টাকার দাম পড়ে গেলে সাধারণ মানুষের কী যায় আসে

আপাত ভাবে কোনও পার্থক্য মনে না হলেও প্রভাব আপনার উপরেও

 |  3-minute read |   02-09-2018
  • Total Shares

দাম পড়ছে টাকার। টাকার দাম পড়তে পড়তে ডলারপিছু ৭০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। হইচই দেশজুড়ে। কিনতু টাকার দাম যে পড়ছে আমার-আপনার মতো লোক বুঝতে পারছে কী? টাকার দাম বাড়লে বা কমলে কার কী ক্ষতি হয়? কার কী লাভই বা হয়?

reuters_090218050317.jpgটাকার দামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের অর্থনীতি (রয়টার্স)

আমদের ডলার কোন কাজে লাগে? তাই টাকার দাম বাড়লে বা কমলে আমাদের কী ক্ষতি হয় তা একবার খতিয়ে দেখা উচিত।

আমদানি, রপ্তানি ও জিনিসের দাম

টাকার দাম পড়ে গেলে রফতানিকারীদের লাভ। ধরুন একটি জিনিস রফতানির জন্য কোনও একটি সংস্থা ১০০ ডলার দাম ধার্য করেছিল। ধার্ষ করার সময় টাকার দাম ছিল ডলারপিছু ৬৫ টাকা। এখন ৭০ টাকা হয়েছে। জিনিসটির দাম বাবদ সংস্থাটি ১০০ ডলারই পাবে। এ ক্ষেত্রে ডলারে ৫ টাকা হিসাবে বাড়তি লাভ হবে।

একই হিসাবে আমদানি করতে ওই হিসাবে বাড়তি টাকা গুণতে হবে। তাই আমদানিকারী যদি লাভের অঙ্ক কমাতে কমাতে না চান, তা হলে বিদেশ থেকে আমদানি করা জিনিসের দাম বাড়বে।

যাঁরা বিদেশে থাকেন

কেউ বিদেশে রয়েছেন লেখাপড়া করতে, কেউ রয়েছেন চাকরিসূত্রে। যাঁরা লেখাপড়া করার জন্য বিদেশে গিয়েছেন তাঁদের বৃত্তির অংশ বাদ দিয়ে বাকি খরচ বাড়ি থেকে পাঠাতে হয়। তাই যাঁদের সন্তান বিদেশে পড়াশোনা করছেন এখন তাঁরা সমস্যায়। যদি মাসে ১০০০ ডলার পাঠাতে হয়, তা হলে আগের হিসাব অনুযায়ী টাকার অঙ্কে বাড়তি ৫০০০ টাকা পাঠাতে হবে।

images_090218050632.jpgনিয়মিত যাঁরা বিদেশে টাকা পাঠান তাঁদের সমস্যা

উল্টোটা হবে যাঁরা চাকরি করেন তাঁদের ক্ষেত্রে। কারণ যিনি বাড়িতে আগে ১০০০ ডলার পাঠাতেন এবং এখনও সেই অঙ্কের ডলারই পাঠান তা হলে তাঁর বাড়ির লোকজন আবার ৫০০০ টাকা অতিরিক্ত পাবেন।

তেলের দাম

সম্প্রতি কোথাও একটি শিরোনামে লেখা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী মোদী দেখছেন কে আগে ১০০ ছুঁতে পারে, ডলার পিছু টাকার দাম নাকি পেট্রোল-ডিডেলের দাম। টাকার দাম পড়ে গেলে আমদানির খরচ বাড়ে। স্বভাবতই তেলের আমদানির খরচ বাড়লে তেলের দাম বাড়বে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহণের খরচ বাড়বে। পরিবহণের খরচ বাড়লে জিনিসপত্রের দামও বাড়বে।

এ রাজ্যে তো আনাজ, মাছ, ডিম সবই আসে সড়কপথে। তাই সেই অনুপাতে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়তে পারে।

বিদেশে বেড়াতে যাওয়া

যদি বিদেশে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাতেন তা হলে কী হবে তা হিসাব কষে দেখতে হবে। আমেরিকার ডলার-নীতির জন্য ডলার দামি হচ্ছে, তাই ডলার সাপেক্ষে অনেক দেশের মুদ্রার দামই কমেছে। বারতের মতো ইন্দোনেশিয়াতেও তাদের মুদ্রা রপিয়ার দাম ২২ বছরে সবচেয়ে বেশি পড়েছে। তাই আপনার খরচ নির্ভর করবে কোন দেশে যাচ্ছেন তার উপরে।

যদি কোনও ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে বিদেশে যান, তা হলে খরচ বাড়তে পারে। অনেক ভ্রমণ সংস্থাই দুই হিসাবে টাকা নিয়ে থাকে। একাংশ নিয়ে থাকে টাকার অঙ্কে, বাকিটা নিয়ে থাকে ডলারের অঙ্কে। স্বভাবতই ডলারের অঙ্কের জন্য বাড়তি টাকা গুণতে হবে।

শুধু বেড়াতে যাওয়া নয়, বিদেশযাত্রার খরচ বাড়লে যাঁরা চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন তাঁদেরও খরচ বাড়বে। তাঁরাও একই ভাবে সমস্যায় পড়বেন।

দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব

ভারতের অর্থনীতি ১০০ ডলার বা ১০০০ ডলারের ব্যাপার নয়। দেশের রপ্তানিও একদিনে অনেকটা বেড়ে যাবে এমন নয়। রপ্তানি করতে সময় লাগে, আমদানিতেও। তাই ক্রমেই যদি টাকার দাম ডলারের সাপেক্ষে কমতে থাকে, তা হলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়বে। ভারসাম্য বজায় রাখতে গেলে সরকারকে আমদানি শুল্ক কমাতে হবে, সে ক্ষেত্রে সরকারি কোষাগারে কম অর্থ ঢুকবে।

ডলারের দাম আরও পড়ে যাওয়ায় বাণিজ্যঘাটতির পরিমাণ পাঁচ বছরে সর্বাধিক ১৮০০ কোটি মার্কিন ডলার হয়েছে, যা পাঁচ বছরে সর্বাধিক।

download_090218050751.jpgবাণিজ্য ঘাটতি পাঁচ বছরে রেকর্ড মাত্রা ছুঁয়েছে (ছবি -- রয়টার্স)

শুল্কবাবদ আয় ঠিক রাখতে গলে রফতানি শুল্প বাড়াতে হবে, কিন্তু আমদানি শুল্ক কমানোর মতো রফতানি শুল্ক বাড়ানো অত সহজ নয়।

তবে ভারতে বেড়ানো আগের চেয়ে শস্তা হয়ে যাওয়ায় বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে। তাতে দেশে ডলার ঢুকবে, ডলারের সঞ্চয় বাড়বে।

তেলের দাম বেড়ে গেলে দেশে সব জিনিসের দাম বেড়ে যাবে, কিন্তু লোকের আস তো আর প্রত্যেক দিন বাড়ে না। সে ক্ষেত্রে ব্যয় করার প্রকৃত ক্ষমতা কমে যাবে। মানে, লোকে আগে ১০০ টাকায় যতটা জিনিস কিনতে পারতেন এখন তার চেয়ে কম পরিমাণে জিনিস কিনতে পারবেন।

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ও চিকিৎসার ব্যয় কমানো সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে বিলাসদ্রব্য ক্রয়ের ঝোঁক কমবে। তার প্রভাবও দেশের অর্থনীতিতে পড়বে।

খরচ বেড়ে গেলে লোকে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ কম করবে। সেটাও ক্ষতিই।

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

SUMITRO BANDYOPADHYAY
Comment