বিরাট জমানায় আজহারের ছায়া, একজন কী দু'জন ব্যাটসম্যানের উপরই নির্ভরশীল দল
চতুর্থ টেস্টে ভারতের হার অসম্মানের না হলেও, দুশ্চিন্তার তো বটেই
- Total Shares
তরী ডোবা ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন কিছু নয়। এর আগেও ডুবেছে। কখনও মাঝ-নদীতে আবার কখনও বা তীরে এসে। আজহারের ভারত যেমন বিদেশ সফরে ম্যাচের পর ম্যাচ আত্মসমর্পণ করে গেছে। সৌরভের ভারত সেদিক থেকে অনেকটা উন্নত। বঙ্গসন্তানের অধিনায়কত্বে বিদেশে সিরিজ জিততে শিখেছি আমরা। সিরিজ না হারাটাও কিছুটা হলে অভ্যেসে পরিণত করা গিয়েছিল। আর, এই সিরিজগুলোর বেশ কয়েকটি ম্যাচে তীরে এসে তরী ডুবেছিল ভারতের।
সৌরভ জমানার পর ধোনীর ভারত। আর এখন বিরাট কোহলি সেই দলের অধিনায়ক। সৌরভের মতোই বিরাট আক্রমণাত্মক। কোহলির ভারতীয় দলকে তাই সৌরভের ভারতের মতো আক্রমণাত্মক লাগে। ইংল্যান্ড সিরিজটাই দেখুন। প্রথম দুটি টেস্টে হারার পর তৃতীয় টেস্টে অনবদ্য জয়। চতুর্থ টেস্টেও আত্মসমর্পণ করেছে তা কখনই বলা যাবে না। আপাদমস্তক বোলিং উইকেটে দুই ইনিংসে অনবদ্য বল করেছেন বোলাররা। চতুর্থ ইনিংসে ২৪৪ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে তা পূরণে করতে ব্যর্থ হয়েছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা, লক্ষ্যের থেকে মাত্র ৬০ রান কম করে। তীরে এসে তরী ডুবেছে এবং আপাত দৃষ্টিতে মনে হতেই পারে ম্যাচের সঙ্গে সিরিজ হারলেই এই হার কোনও মতেই অসম্মানের নয়।
আজহারের ভারত একজন কী দু'জনের উপর নির্ভরশীল ছিল [ছবি: এএফপি]
হয়তো সত্যিই এই হার অসম্মানের নয়। তবে যথেষ্ট দুশ্চিন্তার। সৌরভের ভারতের সঙ্গে বিরাটের টিম ইন্ডিয়ার তুলনা চলতেই পারে। দুটি দলই যথেষ্ট আক্রমণাত্মক। দুটি দলেই প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের অন্ত নেই। কিন্তু বিরাটের ভারতীয় দলে তো আজহারের ভারতের দলের ছায়া চোখে পড়ছে। আর এই বিষয়টিই আতঙ্কে রাখছে সকল ভারত সমর্থকদের।
সৌরভের ভারতের ফ্যাব ফাইভ বলতে আমরা পাঁচজন ব্যাটসম্যানকে বুঝতাম যাঁরা প্রত্যেকেই একার হাতে ম্যাচ বের করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন। শুধু দেশের মাঠে নয়, বিদেশের মাটিতেও চূড়ান্ত সফল বীরেন্দ্র শেহবাগ, রাহুল দ্রাবিড়, সচিন তেন্ডুলকর, ভিভিএস লক্ষ্মণ ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সমৃদ্ধ সেই স্বপ্নের ব্যাটিং লাইনআপ।
সৌরভ জমানার ফ্যাব ফাইভ [ছবি: এএফপি]
এখানেই বিরাট বাহিনীর সঙ্গে তফাত সৌরভ বাহিনীর। আর, নব্বইয়ের দশকের আজহারের ভারতের সঙ্গে প্রভূত মিল। বিদেশের মাঠে বিরাটের দলেও তো ম্যাচ উইনিং ব্যাটসম্যান বলতে শুধু একজন কি বড়জোর দু'জন। এদের মধ্যে একজনের নাম বিরাট কোহলি। আর অন্যজন কখনও অজিঙ্ক রাহানে আবার কখনও চেতেশ্বর পূজারা রূপে আবির্ভূত হন।
সোমবারের কথাই ধরা যাক। ২৪৪ রান তারা করতে নেমে চতুর্থ দিনে একটা সময় ভারতের স্কোর ছিল ১২৩ রানে ৩ উইকেট। ভারত সমর্থকরা যখন আরও একটি ঐতিহাসিক জয়ের জন্যে তৈরি হচ্ছেন তখনই ঘটে গেল ছন্দপতন। মইনের বলে অ্যালেস্টার কুকের হাতে ক্যাচ তুলে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন বিরাট। পরের দু'ঘণ্টার মধ্যে ভারত চার উইকেটে ১২৩ রান থেকে ১৮৪ রানে অল আউট। শেষ ছয়ে উইকেট মাত্র ৬১ রান যোগ করা গেল।
সমর্থকদের আতঙ্কে রাখছে বিরাটের ভারত [ছবি: পিটিআই]
ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে বিরাটের ব্যাট থেকে এসেছে ৫৮ রান। রাহানে করেছেন ৫১। দু'জনের মিলিত রানের সংখ্যা ১০৯। অর্থাৎ, বাকি আটজন ব্যাটসম্যানের মিলিত রানের সংখ্যা মাত্র ৭৫ রান। স্কোরকার্ডটা দেখলে সৌরভ বা ধোনী নয়, নব্বইয়ের আজহারের ভারতের স্কোর কার্ডগুলোর সঙ্গে হুবুহু মিলে যাচ্ছে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
সিরিজের আর একটি টেস্ট বাকি। হয়তো নিয়মরক্ষার ম্যাচ জিতে সিরিজ ৩-২ করল ভারত। তাই বলে আহ্লাদে আটখানা হয়ে সম্মানের হার বলে আপ্লুত হলে চলবে না। এই ভাবে আত্মসমর্পণ করা কাটিয়ে উঠতেই হবে।

