সুষম আহারের জন্য যে সব খাবারে এই সাতটি খনিজ রয়েছে সেগুলিও খান
অতি অল্প মাত্রায় প্রয়োজন, তবু শরীর সুস্থ থাকতে এই সব খনিজের ভূমিকা যথেষ্ট
- Total Shares
শরীরের জন্য পুষ্টিকর খনিজ বলতে আমাদের মাথায় আসে লোহা বা আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম আর সাম্প্রতিক কালে এই তালিকায় যোগ হয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং দস্তা বা জিঙ্ক। শুধুমাত্র এই কয়েকটি খনিজের কথা মাথায় রেখে আমরা এমন খাবারের পেছনে ছুটি যাতে এগুলি রয়েছে। এই জন্য যদিও গণমাধ্যমকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা উচিত। শরীর সুস্থ ও সতেজ থাকতে এবং রোগ মুক্ত থাকতে এগুলো ছাড়াও আরও অন্যান্য কয়েকটি খনিজের প্রয়োজন রয়েছে। অন্য যে সব খনিজের কথা আমরা মাথায় রাখি না সেগুলোকে 'মাইক্রো মিনারেল' বলা হয় অর্থাৎ এই খনিজগুলি আমাদের শরীরে খুব অল্প পরিমাণে প্রয়োজন পড়ে তাই এগুলি 'মাইক্রো মিনারেল' বা 'ট্রেস মিনারেল'।
আপেলে বোরন থাকে
এখানে এরকম সাতটি খনিজের সম্বন্ধে আলোচনা করা হল যেগুলো সম্বন্ধে আমাদের জেনে নেওয়া উচিত।
বোরন
ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও তামা আমাদের অস্থিকে সুস্থ রাখে আর শরীরে এই খনিজের পরিপাকে সহায়তা করে বোরন। এ ছাড়াও সার্বিক ভাবে স্বাস্থ্য ও অস্থি ভালো রাখে এমন দুই হরমোন ইস্ট্রোজেন ও টেস্টোস্টেরনের উপরেও এর প্রভাব রয়েছে।
উৎস: আপেল, গাজর, আঙুর, বাদাম, নাশপাতি ও খোসা সমেত শস্য।
ক্লোরাইড
শরীরে ক্লোরাইড ও সোডিয়াম ঠিকঠাক ভাবে কাজ করে রক্তে ক্ষারের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ক্লোরাইড শরীরে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড তৈরি হতে সহায়তা করে। হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড একটি শক্তিশালী উৎসেচক যা খাবার হজম করায়। হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড পাকস্থলীতে প্রোটিন ও ধাতুর আত্মীকরণে সহায়তা করে।
টম্যাটো থেকে ক্লোরাইড মেলে
উৎস: নুনে সোডিয়াম ক্লোরাইড থাকে যা থেকে আমরা ক্লোরাইড পাই। কেল্প নামে এক বিশেষ সামুদ্রিক উদ্ভিদ থেকেও ক্লোরাইড পাই। এছাড়াও জলপাই, সাদা সরষে, টম্যাটো, লেটুস ও সেলারি শাক থেকে আমরা ক্লোরাইড পাই।
ক্রোমিয়াম
ক্রোমিয়াম ইনসুলিনে থাকা গ্লুকোজকে প্রতিটি কোষে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে যা আমাদের শরীরে শক্তি উৎপাদন করে। এর ফলে শরীরে রক্তশর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়াও ক্রোমিয়াম শরীরে কার্বোহাইড্রেড, স্নেহ পদার্থ ও প্রোটিনের আত্মীকরণে সহায়তা করে যার ফলে আমাদের মাঝে মধ্যেই খিদেভাবের উদ্রেক হয় না এবং আমাদের শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
উৎস: ব্রকোলি, আলু, কমলালেবু, মাছ, ডিম ও বাদাম।
তামা
আমাদের শরীরে তামা লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি করতে সহায়তা করে এর ফলে স্নায়ু কোষগুলি সুস্থ থাকে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি শরীরে কোথাও কেটে গেলে তা দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করে, স্নায়ু ভালো রাখে এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট তৈরি করে। এছাড়াও তামা অস্থিকে শক্তিশালী করে ও কলাতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। শরীরে তামার অভাব হলে রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আমাদের শরীরে বিভিন্ন উৎসেচককে ঠিকঠাক কাজ করতে সহায়তা করে মলিবডিনাম
উৎস: তিল, কাজুবাদাম, পালংশাক, শতমূলী, সয়বিন এবং চিংড়ি।
মলিবডেনাম
আমাদের শরীরে বিভিন্ন উৎসেচককে ঠিকঠাক কাজ করতে সহায়তা করে মলিবডেনাম। সাধারণত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রক্তে যে কাজগুলি করে থাকে সেই কাজগুলি এই উৎসেচকগুলিও করে। এছাড়াও খাবার থেকে গৃহীত অব্যবহৃত পুষ্টি আমাদের শরীরে জমা থাকে তাই প্রয়োজনে সেই পুষ্টিকে ঠিকঠাক ব্যবহার করতে সাহায্য করে মলিবডেনাম ওটা শক্তিতে পরিণত করে। কাবার হজম হয়ে যাওয়ার পর অবশিষ্ট ও শরীরের পক্ষে অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থকে শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে মলিবডেনাম।
উৎস: কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, বার্লি, বিট, মেটে, সালমন মাছ, তাজা শাক-সবজি ও মুলো।
ফসফরাস
যেসব খনিজ আমাদের শরীরে সব থেকে বেশি থাকে তার মধ্যে ক্যালসিয়াম হল দ্বিতীয়। ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত সুস্থ রাখে, এছাড়াও আমাদের দাঁতে ও হাড়ে সব থেকে বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে। এমনকি শরীরের সব কটি কোষে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় যা শরীরে অম্লের ভারসাম্য রক্ষা করে। শরীরে অম্লের ঠিকঠাক ভারসাম্য শরীরে নতুন ডিএনএ তৈরি করতে সাহায্য করে।
উৎস: কাঠবাদাম, দুধ, ডিম, ওটস বা জই,টোফু এবং মাছ।
সেলেনিয়াম
যদিও আমাদের শরীরে খুব কম মাত্রায় সেলেনিয়াম লাগে তবে প্রজনন ও নতুন ডিএনএ তৈরির ক্ষেত্রে সেলেনিয়ামের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেলেনিয়াম অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বলে ক্যান্সারের আশঙ্কা কম করে।
উৎস: মাছ, খোসা সমেত গম থেকে যে পাঁউরুটি তৈরি হয় তাতে সেলেনিয়াম থাকে। এ ছাড়া ব্রাউন রাইস, মাশরুম এবং কয়েকটি বীজ যেমন চন্দ্রমুখী, তিল এবং চিয়া বীজ থেকেও সেলেনিয়াম পাওয়া যায়।
লেখাটি ইংরেজিতে পড়ুন

