তিন দশক ধরে নেই চশমা, রং বদলানো হয়েছে শহরের গান্ধীমূর্তির
সার্ধ্ব শতবর্ষে নেতামন্ত্রীরা রাজনীতিতে, অবহেলিত মহাত্মা
- Total Shares
১৯৮৭ সাল থেকে সংবাদপত্রে দেখে আসছি দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরীর সৃষ্টি ব্রোঞ্জের তৈরি গান্ধীমূর্তির চোখে থাকা চশমাটি উধাও হয়ে গিয়েছে। এই খবর বিভিন্ন সংবাদপত্রের মাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা হচ্ছে না। তখন আমি গান্ধীজির ১২৫ তম জন্মবার্ষিকীতে একটি পোস্টারের মাধ্যমে 'দুঃসহ চশমাহীন গান্ধীমূর্তি' লিখে একটি পোস্টার নিয়ে মেয়ো রোডে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে উপস্থিত হই, যাতে গান্ধীমূর্তিতে চশমার ব্যবস্থা হয়।
প্রতিবাদী শিল্পী গান্ধীমূর্তির পাদদেশে (নিজস্ব চিত্র)
দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরী তাঁর বাবার আবক্ষমূর্তি গলিয়ে এই মূর্তিটি তৈরি করেছিলেন, সম্ভবত আর্থিক কারণেই। অর্থাৎ তাঁর বাবা এই গান্ধীমূর্তির মধ্যে মিশে আছেন।
১৯৯৩ সাল থেকে ২০১৮ – ২৬ বছর কেটে গেল, এর মধ্যে বামফ্রন্ট আমলে তৎকালীন পূর্তমন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামী কথা দিয়েছিলেন, ১০ দিনের মধ্যে তিনি কাজটি করে দেবেন। তবে তিনি করে দেননি। এর পর আমি 'নীরব ধিক্কার' লেখা একটি পোস্টার প্রদর্শন তরি, সেই খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়, তাও বামফ্রন্ট সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি।
১৯৯৫ সালে বিরোধী নেত্রী মাননীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার দেখা হয় ২ অক্টোবর। আমার পোস্টার প্রদর্শন দেখে তিনি বলেন এটা আপনার জাস্টিফাডেড ডিমান্ড, তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, "দিদি, এই ডিমান্ড কি আপনার নয়?" তিনি বলেন, "এই ডিম্যান্ড আমারও। যাদের বলার বলে দিয়েছি, এবার হয়ে যাবে।" কিন্তু হয়নি।
তিন দশক হল চশমা নেই গান্ধীমূর্তিতে (নিজস্ব চিত্র)
এখন তিনি মুখ্যমন্ত্রী। তাও দীর্ঘ কয়েকবছর তিনি এই পদে রয়েছেন। বোধ করি তিনি ভুলে গেছেন, এদিকে আর তাঁর নজর নেই।
মহাত্মা গান্ধীর নাতি গোপালকৃষ্ণ গান্ধী এই রাজ্যের রাজ্যপাল ছিলেন। একটি চিঠির মাধ্যমে তাঁকে আমি সম্পূর্ণ বিষয়টি জানাই। তিনি রাজভবন থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে আমাকে জানান, ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এরপর তিনি অবসর গ্রহণ করে চলে গেলেন, ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন না।
আরেকটি কথা আমি জানাতে চাই, বাগবাজারে গিরিশ ঘোষের বাড়িটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিয় রং নীলসাদা করা হচ্ছিল। বাগবাজারের গিরিশভক্ত মানুষজন এবং সংস্কৃতি জগতের মানুষজন প্রতিবাদ জানান এবং পুরোনো যে রং ছিল, সেই লাল-হলুদ রং পুনরায় করা হয়।
দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরীর যে সৃষ্টি সেটির বেদি লাল বেলেপাথরে তৈরি, কয়েকবছর হল সেটিকে ঢেকে দিয়ে সেটিকে হলুদ রং করা হয়েছে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমার বিনীত জিজ্ঞাসা, গিরিশ ঘোষের বাড়ির রং যদি পরিবর্তন করে আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হয়ে থাকে, তা হলে গান্ধীমূর্তির হলুদ রং মুছে পুরোনো লাল রংও ফিরিয়ে আনা হোক।
রাজ্যের যত বড়বড় কাজ তা মামনীয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া হয় না। তিনি প্রতিভাময়ী শিল্পী। আমার প্রশ্ন, তাঁর অঙ্কিত কোনও ছবিতে অন্য কোনও শিল্পী যদি রঙের প্রলেপ দেন তা হলে তিনি তাঁকে কিছু বলবেন কি?
পোস্টার হাতে প্রতিবাদী শিল্পী
দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরী এখন ইহলোকে নেই, তা হলে কার নির্দেশে তাঁর সৃষ্টিকে এ ভাবে কলঙ্কিত করা হল? আপনার কাছে বিনীত প্রার্থনা, যে তিনি যেন এই মূ্র্তিটি আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন।
এর আগে ১৯৮৬ সালে গিরিশমঞ্চ উদ্বোধন আগে দেখি সেখানে একটি ভুল রয়েছে, ভুলটি ছিল হরফে। বিভিন্ন সংবাদপত্রে গিয়ে বললাম, কোনও লাভ হল না। শেষে মন্ত্রীর কাছে গেলাম। আমার সৌভাগ্য উনি এলেন, দেখলেন এবং তারপরে উদ্বোধনের আগে সেই ফলক বদল করা হল। উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু।

