ঈশ্বর মহিলা না পুরুষ? এই বিতর্কে মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র কেন এখন সরগরম?
ভাবনাটি পুরোনো হলেও সময়টা তাৎপর্যপূর্ণ
- Total Shares
ঈশ্বর মহিলা না পুরুষ সম্প্রতি এই নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। মিশনারি স্কুলের প্রার্থনায় ঈশ্বরকে 'পিতা' রূপে দেখানো হয়েছে, এখন যাঁর শাসন খুব দরকারি হয়ে পড়েছে।
বিষয়টার আরও একটা সুন্দর দিক রয়েছে।
বিতর্কটি তৈরি হয়েছে আমেরিকায় যেখানে এর আগে #মি-টু আন্দোলনটি ও পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মারমুখী ও পুরুষালী পুরুষের ভাবমূর্তির প্রচারের লড়াই একদম হাড্ডাহাড্ডি হয়ে উঠেছে।
ঈশ্বর মহিলা না পুরুষ?
খ্রিস্টানদের পক্ষে ঈশ্বরকে মহিলার রূপে কল্পনা করাটা বোধহয় সম্ভব নয়, আবার তা করলে হয়তো লিঙ্গ বৈষম্যের বিতর্ক উঠতে পারে। তা হলে ঈশ্বরকে কী মহিলা বা পুরুষের রূপ না দিয়ে নিরপেক্ষ ভাবা যায় না? আমেরিকার এপিস্কোপাল চার্চ এখন এই ধরণের একটা ভাবনার কথা ভাবছে।
কিন্তু এখন কেন?
ভাবনাটা নতুন নয়। এর আগে বহু চার্চ ঈশ্বরকে সম্মোধন করার সময় কিছু নিরপেক্ষ শব্দ বা নিরপেক্ষ ভাষা ব্যবহার করত। ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের চার্চে প্রথমবার একজন মহিলা পাদ্রী পদে নিযুক্ত হলে ভগবানকে মহিলার রূপ দেওয়া শুরু হল। ২০১৭ সালে সুইডেনের চার্চ ঈশ্বরকে পুরুষ হিসেবে দেখা বন্ধ করল এবং ঈশ্বরকে 'লর্ড' বলাও বন্ধ করল।
বাইবেলের নতুন অনুবাদেও ভাষার ব্যবহারে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। উপমা স্বরূপ, “সেই পুরুষ বা তাঁর পুত্র কে যে তুমি তাঁর বিষয় সচেতন?”। ১৯৮৯ সালে কিং জেমসের বাইবেলের সম্পূর্ণ নতুন সংস্করণে এই বাক্যটিকেই বদলে লেখা হল, "কে এই ব্যক্তি যে তুমি তাঁর বিষয় চিন্তিত, মানবজাতি মরণশীল তাই কেন তুমি তার ব্যাপারে সচেতন?"
তাই ভাবনাটি পুরোনো হলেও সময়টা তাৎপর্যপূর্ণ।
যদিও হলিউডের প্রাক্তন পুঁজিপতি হার্ভে উইনস্টন এখন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তবে তাঁর ধর্ষণ ও যৌন অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমেরিকায় যে দীর্ঘ #মি-টু আন্দোলনটি (#MeToo) শুরু হয়েছিল তা শুধুমাত্র হলিউড ও সেই দেশেই সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল।
আন্দোলনটির মহিলা ও পুরুষ নির্বিশেষে বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল যা এপিসকোপাল চার্চও অস্বীকার করতে পারবে না।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদন অনুসারে শিকাগোর বিশপ জেফ্রি লি বলেন যে ভাষাকেও যে নিরপেক্ষ হতে হবে সে বিষয়টিও সামনে উঠে এসেছে মি-টু আন্দোলনের হাত ধরে। ঈশ্বরের লিঙ্গ নির্ধারণ কমিটির অন্যতম সদস্য হলেন লি।
তিনি বলেন, “ঈশ্বরকে সম্বোধনের ভাষা যদি পুরুষালি হয় এবং সেই ঈশ্বরকেই যদি শক্তির উৎস হিসেবে দেখানো হয় তাহলে তা ঈশ্বরের এক অসম্পূর্ণ চিত্র অঙ্কিত হবে… ঈশ্বর কী সেটা ভাষায় বোঝানো যায় না। আমরা ঈশ্বরের সম্বন্ধে অনেক সত্যি কথা বলতে পারলেও যে রহস্যটাকে আমরা ঈশ্বর বলে সম্বোধন করে থাকে তাঁর ব্যাপ্তি বোধহয় আমরা কেউ কোনও বুঝতে। পারব না।"
Episcopal Church considers making God gender neutral https://t.co/gIs3hPZTc6
— Fox News (@FoxNews) 7 July 2018
তবে এখনও পর্যন্ত যা মনে হচ্ছে বিতর্কটা খুব একটা সহজে মেটার নয় কারণ এখানে 'দা বুক অফ কমন প্রায়ারের' ভাষা বদলে দেওয়ার বিরোধিতা অনেকেই করবেন।
তবে এই বিষয়টা ভেবে দেখুন:
এপিসকোপল চার্চের দু'জন নপুংসক সদস্য জানান যে কিছু পুরুষালি শব্দের ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ঈশ্বর সম্বন্ধে কিছু বোঝানো খুব একটা সহজ কাজ ছিল না। ক্যালিফোর্নিয়া শহরের ডায়াসেসের একজন সহকারী বলেন যে সম্প্রতি একজন মহিলার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সময় মৃত মহিলাকে পুরুষ হিসেবে সম্বোধন করার সময় তার খুব অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল।
লিঙ্গ বৈষম্যকে ঘিরে আন্দোলন এখন যৌন হেনস্থার গণ্ডী পেরিয়ে আধ্যাত্মিক দুনিয়াতেও ঢুকে পড়ছে। নিদেনপক্ষে বিষয়টি নিয়ে একটা বিতর্কের সূচনা তো হল!
একটু দেরি হয়ে গেলেও এটা যথেষ্ট বড় পদক্ষেপ।
ঈশ্বর মঙ্গলময়।
লেখাটি ইংরেজিতে পড়ুন

