচক পাওয়া গেছে যাতে দুধ থেকে চিজ হয়। তাই খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ শিল্প সময় নষ্ট না করেই খুব দ্রুত এই আবিষ্কারটিকে কাজে লাগিয়ে ফেলে। এখন ডেয়ারি ব্যবসা থেকে শুরু করে বিয়ার তৈরিতেও উৎসেচকটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

আমাদের শরীরে প্রাকৃতিক ভাবে ২২ রকমের উৎসেচক রয়েছে যা খাবারদাবার হজম করাতে সাহায্য করে। তবুও দৈনন্দিন চাপ, অসুখ বিসুখ, দূষণ, অপুষ্টি এবং বিভিন্ন ওষুধের পার্শক্রিয়ার ক্ষতিকর দিক থেকে শরীরকে মুক্ত রাখার জন্য উদ্ভিজ্জ উৎসেচক দরকার। কারণ গাছপালার থেকে যে সব উৎসেচক পাওয়া যায় সেগুলির প্রয়োজন আছে আমাদের শরীরে, অথচ এই ধরনের উসেচক আমাদের শরীরে ঠিকঠাক ক্ষরিত হয় না। 

আমরা এখন যে খাবারদাবার খেয়ে থাকি তাতে তাজা শাকসবজির পরিমাণ যেমন অনেকাংশে কমে যাচ্ছে তেমনই উৎসেচক সমৃদ্ধ খাবারদাবারও এখন আমরা অনেক কম খাই। প্রক্রিয়াজাত খাবাদবারই আমরা এখন বেশি খাই। এর ফলে শরীরে প্রয়োজনীয় উৎসেচকের অভাব দেখা দেয় যা পেটকে অসুস্থ করে দেয় এবং পেটের বিভিন্ন সমস্যা যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফেঁপে যাওয়া, পেটে ব্যথা এবং বুকজ্বালার সৃষ্টি করে।

body_veg_080718071607.jpg

পেটের এসব সমস্যা হলে শরীরে ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় খনিজের অভাব দেখা দেয় পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে আসে। হ্যাঁ শরীর সুস্থ রাখতে হলে উৎসেচক অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

বার বার অ্যালাৰ্জি হওয়া,  ক্লান্তি, পেট ফাঁপা, গ্যাস, কোষ্ঠ কাঠিন্য, ডায়েরিয়া, বদহজম, মাথাব্যথা, খিটখিটে মেজাজ এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে বুঝতে হবে শরীরে প্রয়োজনীয় উৎসেচকের অভাব হয়েছে।

কেন প্রয়োজন উৎসেচক?

১৯৩০ সালে এডওয়ার্ড হোয়েল প্রথম উৎসেচক এবং শরীর সুস্থ রাখতে উৎসেচকের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তিনি তাঁর গবেষণার মাধ্যমে দেখান যে উদ্ভিদজাত বা গাছপালা থেকে পাওয়া উৎসেচক পাকস্থলীতে গিয়ে খাবারকে হজম হতে সাহায্য করে। পাশাপাশি তিনি বলেন যে পাচনতন্ত্র নিজের কাজ শুরু করার প্রায় এক ঘণ্টা আগে থেকেই এই উৎসেচক কাজ শুরু করে দেয়। তাই বদহজম হলে কিংবা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে আসা মানেই হল যে শরীরের প্রয়োজনীয় উৎসেচকের আকাল হয়েছে।

শরীরের প্রয়োজনীয় উৎসেচকের মাপ ঠিক থাকলে খাবারের পরিপাক হতে শরীরের পাচনতন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ পরে না। হোয়েল তাই বলেছিলেন, যে উৎসেচক পুষ্টিকর দ্রব্যগুলির মধ্যে অন্যতম প্রয়োজনীয়। তবে বাস্তবে তেমনটা হয় না। বার্ধক্যজনিত অসুখবিসুখ রোধ করতে, রক্ত বিশুদ্ধ রাখতে এবং শরীরের কোথাও ফুলে গেলে তা সারাতে উৎসেচকের একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে।

খাবারে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎসেচক থাকে

খুব দুঃখের ব্যাপার হল আজকাল খাবারদাবারে উৎসেচক প্রায় নেই বললেই চলে। যত বয়স বাড়তে থাকে ততই আমাদের শরীরে মজুত থাকা উৎসেচক ব্যবহার করে শরীর। তাই শরীরে উৎসেচকের মাত্রা বাড়াবার কয়েকটি উপায় জেনে রাখুন:

কাঁচা শাকসবজি ও ফলমূল খান। শাকসবজিকে যদি ১১৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি তাপমাত্রায় রান্না করা হয় তাহলে সেই খাবার থেকে উৎসেচক হারিয়ে যায়। তাই প্রত্যেকদিন কিছুটা হলেও কাঁচা শাকসবজি খান, যেমন শাকসবজি দিয়ে তৈরি শরবত কিংবা স্যালাড।

জৈবিক শাকসবজি, গোটা শাকসবজি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারদাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। উপমাস্বরূপ একটি আপেলে একটি আভোকাডোর তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে কার্বোহাইড্রেড ও আমিলাস উৎসেচক থাকে।

প্রক্রিয়াজাত খাবারদাবার এড়িয়ে চলুন। খাবারে উৎসেচকের পরিমাণ কম হলে খাবার হজম করতে অগ্ন্যাশয় (প্যানক্রিয়াস) এবং পেটের ভেতরে থাকা বিভিন্ন অন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে ক্রমশ সেগুলো ক্লান্ত এবং দুর্বল হয়ে পড়ে। আর নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে পেটের ভেতরে থাকা অন্ত্রগুলি খাবার আর হজম করতে পারে না।

বাদাম, বিভিন্ন বীজ, শস্য ও ডাল খান কারণ, এতে প্রচুর পরিমাণে উৎসেচক রয়েছে। তবে এই জাতীয় খাবারে এমন কিছু দ্রব্যও আছে যা শরীরে থাকা উৎসেচককে ঠিকঠাক কাজ করতে দেয় না। তাই এই সব খাবার খাওয়ার আগে এগুলোকে ভিজিয়ে রাখুন যাতে এগুলোর থেকে অঙ্কুর জন্মাতে পারে। এর ফলে যেই দ্রব্যগুলো উৎসেচককে ঠিক ভাবে কাজ করতে দেয় না সেগুলি নিজেদের সক্রিয়তা হারায়।

অঙ্কুরিত ছোলা উৎসেচকের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়।

চেষ্টা করুন খাবারদাবারে যাতে ম্যাগনেসিয়ামের মতো একটি খনিজ থাকে, কারণ এই খনিজটি একটি সহ-উৎসেচক। সহ-উৎসেচক শরীরে উৎসেচকের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

তাজা শাকসবজি, মাছ, নানা রকমের বীজ এবং কলাতে প্রচুর পরিমাণে উৎসেচক রয়েছে।

তাই সুস্থ থাকতে এমন খাবার খান যাতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর উৎসেচক রয়েছে।

লেখাটি ইংরেজিতে পড়ুন

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

KAVITA DEVGAN
Comment