ঋতু পরিবর্তনের সময় কী ভাবে নিজেকে সর্দি-জ্বর থেকে দুরে রাখবেন?
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে
- Total Shares
তাপমাত্রা হটাৎ করে কমে গেলে বড় ধরণের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে, সম্ভবত এ'বছরেও তাপমাত্রার পরিবর্তনের জন্য আপনি বেশ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। নাক দিয়ে ক্রমাগত জল বেরিয়ে যাওয়া, বারে বারে নাক টানা সঙ্গে প্রচন্ড হাঁচি হওয়া। প্রতিবছর এটা একটা অতি পরিচিত ছবি।
দুঃখের বিষয় হল এখনও কেউ এমন কোনও ওষুধ আবিষ্কার করতে পারেননি যাতে সর্দির উপসর্গগুলো ধামাচাপা না পরে রোগটাকে সরানো সম্ভব হয়। এছাড়াও যেসব শারীরিক সমস্যা আমাদের বহুবার হয় সেসব সমস্যা সম্বন্ধে আমরা খুব কম বুঝি।
ছবি: রোয়েটর্স
সর্দিজ্বর হলে হয়তো তেমন একটা ক্ষতি হতো না তবে বিপদ হল সর্দি-জ্বর হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলত জীবাণুর সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আপনি যদি আপনার কোনও সহকর্মী বা অন্য কারোও এঁটো গ্লাসে চুমুক দিয়ে খান তাহলে জীবাণু আপনার শরীরে প্রবেশ করতে পারে। সারাদিনে আমরা বিভিন্ন মানুষের সংস্পর্শে আসি তাই যাঁরা সর্দি-জ্বরে ভুগছেন তাঁদের থেকে দূরে থাকাটাও সম্ভব নয়।
করণীয় কী?
শরীরকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে সর্দি-জ্বর শরীরকে খুব সহজেই কাবু করতে না পারে। নিজেকে ভেতর থেকে এতটাই শক্তিশালী করতে হবে যাতে জীবাণু খুব সহজেই বাসা না বাঁধতে পারে।
সর্দি-জ্বর দূরে রাখতে কী করবেন:
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। যেসব খাবারদাবার খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে সেসব খাবার খান।
বেশি করে ভিটামিন সি সম্ব্রিদ্ধ খাবারদাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন, ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। টক জাতীয় ফলমূল, সবুজ ক্যাপসিকাম, স্ট্রবেরি, আনারস এবং আমলকি খান। যেসব খাবারে ভিটামিন আছে, সেই ধরণের দুটি করে খাবার প্রত্যেকদিন খান।
রসুন খান। এটি অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল পাশাপাশি এতে শরীরের ব্যথার উপশম হয়। এছাড়াও রসুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের অতিরিক্ত মিউকাস দূর করে। রসুন সর্দি-জ্বরের উপসর্গ থেকে শরীরকে মুক্ত রাখে। সর্দিকে দ্রুত সারাতে সাহায্য করে রসুন। কাঁচা সর্দি সঙ্গে চোখ থেকে ক্রমাগত জল পড়াকে দূর করে, যা সর্দির সব থেকে খারাপ দিক। তাই রান্নায় হোক বা রস করে কিংবা এক থেকে দু'কোয়া রসুন চিবিয়ে খান।
প্রচুর পরিমাণে আদা খান। আদা দিয়ে চা খান এতে সর্দির থেকে কিছুটা আরাম মেলে। আদা চা বানাতে হলে- দু'চামচ ছাচা আদাতে এক কাপ ফুটন্ত জল ঢেলে দিন এবং পাঁচ থেকে দশ মিনিট মতো ভিজতে দিন।
ছবি: ইউ টিযুব
খাবারের সঙ্গে প্রত্যেকদিন অর্ধেকটা করে কাঁচা পেঁয়াজ খান, এতে অ্যালিসিন ছাড়াও অন্যান্য বহু ফাইটকেমিক্যাল রয়েছে। এতে ব্রঙ্কাইটিস সহ অন্যান্য সংক্রমণ দূর হয়।
মাঝে মধ্যে মশলাদার খাবারদাবার খান। ভেষজর মধ্যে থাইম খেলে বুকের সমস্যা বা শ্বাসকষ্ট দূর হয়। মেথির অনেক রকম গুণাগুণ আছে তাই তরকারি, চাটনি বা সুপে যদি মেথি ব্যবহার করা যায় তাহলে শ্লেষার সমস্যা অনেকটা দূর হয় এবং নাক বন্ধ থাকলে উপশম মেলে।
সর্ষে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা দূর করে। কাঁচা মরিচ সাইনাসের সমস্যা দূর করে এবং ফুসফুস ভালো রাখে। মুলেঠি, জসন্ধা এবং বুনখ্যার মতো পারম্পরিক কয়েকটি ভেষজ অত্যন্ত উপকারী।
সর্দিজ্বরের কারণে আমাদের অনেক সময় একটা বন্ধভাব লাগে তাই ঠাকুমার টোটকা অনুসারে কিছুটা গরম সুপ খেলে অনেকটা আরাম মেলে এবং বন্ধভাবটাও কেটে যায়। এছাড়াও শরীর তরতাজা লাগে ও কাজ করার শক্তি মেলে। রাতে শুতে যাওয়ার আগে যদি কিছুটা বেসনের শিরা খাওয়া যায় তাহলে তাতেও অনেক উপকার। ঠান্ডা লাগলে তাই গরম চায়ে কিছুটা মধু ও কয়েক ফোঁটা লেবু দিয়ে খেতে পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়াও মধু এবং লেবুর রস গলাকে সম্পৃক্ত রাখে ও গলা ভিজিয়ে রাখতে সহায়তা করে তাই সর্দি হলে গলায় যে খুশ খুশ ভাবটা হয় সেটা আর থাকে না।
ছবি:ইন্ডিয়াটুডে
শরীরকে সম্পৃক্ত রাখে ও জলের অভাব হতে দেয় না। শরীরকে সব সময় সম্পৃক্ত রাখতে হলে প্রচুর জল এবং অন্যান্য পানীয় খেতে হবে। গ্রিন টি খান। এছাড়াও কিছুটা গরম জলে জিরে বা মৌরি ভিজিয়ে রাখুন তারপর উষ্ণ করে খান। অতিরিক্ত কফি, সোডা বা অন্যান্য মিষ্টি জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলুন।
চিনি কম খান। অতিরিক্ত চিনি খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হয় ফলে বিভিন্ন রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।
জীবনধারা পরিবর্তন করুন: সময়মত খাবাদবার খান এবং কখনও নিজেকে অভুক্ত রাখবেন না, ক্যাফেন জাতীয় খাবারের পরিমাণ কম করুন এবং অতিরিক্ত স্নেহপদার্থ জাতীয় খাবার ও জাঙ্কফুড এড়িয়ে চলুন। মিষ্টি কম খান। খোসা সমেত শস্য খান, ফলমূল, শাকসবজি এবং প্রোটিন সম্ব্রিদ্ধ খাবার খান। কারণ এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং শরীরে ফ্লুর জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে না।
বাইরে বেরোন। ঠান্ডাতে সর্দি হয় না। বরং বাড়িতে অন্য কারও যদি সর্দি হয়ে থাকে তাহলে তাঁর সংস্পর্শে অনেক্ষন থাকলে আপনারও ফ্লু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
শরীর চর্চা। শরীরচর্চা বা নিয়মিত ব্যাম করলে শরীরের শ্বেত রক্ত কণিকার সঞ্চালন ভালো হয় যা ফ্লুর জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করতে শরীরকে সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন। শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রত্যেকদিন আট ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। আট ঘন্টার কম ঘুম ও অনিয়মিত ঘুম শরীরের ক্ষতি করে।
লেখাটি ইংরেজিতে পড়ুন

