উল্টোডাঙায় পরিবেশবান্ধব ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ ব্যবস্থায় লাভ যাত্রী, সরকারের
১৯৭৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা এয়ারলাইনের প্রবর্তিত ব্যবস্থা এবার মহানগরের রাজপথে
- Total Shares
বিমান সংস্থাগুলোর পরিভাষায় এই ব্যবস্থার পোশাকি নাম 'হাব অ্যা ন্ড স্পোক সিস্টেম'। এই ব্যবস্থায় বিভিন্ন শহর থেকে বিভিন্ন বিমানে চেপে একটি বিমানবন্দরে আসেন যাত্রীরা, সেখান থেকে তাঁরা দূরের কোনও শহরের একটি বিমানে ওঠেন। বিমানসংস্থার খরচ কমানোর জন্য এই ব্যবস্থা। যাত্রীদের সুবিধা হল, এই ব্যবস্থায় উড়ানসংস্থা টিকিটের দর কম রাখতে পারে।
যেমন ধরুন এয়ার ইন্ডিয়ার কলকাতা-দিল্লি-লন্ডন উড়ান। কলকাতা থেকেই অভিভাষণ দপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে লন্ডনগামী যাত্রীরা দিল্লিগামী বিমানে ওঠেন। এ ছাড়াও কলকাতা দিল্লি অভ্যন্তরীণ যাত্রীরাও এই বিমানে উঠতে পারেন। এই বিমানটি যখন দিল্লি পৌঁছায় মোটামুটি সেই আরও চার পাঁচটি বিমান অন্য বিমানবন্দর থেকে এক যোগে লন্ডনগামী ও শুধুমাত্র দিল্লিগামী যাত্রী নিয়ে দিল্লিতে পৌঁছায়। এর পর প্রতিটি বিমানের লন্ডনগামী যাত্রীদের নিয়ে অন্য একটি বিমান লন্ডনের উদ্দেশ্যে উড়ে যায়। ফলে, প্রত্যকটি বিমানে ফাঁকা আসনের সংখ্যা অনেকটাই কমানো যায়।
১৯৭৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা এয়ারলাইন সর্বপ্রথম এই ব্যবস্থা চালু করে। বিমান সংস্থাটির আটালান্টা হাব থেকে দূরবর্তী শহরগুলোতে যাত্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সবকটি বিমান সংস্থার সে দেশের ছোট ছোট বিমানবন্দরগুলোর (কয়েকটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের ক্ষেত্রেও) জন্য এই ধরণের ব্যবস্থা রয়েছে।
হাব অ্যান্ড স্পোক ব্যবস্থা [উপস্থাপনার জন্যে ব্যবহৃত]
জেনে হোক বা না জেনে, এবার রাজ্য পরিবহণ দপ্তর শহরের পরিবহণের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা চালু করে দিল। তবে পরিবহণ দপ্তরের এই ব্যবস্থা খরচ কমানোর জন্য নয়, উল্টোডাঙা থেকে যে সমস্ত অটোরিকশা তথ্যপ্রযুক্তি তালুক সেক্টর ফাইভ, বিধাননগর, রাজারহাট ও ইকোস্পেসে যায় সেই অটোগুলোর জুলুমবাজি কমানোর জন্য।
দেখা গিয়েছে যে রোজ প্রায় কয়েকহাজার মানুষ কর্মসূত্রে উল্টোডাঙায় এসে সেখান থেকে সেক্টর ফাইভ, রাজারহাট বা ইকোস্পেস যান। আবার বিধাননগরের কয়েকশো বাসিন্দা রোজ উল্টোডাঙ্গা হয়ে অফিস যাওয়া-আসা করে থাকেন। এই যাত্রীদের মূল ভরসা অটোরিকশা পরিষেবা। কিন্তু অটোরিকশা চালকদের ব্যবহারে তাঁদের প্রাণ ওষ্ঠাগত। কিছুদিন আগে তো যাত্রীরা একজোট হয়ে পথে অবরোধ করে আন্দোলন করেছিলেন।
যাত্রীদের এই অবস্থা দেখেও অটো চালকদের জুলুমবাজি বন্ধ করতে এ বার আসরে নেমে পড়েছে রাজ্যের পরিবহণ দপ্তর। দপ্তরের তরফ থেকে উল্টোডাঙ্গা থেকে সেক্টর ফাইভ, রাজারহাট, বিধাননগর বা ইকোস্পেসের মতো ছোট ছোট রুটে বাস পরিষেবা চালু করবার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই ব্যবস্থায় সকাল আটটা থেকে বেলা সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত উল্টোডাঙা থেকে সেক্টর ফাইভ, বিধাননগর, ইকো স্পেস ও রাজারহাটের বাস ছাড়বে। বেলা সাড়ে এগারোটার পরেও বাস পাওয়া যাবে। তবে তখন বাসের সংখ্যা কিছুটা কম থাকবে। সন্ধ্যাবেলা ফিরতি পথেও এই একই ব্যবস্থা থাকবে। তখন বিভিন্ন জায়গা থেকে যাত্রী তুলে বাসগুলো উল্টোডাঙায় আসবে।
সরকার এখন পরিবেশ বান্ধব বাস ব্যবহার করে [নিজস্ব চিত্র]
এর ফলে যাত্রীরা বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উল্টোডাঙা অবধি এসে সেখান থেকে এই বাসে চেপে অফিস পৌঁছাতে পারবেন। আবার এই বাসগুলোতেই চেপে উল্টোডাঙা নেমে অন্য গাড়ি ধরে নিজেদের গন্তব্যে যেতে পারবেন। একেবারে বিমান সংস্থাগুলোর মতো হাব অ্যান্ড স্পোক ব্যবস্থা।
এই ব্যবস্থার ফলে বেশ কয়েকটি সুবিধা হবে। প্রথমত এই রুটগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা বেশ ভালোই। সরকার এই রুটে বাস চালালে বেশি টাকা আয় করতে পারবে। দ্বিতীয়ত, যদি ধরে নেওয়া যায় যে একটি বাসে ১৫ থেকে ২০টি অটোর যাত্রী (প্রতি অটোতে চারজন করে প্যাসেঞ্জার ধরে) উঠতে পারে তা হলে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা অনেকটাই কমে যাবে। ফলে যানজটের প্রবণতা কমবে। সরকারের এখন প্রতিটি বাসই বিএস ফোর টেকনোলজি যুক্ত। অর্থাৎ, পরিবেশ বান্ধব। সুতরাং পরিবেশও কম দূষিত হবে।
বিশেজ্ঞদের স্থির বিশ্বাস যে সরকারের এই ব্যবস্থা অচিরেই সাফল্যের মুখ দেখবে। সে ক্ষেত্রে, শহরের অন্যত্রও শুরু করা যেতে পারে এই 'হাব অ্যান্ড স্পোক' ব্যবস্থা

