স্মরণে কুলদীপ নায়ার: এক আপোষহীন সম্পাদক, বিবেকবান মানুষ
৯৫ বছর বয়সে প্রয়াত সেই আপোষহীন সাংবাদিক ও সামাজিক স্বাধীনতার প্রবক্তা
- Total Shares
২০০৪ সালে পাটিয়ালায় এক ভারত-পাক আলোচনাসভায় প্রবীণ সাংবাদিক কুলদীপ নায়ার বলেছিলেন জরুরি অবস্থা ও সিয়ালকোটে (অধুনা পাকিস্তানে) তাঁর নিজের শহরে এক দরগার কথা।
Passing away of Kuldip Nayar, journalist, author, parliamentarian & diplomat, above all, best friend of Pakistan in India, great loss to peace & good neighbourliness in South Asia; Sialkot-born, he loved Lahore, took part in first Pakistan-India Track 2 held in Islamabad in 1984.
— Mushahid Hussain (@Mushahid) August 23, 2018
As a reporter and an editor, Kuldip Nayar’s home was the newsroom of The Indian Express. Where he will live forever.
— Raj Kamal Jha (@rajkamaljha) August 23, 2018
Kuldip Nayar, 95, wrote this column before his final exit. The day he was cremated at Lodhi his column appeared in Lokmat Times! He criticised the government for its vote-bank politics over NRC. His spirit to keep on working and his warmth will be greatly missed. pic.twitter.com/8ZMTQAvzpZ
— Sheela Bhatt (@sheela2010) August 23, 2018
Extremely greived at Kuldip Nayar's Sad demise. Great proponent of indo pak amity ,thorough professional. Will miss him
— Ahmed Arif Nizami (@paktoday) August 23, 2018
দেশে জরুরি অবস্থার সময়ে নায়ারকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছিল এবং তিনি কারার অন্তরালে থাকার সময় তাঁকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কদাচিৎ দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এমন একদিন, যখন তিনি পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন, তযখন তাঁর মা তাঁর কাছে এসে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেলেন: “আগামী বৃহস্পতিবার তোমাকে ওরা ছেড়ে দেবে।”
তখনও জরুরি অবস্থা শেষ হওয়ার কোনও লক্ষণ নেই, তবে একটা ফিসফিসানি শোনা যাচ্ছিল যে, জরুরি অবস্থার ওইসব ভয়ানক কঠোর নিয়মগুলি রদ করা হতে পারে। কারাগারের পিছনে থাকলেও এ ব্যাপারে খানিকটা জানতেন কুলদীপ নায়ার, বন্দিদশা থেকে তাঁর মুক্তি পাওয়া তখন দূর অস্ত্।
কুলদীপ নায়ার ১৯২৩-২০১৮ (উইকিমিডিয়া কমনস)
কী ভাবে এ কথা জানলেন, তা তাঁর মা নিজেই ভাঙলেন, সিয়ালকোটের এক পিরের কথা তিনি বললেন, “গতকাল রাতে সিয়ালকোটের পির স্বপ্নে আমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন।”
তিনি বললেন, “পিরবাবা আমাকে বললেন যে তুই সামনের বৃহস্পতিবার ছাড়া পাবি।” নায়ার মন দিয়ে সে কথা শুনলেও কোনও উত্তর দিলেন না। যখন দেশ ভাগ হয়েছিল তখন নায়ারের বয়স ছিল ২৪ বছর, তাই সিয়ালকোটের দরগার ব্যাপারটি তাঁর নখদর্পণে ছিল।
তাঁর মা যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তেইমতোই নায়ারের মুক্তির নির্দেশনামা লেখা হল। তবে পরের দিন নির্দেশের প্রতিলিপি যখন বন্দিশালায় এসে পৌঁছাল, শেষ পর্যন্ত তখনই তিনি ছাড়া পেলেন। ছাড়া পাওয়ার পরে তাঁর মা নায়ারকে বললেন, সিয়ালকোটে ওই পিরের দরগায় একটা চাদর চড়াতে। বেশ কয়েয়কমাস পরে নায়ার সেই কথা রাখার জন্য সিয়ালকোটে যান এবং পুজো দেন।
এই গল্প থেকে নায়ারের ব্যক্তিত্বের দুটি দিক উঠে আসে – ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের উপরে অবিচল থাকা (এ জন্যই তিনি কারারুদ্ধ হন) এবং ভারত-পাক শান্তি প্রক্রিয়ায় তাঁর ঐকান্তিক সমর্থন।
দিল্লি প্রেস ক্লাবের হয়ে জরুরি অবস্থার বিরোধিতা করে তাঁর সইসংগ্রহ অভিযানই তাঁর গ্রেপ্তার হওয়াকে ত্বরাণ্বিত করেছিল। তিহার জেলে নায়ারের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং তার পরে জরুরি অবস্থা নিয়ে তাঁর বলিষ্ঠ লেখা তাঁকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার একজন একনিষ্ঠ সৈনিক এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার এক প্রবক্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে। এক দশক পরে যখন ইন্দিরার পুত্র রাজীব গান্ধী ডিফেমেশন বিল ১৯৮৮ আনেন, তখনও তিনি প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন।
যদি আগের প্রজন্ম তাঁকে সামাজিক স্বাধীনতার জন্য জেনে থাকে তা হলে পরের প্রজন্ম তাঁকে জানবে শান্তিকামী হিসাবে। ভারত-পাক শান্তি প্রক্রিায়ার একজন অদম্য যোদ্ধা কুলদীপ নায়ার ওয়াগা-আটারি সীমান্তে মোমবাতি নিয়ে মিছিস করেছিলেন যেটা তাঁর সময়ে করা সত্যিই বড় ব্যাপার ছিল। আমার সঙ্গে কথোপকথনে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জন্য একটি সংবাদ সংস্থার স্বপ্নের কথা বার বার উঠে এসেছিল।
তাঁর প্রশ্ন ছিল, “ভারত কেন পশ্চিমি সংবাদসংস্থাগুলোর থেকে পাকিস্তানের কোনও ঘটনা সম্বন্ধে জানবে?” তিনি বলতেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় পরিষেবা দেবে এমন সংবাদ সংস্থার কথা ভাবা উচিত,” এই সম্ভাব্য সংবাদসংস্থার একটি নামও ভেবেছিলেন – সাউথ এশিয়া নিউজ সার্ভিস (সানস)। সামস তৈরি হলে সিয়ালকোটের সেই পির নিশ্চয়ই খুব খুশি হতেন।
লেখাটি পড়ুন ইংরেজিতে

