জেনে নিন কী ভাবে পেট ভালো রাখবেন
শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকার প্রথম এবং শেষ কথাটাই হল সুস্থ পেট
- Total Shares
শতাব্দীর সমস্ত চিকিৎসা সম্পর্কিত গবেষণায় একটা বিষয় বারবার উঠে এসেছে যে শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকার প্রথম এবং শেষ কথাটাই হল সুস্থ পেট। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে যদিও একই কথা নতুন নয়। পেট যদি ভালো থাকে তাহলে শরীর এমনিতেই ভালো থাকবে। পেট ঠিক না থাকলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই পেটকে সুস্থ রাখতে হবে। যে সব জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরীরের পক্ষে উপকারী সেগুলোক যাতে ঠিকঠাক কাজ করতে পারে সে দিকে নজর দিতে হবে পাশাপাশি ক্ষতিকর জীবাণু যাতে পেটকে কাবু করতে না পারে বিষয়েও সচেতন হতে হবে। প্রত্যেকদিনের দূষণ, জাঙ্কফুড ও অস্বাস্থ্যকর জীবনধারার ফলে পেটে ক্ষতিকর জীবাণু দেখা দেয় তাই যাতে পেটে এই ধরণের জীবাণু ভিড় করতে না পারে সেই বিযয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
একটা সহজ ও নিশ্চিত উপায় হল যেসব খাবারদাবার এবং মসলা আমাদের পেট ভালো রাখে সে সব মসলা বেশি করে খেতে হবে।
কোন মসলা পেটকে ভালো রাখে?
পেট ভালো রাখতে বিভিন্ন মসলার একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে। তাই এই সব কটি মসলা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খান।
জায়ফল
জায়ফল অন্ত্রের ক্রমসংকোচন ক্রিয়াকে ঠিকঠাক কাজ করতে সহায়তা করে পাশাপাশি পাচকতন্ত্র ও ইনটেসটাইন বা অভ্যন্তরীণ থেকে হজম হওয়ার যে সব রস নির্গত হয় সেগুলোকে আরও সক্রিয় ভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। এর ফলে হজম শক্তি বাড়ে। এছাড়া জায়ফলে ম্যারিসটিসিন ও মাসেলিগনেন থাকে যা আমাদের মস্তিস্ককে সতেজ রাখে।
জায়ফল
জায়ফল যেমন মিষ্টি স্বদের তেমনই খুব উপাদেয়। এই মসলাটি খেলে শরীরের ব্যথার থেকে যেমন মুক্তি পাওয়া যায় তেমনই হজম শিরোক্তি বাড়ায়, শরীর থেকে বিভিন্ন অপকারী বস্তুকে দূর করে, ত্বক ভালো রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে।
শুতে যাওয়ার আগে এক কাপ উষ্ণ গরম দুধে একচিমটি জায়ফল দিয়ে কিংবা একচিমটি জায়ফলের গুঁড়ো যদি মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে তা শরীরের পক্ষে খুব উপকারী।
জয়ত্রী
জয়ত্রী হজম শক্তিকে ভালো রাখে এবং শরীরে রক্ত সঞ্চালনকে ঠিক রাখে। শরীরের রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকলে আমাদের ত্বক ও চুল সুস্থ থাকে। জয়ত্রীর অনন্য গুনাগুনের মধ্যে আরও যেগুলো সেটা হল খাওয়ার ইচ্ছে বাড়ায় ও স্মৃতিশক্তি ভালো করে। জয়ত্রী মানসিক চাপ কম করে।
জয়ত্রী
জয়ত্রীতে প্রচুর পরিমাণে তামা ও লোহা আছে যা শরীরের কোষগুলো ভালো রাখে ও নতুন কোষ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। তাই খাবারে জয়ত্রী খেলে রক্তাল্পতা দূর হয়, ক্লান্তি দূর হয় ও পেশীকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। জয়ত্রীশরীরের কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
লবঙ্গ
এ যুগে যে পরিমাণে দূষণ বেড়ে গেছে তা সত্যি চিন্তা জনক। তাই লবঙ্গ খেলে আমাদের শরীর অনেকটা দুষন মুক্ত হয়। লবঙ্গতে প্রচুর পরিমাণে উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা শরীরের ক্ষতিকর রেডিক্যালকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। এই ক্ষতিকর রেডিক্যাল বিভিন্ন রোগের উৎস। লবঙ্গ খেলে যকৃৎ ভালো থাকে ও শরীর থেকে উপকারী পদার্থকে সরাতে সাহায্য করে। লবঙ্গ শরীরের লিপিডের মাত্রাকেও ঠিক রাখে। শরীরে লিপিড বেশি থাকলে মেদ ও কোলেস্টরলের সমস্যা দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে লবঙ্গ খেলে ক্যান্সারে হওয়ার আশঙ্কার কম হয়।
লবঙ্গ
লবঙ্গ রক্তে ইনসুলিনের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে বলে ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা কম হয়। এছাড়া রক্তে শর্করার মাপ নিয়ন্ত্রিত থাকে। দূষণের ফলে শ্বাসনালীর যে সব সমস্যা দেখা দিতে পারে তাকে মোকাবেলা করতে প্রতিষেধক হিসেবে লবঙ্গর উপকারিতা অব্যর্থ।
তাই সব সময় মুখে একটা লবঙ্গ রাখুন।
এলাচ
এলাচ যেমন হার্ট ভালো রাখে তেমনই এলাচ উচ্চরক্ত চাপ ও লিপিড প্রোফাইলকে নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীরে কোলেস্টরলের মাত্রা ঠিক রাখে। এলাচের একটা দুশ্চিন্তা রোধক গুনও আছে এবং এলাচ হজম শক্তি বাড়ায়। পেশীতে বা হাড়ে ব্যথা অনুভূত হলে এলাচ খেলে উপকার পাওয়া যায়। শ্বাসযন্ত্রের অসুবিধা যেমন এজমার সমস্যা থাকলে এলাচ খেলে উপরকার পাওয়া যায়।
তাই নিয়মকরে প্রত্যেকদিন এলাচ দিয়ে চা খান।
কেশর বা জাফরান
কেশরে গাঢ় কমলা রঙের দ্রাব্যমান ক্যারোটিন যার নাম ক্রোসান। ক্রোসান ক্যান্সারের আশঙ্কা দূর করে, স্মৃতি শক্তি বাড়ায় ও শরীরে ফোলা বা ব্যথা দূর করে। সর্দি জ্বর হলে কেশর খেলে উপকার পাওয়া যায়। কেশরে ভিটামিন সি থাকে বলে তা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং লোহা থাকায় ক্লান্তি দূর করে।
কেশর বা জাফরান
হাড়কে শক্তিশালী করতে হলে নিয়মিত দুধের সঙ্গে কেশর মিশিয়ে খাওয়া উচিত কারণ দুধ থেকে আমার যে ক্যালসিয়াম পাই সেই ক্যালসিয়ামকে শরীরে মিশে যেতে কেশরের একটা ভূমিকা রয়েছে। এর ফলে যেমন হাড় মজবুত হয় তেমনই অস্টিওপোরোসিস হতে দেয় না।
তুলসী পাতা
তুলসীর অনেক গুনাগুন রয়েছে তাই সর্বত্রই তুলসী পাতা দিয়ে পুজো করা হয়। তুলসী পাতা খেলে যকৃৎ-এর ক্ষতিকর দ্রব্যকে দূর করে যকৃৎকে ভালো রাখে। তুলসীতে প্রচুর লোহা থাকে, তুলসী পাতা খেলে মানসিক চাপ দূর হয়, হজম শক্তি ভালো রাখে এবং স্বাস্থা কষ্ট থেকে মুক্তি দেয়।
তুলসী পাতা
বিভিন্ন গন্ধযুক্ত তেল (এসেনশিয়াল অয়েল)-এ ক্যামফেন, ইউজেনল ও সিনেওলি থাকে যা অনেক সময় আমাদের নিশাসের সঙ্গে মিশে গিয়ে বিভিন্ন অসুবিধার সৃষ্টি করে তাই তার থেকে মুক্তি পেতে হলে তুলসী পাতা খান। প্রত্যেকদিন সকালে কয়েকটি তুলসী পাতা চিবিয়ে খান।
লেখাটি ইংরেজিতে পড়ুন

