নতুন কাউন্সিল গঠনের ফলে এবার হাল ফিরতে পারে আয়ুর্বেদ চিকিৎসার
পরিকল্পনাহীনতার ফলে রাজ্যের আয়ুর্বেদ হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা একেবারে তলানিতে
- Total Shares
চলতি বছরে মে মাসে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের নীতি নির্ধারক কাউন্সিল গঠিত হল। এর ফলে দীর্ঘ ৪০ বছর পশ্চিমবঙ্গে আয়ুর্বেদ চিকিৎসাশাস্ত্র যে একরকম মুখ থুবড়ে পড়েছিল সেই অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা।
৪০ বছরের ধাক্কায় অন্যান্য রাজ্যগুলোর থেকে আমাদের রাজ্য অনেকখানি পিছিয়ে পরে
যথাযথ পরিকল্পনা ও উদ্যোগের অভাবে আমাদের রাজ্যের আয়ুর্বেদ চিকিৎসা ও আয়ুর্বেদ ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠনের দিকটাও এতগুলো বছর অনুন্নত অবস্থায় ছিল বলা যেতে পারে। নবগঠিত আয়ুর্বেদ পরিষদের পরিচালন কমিটি এই বিষয়ও তৎপর হবে বলে আশা।
দীর্ঘদিন আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের যে তালিকাটি ছিল সেটিকে নবীকরণ করা হয়নি, তাই এর ফেল আয়ুর্বেদের নামে বিভিন্ন ভুয়ো চিকিৎসক নিজেকে আয়ুর্বেদ চিকিৎসক বলে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। নতুন পরিচালন কমিটি সেই তালিকাটির নবীকরণ করেছে। পাশাপাশি এই বিরাট সময় ধরে রেজিস্ট্রেশনের নামে যে পরিহাস চলত তার উপরেও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসা হচ্ছে।
আয়ুর্বেদের বিভিন্ন দিকগুলো যেমন পঠনপাঠন, চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়া ও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার দিকগুলো আয়ুর্বেদ কাউন্সিল - পশ্চিমবঙ্গ আয়ুর্বেদ পরিষদ তত্ত্বাবধান করে। নবগঠিত পরিষদের সহ সভাপতি প্রদ্যুৎবিকাশ কর মহাপাত্র বলেন, "বিগত ৪০ বছর ধরে আমাদের রাজ্যে আয়ুর্বেদ চিকিসার দিকটা অবহেলিত হয়ে ছিল। তখন কাউন্সিল বলতে ছিলেন শুধু রেজিস্টার ও তাঁর একটি অফিস ঘর। সব কাজগুলোই দায়সারা ভাবে হচ্ছিল।"
নতুন পরিচালন কমিটি সেই তালিকাটির নবীকরণ করেছে
যেহেতু সম্পূর্ণ পরিচালনার দিকটা কাউন্সিলের হাতে থাকে তাই তাদের একটা বিশাল দায়ভার থাকে যার কোনওটাই এতদিন হয়নি। কাউন্সিল কার্যকটি ছিল না। তাই এই ৪০ বছরের ধাক্কায় অন্য রাজ্যগুলোর থেকে আমাদের রাজ্য অনেকখানি পিছিয়ে পরে। এর আগে শুধুমাত্র এঢক কমিটি যত্ন করে বছরের পর বছর কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছিল, পূর্ণাঙ্গ কোনও কমিটির অস্তিত্বই ছিল না।
যদিও ২০১২ সালে আবার নতুন করে একটি সাতজন সদস্যের একটু পরিচালন কমিটি গঠন করা হল এবং দ্রুত নির্বাচন করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি তৈরি করার দায়ভার এদের দেওয়া হল।
বর্তমান পদক্ষেপ আশার এল জাগিয়েছে কারণ পশ্চিমবঙ্গের আয়ুর্বেদ হাসপাতালগুলোতে পরিকাঠামো ও চিকিৎসার পরিকল্পনাহীনতায় ভুগছিল যার ফলে রোগীর সংখ্যা একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছিল সেগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাবে।
চিকিৎসকদের তালিকাটি নবীকরণ করা হয়নি
কর মহাপাত্র মনে করেন এই নতুন কাউন্সিলের গঠনের মাধ্যমে সেন্ট্রাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ান মেডিসিন (সিসিআইএম)-এর মধ্যে এত বছর ধরে যে তেমন একটা নিবিড় যোগাযোগ আবার স্থাপন হবে। আমাদের রাজ্যে আয়ুর্বেদ সংক্রান্ত সমস্ত খুঁটিনাটি এ বার থেকে তাঁদের কাছেও পৌঁছে যাবে সেটা এবার আরও সুনির্দিষ্ট ভাবে হবে। যে সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোতে আয়ুর্বেদ পড়ানো হয় সেগুলোর উপর নজরদারির কোনও ব্যবস্থা ছিল না, তাই অনেক জায়গায় পাঠক্রমে অনিয়ম দেখা গেছে। নতুন কাউন্সিল সে বিষয়েও নজর ডেকে এর ফলে কলেজগুলোর শিক্ষাগত মান অনেকটাই বাড়বে বলে আশা।

