জেনে নিন ক্লান্তি ও মানসিক চাঞ্চল্য দূর করতে কী খাবেন

“জীবনে খুব তাড়াহুড়ো করবেন না, একটু ধীর গতিতে এগোন”

 |  4-minute read |   16-06-2018
  • Total Shares

প্রত্যেকদিন বহু মানুষ আমাকে বলেন যে তাঁরা কোনও কাজে যেন উৎসাহ পান না, খুব খিটখিটে হয়ে থাকেন, মাথার ভেতরটা যেন ঘোলাটে হয় থাকে, কোনও কাজে যেন ১০০ শতাংশ  দিতে পারেন না ও দুপুরবেলার দিকে অসম্ভব ঝিমুনি ভাব থাকে। আমি যাঁদের কথা বলছি এঁরা সবাই অল্পবয়সী, বয়স বড় জোর ২০ থেকে ৩০এর মধ্যে। তাদের কী সমস্যা? এগুলো কী আদৌ কোনও সমস্যা নাকি এগুলো মানসিক?

লক্ষণগুলো স্পষ্ট ইঙ্গিত করছে এড্রিনালিন গ্রন্থি জনিত শারীরিক ক্লান্তির দিকে। একটু পরিষ্কার করে বলি। মানুষের শরীরে কিডনির ঠিক উপরে এই গ্রন্থিটি থাকে। গ্রন্থিটির থেকে যে হরমোনটি নিঃসৃত হয় তা আমাদের হৃদযন্ত্র, কিডনি, পাচনতন্ত্র (গ্যাস্ট্রোইন্টেরেটিনাল ট্রাক্ট), হাড়ের স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও যৌনাঙ্গ সুস্থ রাখে।

f_body_061618081933.jpg

গ্রন্থিটি আমাদের শরীরে রক্তশর্করার মাত্রা ঠিক রাখে, খাবারের স্নেহ পদার্থ, প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেড রূপান্তরিত করে শরীরে শক্তি যোগায়, মানসিক চাপ মুক্ত করে, দ্রুত ক্ষত সারাতে সাহায্য করে ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। আসল কথা হল এটি আমাদের শরীরের রোজকার কাজকর্মগুলো ঠিকঠাক চালিয়ে যাওয়ার পেছনে একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে।

তাই আমরা যখন কোনও গভীর মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাই যেমন কোনও নিকট আত্মীয়র মৃত্যু অথবা দীর্ঘদিনের কোনও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া কিংবা পড়াশোনা ও চাকরি জীবনের চাপ, তখন এড্রিনাল গ্রন্থিটির উপর অসম্ভব চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে খুব নিস্তেজ ও দুর্বল লাগে ও সব সময় ভীষণ মানসিক অবসাদ অনুভূত হয়।

f_body2_061618082037.jpg

কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ হল ক্লান্ত লাগা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, ভালো করে ঘুম না হওয়া ও কিছুক্ষন অন্তর খিদে পাওয়া। এছাড়া সকাল বেলায় ঘুম ভাঙলেও যেন বিছানা ছাড়তে অনীহা, মানসিক চাপ নিতে না পারা, অতিরিক্ত নোন খাবার খাওয়ার ইচ্ছে হওয়া, যে সব পানীয় বা খাবারে ক্যাফেইন রয়েছে সেই জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়া, মানসিক চাঞ্চল্য, শ্বাসকষ্ট, ছোটোখাটো চাপ না নিতে পারা ও ওজন কমে যাওয়া।

এরগুলি থেকে দূরে থাকুন

আসল সমস্যাটা হল পেশাগত কারণের আমাদের অনেককেই দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয় এবং এযুগের জীবনধারা আমাদের শরীরের স্বাভাবিক গতির সঙ্গে খাপখাওয়াতে পারে না। তাই এড্রিনাল গ্রন্থিটির স্বাভাবিক কাজ বন্ধ হয় যায়। ক্লান্তি ভাবটা কিন্তু হটাৎ করেই অনুভূত হয় না বরং দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের শরীর অনিয়মগুলোর সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে ধীরে ধীরে শ্লথ হয়ে পরে।

এই ক্লান্তি ভাব কাটিয়ে উঠতে লেগে যায় প্রায় মাসখানেক। এই সময়টা দেওয়া খুব প্রয়োজন। আমাদের জীবনধারায় যদি একটু রদবদল করা যায় তাহলেই এই সমস্যাটির থেকে আমরা যেমন দূরে থাকতে পারব তেমনই এই সমস্যার থেকে মুক্তিও পেতে পারব। সুস্থ থাকার জন্য অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিটির প্রয়োজন ভিটামিন, খনিজ ও অ্যামিনো অ্যাসিডের।

প্রত্যেকদিনের দৌড়াদৌড়ি থেকে একটু অবসর নিন ও গ্রন্থিটিকেও একটু বিশ্রাম দিন। পাশাপাশি যদি ঠিকঠাক খাবারদাবার খাওয়া যায় তাহলে আশ্চর্য্য রকম ফল পাবেন। তাই  যদি এই সমস্যার সম্মুখীন না হতে চান তাহলে ঠিকঠাক ও নিয়ন্ত্রিত খাবারদাবার খান। 

এই নিয়মগুলো মেনে চলুন

এমন খাবারদাবার খান যার থেকে আপনার শরীর মোটামুটি সবকটি পুষ্টি পাবে এবং যেই খাবারগুলো খেলে শরীরে ব্যথা হবে না। খাদ্যতালিকায় রাখুন মাছ। কারণ মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ রয়েছে। এছাড়াও ফ্যাক্সসিড (flaxseeds) ও আখরোটেও ওমেগা ৩ রয়েছে। পাশাপাশি এমন খাবারদাবার খান যাতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যেমন বেড়ি ও টক জাতীয় ফল, সবুজ শাকপাতা, মিঠে আলু বাদাম ও শস্য।

f_body3_061618082054.jpg

দানা জাতীয় শস্য, রাজমা জাতীয় ডাল, অন্যান্য ডাল, ও সয়ার বিভিন্ন দ্রব্য যে গুলোতে গ্লাইসেমিক সূচকের মাত্রা কম।

হলুদ জাতীয় ভেষজ দ্রব্য খান।হলুদে রয়েছে কুরকুমিন। প্রত্যেকদিন খাবারে কিছুটা করে আদা ও রোজমেরি খান।

মাছের মধ্যে যে সব মাছ তৈলাক্ত সেগুলো খান যেমন স্যালমন, ম্যাকরল ও সার্ডিন। এছাড়াও খান অলিভার তেল, নারকেল তেল ও সাফলা তেল ।

f_body4_061618082110.jpg

শরীরের ক্লান্তিকে দূর করতে হলে প্রচুর পরিমাণে ভালো স্নেহ পদার্থগুলি খান, এতে শরীরের রক্তশর্করার মাত্রা ঠিক থাকে।

বেশি চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাবেন না কারণ এগুলো খেলে গ্রন্থিতিতে বাড়তি চাপ পরে। তার চেয়ে বরং এমন খাবার খান যেগুলো মিষ্টি স্বাদের যেমন খাঁটি ম্যাপেলের রস ও গুড়।

অশ্বগন্ধা খান। কারণ এই প্রাকৃতিক ভেষজটি মানসিক চাপ লাঘব করতে সহায়তা করে ও এড্রিনাল গ্রন্থিটিকে ভালো রাখে। এটিকে ভারতের জেনসিং ও বলা হয়। অশ্বগন্ধা খেলে শরীরে কর্টিজোলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ও শরীরকে ঠান্ডাও শান্ত  রাখে।

f_body5_061618082127.jpg

এটি শরীরের অবাঞ্চিত ফোলা ভাব থেকে মুক্তি দেয় ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

অবশেষে বলব জীবনে খুব তাড়াহুড়ো করবেন না, একটু ধীর গতিতে এগোন। যদিও বলাটা যতটা সহজ কিন্তু কাজে করাটা অটোটাই কঠিন, কিন্তু সুস্থ থাকতে হলে উপায় এই একটিই ।

লেখাটি ইংরেজিতে পড়ুন 

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

KAVITA DEVGAN
Comment