বাগরি মার্কেটের আগুনে অন্তর্ঘাতের দাবি জোরালো হল

আগুন লাগার সময় কারা পালাচ্ছে, সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে দানা বেঁধেছে সন্দেহ

 |  2-minute read |   19-09-2018
  • Total Shares

যা সন্দেহ করা হয়েছিল তাই কি তাহলে সত্যি হল? রবিবার ভোররাতে আগুন লাগে কলকাতার বাগরি মার্কেটে। আর, শুরু থেকেই এই বাজারের দোকানদারদের একাংশ দাবি করে আসছিল যে এই অগ্নিকাণ্ডের নিছকই একটি দুর্ঘটনা নয়। দোকানদারদের উচ্ছেদ করার জন্যে রীতিমতো ছক কষে এই আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার তদন্তে নেমে বাজার লাগোয়া রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজে যে দৃশ্য ধরা পড়েছে তাতে এই অন্তর্ঘাতের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

সিসিটিভি ফুটেজ

কলকাতা পুলিশের হাতে আসা সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, আগুন লাগার সময় একটি স্কুটিতে দু'জন ও দৌড়ে কয়েকজন পালিয়ে যাচ্ছে। এই আগুন লাগার ঠিক পরমুহূর্তে ছবি। ওই সময় শুধুমাত্র মার্কেটের বাইরে যেখানে হকাদের ডালাগুলো রাখা থাকত, সেই অংশটি জ্বলছিল। তখনও বাড়ির ভিতরে আগুন লাগেনি। এর পরে অবশ্য বাইরের এই আগুন ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।

ওই সময় অনেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা যখন আগুনের দিকে দৌড়ে যাচ্ছিলেন (আগুন নেভানোর জন্য উদ্যোগী হতে), ওই যুবকরা তখন কেন পালিয়ে যাচ্ছিল তা নিয়ে সন্দেহ জেগেছে তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের মনে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের সন্দেহজনক গতিবিধি সম্বলিত ফুটেজের রহস্যভেদে করা হবে।

body_091918035649.jpgদুর্ঘটনা নাকি অন্তর্ঘাত? [ছবি: পিটিআই]

আগুন কেন

প্রথম দিন থেকেই অন্তর্ঘাতের অভিযোগ তুলেছিলেন দোকানদারের একাংশ। তাদের দাবি মালিকপক্ষ তাদেরকে উচ্ছেদের জন্যই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

সম্প্রতি, বাগরি মার্কেটের মালিকানা বদল হয়েছে। মালিক গোপাল বাগরি পর এই সম্পত্তির নতুন মালিক হন সেই পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম। আর, মালিকানা বদলের সঙ্গে সঙ্গে মার্কেটের প্রায় হাজার খানেক দোকানদারের সঙ্গে বিবাদ শুরু হয়ে যায় নতুন মালিকপক্ষের। দোকানদারদের দাবি, নতুন মালিক তাঁদের উচ্ছেদের জন্যে উঠেপড়ে লেগেছিলেন। এই নিয়ে বেশ কয়েবার মালিকপক্ষের সঙ্গে তাঁরা বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। কিন্তু কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি। শনিবার (আগুন লাগার ঠিক আগের দিন) বিকেলে বৈঠক চলাকালীন দু'পক্ষের মধ্যে নাকি বচসা চরমে পৌছায়।

পুলিশি ব্যবস্থা

ইতিমধ্যেই, পুলিশের তরফ থেকে বড়বাজার থানায় ষড়যন্ত্রের ও গাফিলতির অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বাগরি এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের দুই মালিক রাধা বাগরি ও বরুণরাজ বাগরি এবং সংস্থার সিইও কৃষ্ণকুমার কোঠারির নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এই তিনজনই পলাতক। তাঁদের খোঁজে বাড়ি, অফিসে হানা দিলেও ধরা যায়নি। এই ঘটনায় পুরসভার থেকেও একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

মেয়র ও একই সঙ্গে দমকলমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা-সহ একাধিক ব্যাপারে গলদ ছিল। সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি, স্প্রিঙ্কলার, ফায়ার এক্সটিংগুইসার কাজ করেনি। কর্তৃপক্ষকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শোনেনি। দেখেছি বেআইনি দোকানে ভর্তি। সিঁড়ি, বাথরুমও গুদামে পরিণত হয়েছিল।"

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

Comment