গ্রহ আবিষ্কার করল ভারতও, কেমন করে খোঁজা হয় নতুন জ্যোতিষ্ক
সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন গ্রহের আবিষ্কর্তা বিজ্ঞানী অভিজিৎ চক্রবর্তী নিজেই
- Total Shares
নতুন গ্রহ আবিষ্কার করে এখন মহাকাশ গবেষণায় আরও এক বিরল কৃতিত্বের অধিকারী হল ভারত। আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নালে (the DOI of the article is 10.3847/1538-3881/aac436) তা প্রকাশিতও হয়েছে। সেই গ্রহের ভর পৃথিবীর চেয়ে ২৭ গুণ বেশি, এমন প্ল্যানেটরি সিস্টেম মহাবিশ্বে মাত্র ২৩টি রয়েছে (এই আবিস্কার ধরে) প্রভৃতি তথ্য এখন সকলেরই জানা। তবে প্রশ্ন হল, লক্ষ-কোটি জ্যোতিষ্কের মধ্যে কী ভাবে নতুন জ্যোতিষ্কের সন্ধান করেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা?
সেই উত্তরই দিলেন অধ্যাপক অভিজিৎ চক্রবর্তী। আমেদাবাদের ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরির অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান, যাঁর তত্ত্বাবধানে এই আবিষ্কার। অ্যাস্ট্রোনমি হল জ্যোতির্বিদ্যা আর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স হল জ্যোতিঃপদার্থবিদ্যা। আসলে জ্যোতিষ্ক আবিষ্কার করলেই তো হল না, তার গঠন না জানলে বোঝা যাবে কী করে সেটি গ্রহ নাকি নক্ষত্র নাকি অন্য কিছু?
নতুন গ্রহের সঙ্গে পৃথিবীর তুলনা
মহাকাশে কোথায় যে অনাবিষ্কৃত কোন জ্যোতিষ্ক রয়েছে, তা আগেভাগে বোঝা সম্ভব হয় না। নিরন্তর চোখ রেখে যেতে হয়। তিনি বলেন, “মহাকাশে লক্ষ লক্ষ জ্যোতিষ্ক রয়েছে। আমরা ২০১২ সাল থেকে ছ-বছর ধরে লক্ষ্য রাখছি। কী ভাবে এই কাজ করেছি সেটা একটু বুঝিয়ে বলি। যখন কোনও গ্রহ কোনও নক্ষত্রের চারদিকে ঘুরে বেড়ায় তখন আসলে সেটি একটি ভরকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। নক্ষত্রের ভর গ্রহের চেয়ে বেশি হয়। নক্ষত্রটিও একটি ভরকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। ঘটনা হল, এই ভরকেন্দ্রটি তারকার ভরকেন্দ্রের খুব কাছে থাকে। আমরা খুঁজতে অচেনা কোনও নক্ষত্রের কোনও অংশ কম্পিত হচ্ছে বা অস্থির হচ্ছে কিনা। যদি কম্পিত হয়, তা হলে সেই কম্পনের মাত্রা নির্ভর করে তাকে কেন্দ্র করে যে ভর আবর্তিত হচ্ছে, তার উপর। আমরা ওই নক্ষত্রের কম্পনের মাত্রা নির্ধারণ করার চেষ্টা করি। এর সময়কালও নির্ধারণ করি। দুই জ্যোতিষ্কের দূরত্ব ও তাদের অক্ষও এর সাহায্যে নির্ণয় করে থাকি। তবে আরও কয়েকটি বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত। স্পেক্টোগ্রাফের সাহায্যে আমাদের প্রথমেই লক্ষ্য করতে হয়, কোনও একটি নক্ষত্র কম্পিত হচ্ছে কিনা। জ্যোতিষ্কটির অতিক্রমণও লক্ষ করি। তবে অনেক সময় অন্য কোনও জোতিঃপদার্থবিদ্যা জনিত কারণেও মনে হতে পারে কোনও অতিক্রমণ ঘটছে। যেমন কোনও নক্ষত্র অন্য কোনও নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। তাই অতিক্রমণ দেখেই ধরে নেওয়া যায় না যে এটি একটি নক্ষত্র। আগে অতিক্রমণ নিয়ে নিশ্চিত হতে হয়। তার পরে আবিষ্কৃত জ্যোতিষ্কের ভরের পরিমাপ করতে পারলে তবেই নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে একটি গ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে।”
গুরুশিখর মানমন্দির
নাসা কি আগেই এই গ্রহ আবিষ্কার করেছিল বলে কোনও কৃতিত্ব দাবি করছে? অধ্যাপক চক্রবর্তী জানান, নাসা একটি জ্যোতিষ্ক আবিষ্কার করেছিল, তবে সেটি যে গ্রহ সে প্রমাণ তারা করতে পারেনি। সেটি কী ধরনের জ্যোতিষ্ক, সে ব্যাপারেও তারা নিশ্চিত ছিল না। ভারতই সেই প্রমাণ দিয়েছে, তাই এই কৃতিত্ব নাসা দাবি করেনি। তা ছাড়া গ্রহ আবিস্কারের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পরেই তার নামকরণ হয়। যেমন এই গ্রহটির নাম কে২ ২৩৬বি। নাসা থেকে এই আবিষ্কারের কৃতিত্বও ভারতকেই দিয়েছে।
কিন্তু এমন নাম কেন?
এই নাম হয় নির্দিষ্ট একটি নিয়ম মেনে। হাজার হাজার জ্যোতিষ্ক রয়েছে যেগুলি গ্রহ হলেও হতে পারে (প্ল্যানেটরি ক্যানিডেটস)। এটি ২৩৬ নম্বরের যেটি নিশ্চিত ভাবেই গ্রহ বলে আবিষ্কৃত। এটি কে২ ক্যান্ডিটেট তালিকায় ছিল। তাই এই নাম।
যখন কৃত্রিম উপগ্রহ মারফৎ এই আবিষ্কার হয়েছিল, তখনই তার একটি নাম দেওয়া হয়েছিল। তার পরে বিশ্বকে ভারত জানাল, এটি আসলে একটি গ্রহ।
ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি
একটি কথা অনেকেই জানেন, তবু বলে রাখা ভাল, ভারতে মানমন্দিরটি (অবজারভেটরি) রয়েছে মাউন্ট আবুতে নাম গুরুশিখর, যেখান থেকে ৬ বছর ধরে দেখার পরে আবিষ্কৃত হয়েছে এই গ্রহ।

