গতি ছিল তাঁর অত্যন্ত প্রিয়, সেই গতিই কেড়ে নিল কুলুথুঙ্গনর জীবন

চেন্নাই থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের আসিয়ান জয়ী সদস্য

 |  2-minute read |   29-07-2018
  • Total Shares

২০০৩ সালে ২৬ জুলাই ইন্দোনেশিয়ায় আসিয়ান কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। কোনও ভারতীয় ক্লাবের বিদেশের মাটিতে সাফল্যগুলোর মধ্যে যা অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই লালহলুদ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তামিলনাড়ুর মিডফিল্ডার কালিয়া কুলুথুঙ্গন।

ইস্টবেঙ্গলের ঐতিহাসিক জয়ের ১৫ বছর উদযাপনের ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুরে এক পথ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪১ বছরের এই প্রাক্তন ফুটবলার। খবরের প্রকাশ, ছোটদের একটি ফাইভ-এ-সাইড টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন তিনি। ওই মাঠ থেকে তার বাড়ির দূরত্ব মাত্র ২ কিলোমিটার। কিন্তু ফিরতি পথে একটি ব্রিজে উঠতে গিয়ে বাইকের চাকা পিছলে গিয়ে ব্রিজের রেলিংয়ে ধাক্কা মারে তাঁর বাইকে। তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কলকাতায় অবশ্য শুধু ইস্টবেঙ্গলের নয়, কুলুথুঙ্গন মোহনবাগান, মহামেডান স্পোর্টিং এমনকি ভবানীপুর এফসির হয়েও খেলেছেন। সর্বভারতীয় স্তরে খেলেছেন ভিভা কেরালা, মুম্বই এফসি-র হয়ে। তিনি একসময় তামিলনাড়ুর সন্তোষ ট্রফি দলের অধিনায়ক ছিলেন। তিনি অবসর নেন ২০১৪ সালে।

body_072918070927.jpgআসিয়ান জয়ী ইস্টবেঙ্গল দলের সদস্য ছিলেন তিনি

তবে তাঁর ফুটবল জীবনের সোনার সময় ছিল যখন তিনি ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলতেন। ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত লাল-হলুদ জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন। ওই সময়ের মধ্যে আশিয়ান কাপ ছাড়াও দু’বার আই লিগ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল দল। বাইচুং ভুটিয়া, ওকোরো, জুনিয়র, বিজেন, ষষ্ঠী দুলে, রমণ বিজয়নদের সঙ্গে খেলেছেন তিনি।

স্বভাবতই, তাঁর মৃত্যুতে শহরের ফুটবলমহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের তরফে টুইট করে তাঁর স্মৃতির উদ্দেশে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়েছে।

শোক প্রকাশ করে টুইট করেছেন প্রাক্তন ফুটবলার হেনরি মেনেজেসও।

 

body1_072918070949.jpgগাড়ি চালাতে ভালোবাসতেন, চেন্নাই থেকে গাড়ি চালিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন

স্মৃতি হাতড়ে তাঁর ইস্টবেঙ্গলের সহকর্মী আলভিটো ডি'কুনহা নিজের কলমে লিখেছেন, "২০০২ সালে আমি আর কুলু একই সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলে সই করেছিলাম। .. ওর সঙ্গে কথা বলে বুঝি ওর মধ্যে লুকিয়ে আছে এক মজার মানুষ। ওর ভুলভাল হিন্দিতে ইয়ার্কি আমাদের মেসকে জমজমাট করে রাখত।"বাবার মৃত্যু হয়েছিল অনেক কম বয়সে। বর্তমানে, কুলুর সঙ্গে থাকতেন তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রা ও চার ছেলে-মেয়ে।

তাঁর সহ ফুটবলারদের মতে ফুটবলার হিসেবে কুলুথুঙ্গনের সবচেয়ে বড় সাফল্য তিনি সব পজিশনেই খেলতে পারতেন। মূলত উইঙ্গার হলেও তিনি উইথড্রন স্ট্রাইকার, সাইড ব্যাক এমনকি স্ট্রাইকার হিসেবেও স্বচ্ছন্দ ছিলেন।

মাঠের বাড়িয়েও গতি অত্যন্ত পছন্দের ছিল কুলুথুঙ্গর। ২০১২ সালে ভবানীপুরে খেলার সময় চেন্নাই থেকে গাড়ি চালিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন। আর, আজ সেই গতিই কেড়ে নিল তাঁর প্রাণ।

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

Comment