প্রত্যেকদিন মাইক্রোওয়েভের খাবার খাচ্ছেন? জানেন সেই খাবার ঠিক কতটা নিরাপদ

শিশু এবং অল্পবয়সীদের মধ্যে মাইক্রোওয়েভ থেকে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ

 |  3-minute read |   25-07-2018
  • Total Shares

নিঃসন্দেহে মাইক্রোওয়েভ ওভেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি অসাধারণ আবিষ্কার যা সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রাকে আরও সহজ করে দিয়েছে। এখন প্রায় সকলের সংসারের একটা অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে মাইক্রোওয়েভে। জীবনের চাপ যেমন বাড়ছে তেমন ভাবেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জীবনের গতিও তাই এই গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সব কাজ দ্রুত করতে চাই আমরা।

রান্নায় অনেক সময় বেরিয়ে যায়। তাই খুব শ্রুত রান্নাবান্নার পাঠ শেষ করতে  মাইক্রোওয়েভ ওভেনে আমাদের জীবনের অন্যতম বন্ধু। ডাল বানানো থেকে শুরু করে মাংস ও মিষ্টি সব কিছুই নিমেষেই তৈরি হয়ে যাচ্ছে এই যন্ত্রটির সাহায্যে।

তবে মাইক্রোওভেয়ের রান্না শরীরের ঠিক কতটা ক্ষতি করে তা নিয়ে রয়েছে বিস্তর তর্ক-বিতর্ক। বহু চিকিৎসক মনে করেন মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করা বা রান্না করা হলে তার থেকে ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগ হতে পারে।

body1_072518093814.jpgমাইক্রোওয়েভ নিঃসন্দেহে মানুষের ব্যস্ত জীবনে অনেকটা স্বস্তি এনে দিয়েছে

তবে সাধারণ বুদ্ধি দিয়ে বিচার করতে হলে কখনও কী মনে হয়ে না যে শক্তিশালী রেডিয়েশন দিয়ে চটজলদি যে রান্নাগুলো হয়ে যাচ্ছে তার কী আমাদের শরীরের উপর কোনও প্রভাব নেই?

গ্যাস্ট্রোযেনটেরোলজিস্ট চিকিৎসক অপূর্ব কুমার পাল বলেন, "আমি মনে করি মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করা বা খাবার রান্না করা কোনও কাজের কথা নয় কারণ পাঁচ মিনিট বা দশ মিনিটের মধ্যে খাবারকে গরম করতে হলে বা রান্না করতে হলে ৫০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডেরও অনেক বেশি তাপ ব্যবহার করা হয়। উচ্চ তাপমাত্রা ও শক্তিশালী রেডিয়েশন খাবারের গুনাগুন নষ্ট করে। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন রকম ক্ষত সাধন করে।" তিনি বলেন গ্যাস বা উনোনের আগুনের তাপেও খাবারের পুষ্টিকর নিউট্রিয়েন্ট নষ্ট হয় কিন্তু মাইক্রোওয়েভে রান্না করলে রেডিয়েশন এই উচ্চ তাপমাত্রার সৃষ্টি করে। রেডিয়েশনের থেকে বিভিন্ন শারীরিক বিভ্রাট ঘটে।

মাইক্রোওয়েভ ওভেন যেমনই আমাদের জীবনকে অনেকটা সহজ করে দিয়েছে ঠিক তেমন ভাবেই মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারের ফলে খুব সহজেই আমাদের শরীরে অজান্তেই বাসা বাঁধছে বিভিন্ন অসুখ, এমন কী মারণ ক্যান্সারও।

মাইক্রোওয়েভ ওভেন থেকে রেডিয়েশন নির্গত হয়। এই রেডিয়েশনের ফলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ক্ষতি হতে পারে। অসুস্থ ব্যক্তির কখনও মাইক্রোওয়েভ ওভেনে তৈরি বা গরম করা খাবারদাবার খাওয়া উচিত নয়।

body2_072518093922.jpgপ্রচুর তাজা শাকসবজি খান

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ আশীষ মুখোপাধ্যায় বলেন যে মাইক্রোওয়েভ ওভেন থেকে ইলেট্রোম্যাগ্নেটিক রশ্মি নির্গত হয় তবে এই রশ্মি খুব ধীরে ধীরে কম মাত্রায় নির্গত হয়ে বলে এক্সরে, সিটিস্ক্যান বা অন্যান্য চিকিৎসা পধতিতে ব্যবহৃত রেডিয়েশনের মতো হটাৎ করে কোনও ক্ষতি করতে পারে না তবে নিয়মিত ভাবে যদি মাইক্রোওয়েভের খাবার খাওয়া হয় তাহলে নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকর। দীর্ঘদিন ধরে মাইক্রোওয়েভের খাবার খাওয়া হলে কোষের অক্সিজেন ভেঙে গিয়ে স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর ফ্রি রেডিক্যাল তৈরি করে, এর ফলে ক্যান্সারের আশঙ্কা থাকে। মুখ দিয়ে খাবার খাওয়া হয় তাই মুখের ক্যান্সার থেকে শুরু করে খাদ্যনালী, পাকস্থলী, কোলন এমনকি শ্বাসনালীর ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।"

ডা. মুখোপাধ্যায় বলেন মাইক্রোর খাবার খেলে বয়স্কদের মধ্যে যতটা সমস্যা দেখা দিতে পারে তার চেয়ে অনেক বেশি সমস্যা শিশুরদের ও অল্পবয়সীদের হতে পারে। কারণ শিশুরদের ও অল্পবয়সীদের শহরের বিভিন্ন কোষ, পেশী ও অনন্য অঙ্গগুলোর তখনও খুব সক্রিয় থাকে। আঠারো বছরের নিচে যাদের বয়স তাদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। শিশু এবং অল্পবয়সীদের মধ্যে মাইক্রোওয়েভ থেকে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ।

মাইক্রোওয়েভ নিঃসন্দেহে মানুষের ব্যস্ত জীবনে অনেকটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। তাই মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করার কয়েকটি সহজ পদ্ধতি মেনে চললেই আমরা অনেক রকম শারীরিক সমস্যার হাত থেকে রেহাই পেতে পারি। যেমন কোনও খাবার মাইক্রোতে গরম করার পর সঙ্গে সঙ্গে না খেয়ে একটু ঠান্ডা করে খেলে রেডিয়েশনের জন্য যে তাপটা সৃষ্টি হয়েছিল সেটা কিছুটা দূর হয়। মাইক্রোওয়েভ ওভেনের তরঙ্গ নির্দিষ্ট মাত্রায় সীমিত রাখতে হয়।

body3_072518093845.jpgমাইক্রোওয়েভ ওভেনের উচ্চ তাপ বিকিরনের ফলে খাদ্যের বিভিন্ন পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়

মাইক্রোওয়েভ ওভেনের উচ্চ তাপমাত্রা বিকিরনের ফলে খাদ্যের বিভিন্ন পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। একান্তই যদি মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাবার গরম করতে হয় বা রান্না করতে হয় তাহলে মাইক্রোওভেন সেফ অর্থাৎ যেসব বাসনপত্র মাইক্রো ওভেনের পক্ষে উপযোগী তেমন জিনিস যেমন কাঁচের পাত্র বা সিরামিকের পাত্রতেই গরম করা উচিত। মাইক্রোওভেনে প্লাস্টিকের বাটিতে খাবার গরম ও রান্না করা করলে তা শরীরের পক্ষে মারাত্মক প্রমাণিত হতে পারে।

তাই যাঁরা অনেক পরিমাণে মাইক্রোওভের রান্নাবান্না খান তাঁদের আমি বলব প্রচুর তাজা শাকসবজি খেতে হবে এবং সপ্তাহে দুবার কি তিনবার মাইক্রো ব্যবহার করলে মাইক্রোওয়েভের কুপ্রভাব অনেকটাই কম হয়।

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

Comment