জেনে নিন কেন নিয়মিত কিউই খাওয়া উচিৎ
কিউইতে ভিটামিন সি রয়েছে যা সর্দি-জ্বর ও সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে
- Total Shares
শুরুতেই বলে রাখি আমার ছেলে কিউই খেতে খুব ভালোবাসে। আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই সব ধরণের ফল খেতে খুব পছন্দ করে। তাই বড় হওয়ার সময় ও যাতে ফল খায় সে ব্যাপারে আমাকে বেশি পীড়াপীড়ি করতে হয়নি কখনও। কিউই আবার ওর বেশি পছন্দের ফল। আমার ছেলের কিউই ফল পছন্দ করার একটা কারণ এই সবুজ ফলটা দেখতে খুব সুন্দর। ফলটিতে ছোট ছোট কালো দানা আছে। যেহেতু আমার ছেলে এই ফলটা খেতে খুব ভালোবাসে তাই আমিও এখন এই রসালো ফলটা খাই। স্ট্রবেরি, তরমুজ ও কলার মতো এই ফলটিরও একটা নিজস্ব স্বাদ ও গন্ধ আছে, তাই আমিও এখন কিউই খেতে খুব পছন্দ করি। এই ব্যাপারে আমি আমার ছেলেকেই আমি কৃতজ্ঞতা জানাব।
কিউইতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। এই মরশসুমে সর্দি-জ্বর ও অন্যান্য সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায় তাই এই সময় কিউই খেলে জ্বর ও সংক্রমণের থেকে দূরে থাকা সম্ভব। ৭০ গ্রাম কমলালেবু থেকে মাত্র ৩৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায় তবে একটি কিউই থেকে আমরা ৬৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাই। তাই একদিনে আমাদের শরীরে যতটা ভিটামিন সি প্রয়োজন হয়, একটি কিউই খেলে সেটা মিটে যায়।
তা ছাড়াও জানা যাচ্ছে যে ডেঙ্গি সারাতে কিউইর একটা বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এই সময় ডেঙ্গির প্রকোপ খুব বেশি দেখা যায় (জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত)। ডেঙ্গি হলে শরীরে প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যায় তাই সেই সংখ্যা যাতে বজায় থাকে সেই দিকে বেশি নজর দিতে হয়। এই সময় সহজপাচ্য খাবার যা খেতেও ভালো এবং যাতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে সেই ধরনের খাবার খাওয়া উচিৎ। তাই এই সময় কিউই ফল খাওয়া উচিৎ।
কিউইতে ভিটামিন সি ও পটাসিয়াম রয়েছে। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও পটাসিয়াম ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকে। এই দুটি ডেঙ্গুর সঙ্গে মোকাবেলা করতে সাহায্য করে। ভিটামিলন সি শরীরে প্লেটলেটের মাত্রা ঠিক রাখে এবং প্লেটলেটকে ঠিকঠাক কাজ করতে সাহায্য করে। ডেঙ্গু সারাতে আয়রনের একটা বড় ভূমিকা থাকে। ভিটামিন সি শরীরকে খাবার থেকে আয়রণ গ্রহণে সহায়তা করে ও অনুচক্রিকার সংখ্যা ঠিক রাখে। গবেষণায় জানা গেছে যে আমাদের শরীরের ফোলেটের অভাবেও রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যেতে পারে। কিউই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৯ বা ফোলেট থাকে তাই কিউই খেলে রাখে প্লেটলেটের সংখ্যা বজায় থাকে।
ডেঙ্গুকে দূরে রাখতে বা ডেঙ্গু সারাতে কিউইর ভূমিকা ঠিক কতখানি সেটা যদিও এখনও প্রমান সাপেক্ষ তবে একটা বিষয় পরিষ্কার যে কিউই ফল ডেঙ্গি দূরে রাখতে ও ডেঙ্গির মোকাবিলা করতে নিঃসন্দেহে কার্যকরী।
কিউইতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে
ভিটামিন সি-র আরও অনেক উপকারিতা আছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভিটামিন সি শুক্রাণুকে সচল করে তার কায্যকারিতা বাড়ায়। আরও আছে। আমাদের দেহে ভিটামিন সি সেরোটোনিন হরমোনের উৎপাদনে সহায়তা করে যার ফলে আমাদের মন-মেজাজ ভালো থাকে। তাই খুব সহজে বলতে হলে বলা যায় কিউই খেলে মন সতেজ থাকে।
কিউইতে ক্যালোরি অনেক কম থাকে। যদিও এই ফলটা বাজারে খুব একটা মেলে না তবে এই ফলটিতে যাবতীয় পুষ্টিকর দ্রব্যে ভরপুর। অন্যান্য ফলের তুলনায় প্রতি এক গ্রাম কিউইতে যেমন অনেকটা ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে তেমনই ক্যালোরির সংখ্যা খুবই কম। ৭০ গ্রাম কিউইতে মোটে ৪০ ক্যালোরি ও দু'গ্রাম ফাইবার থাকে।
বর্ষাকালে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়ে যায় তাই কিউই খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। কিউইতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ফাইবার রয়েছে যা পেট পরিষ্কার করতে সহায়তা করে।
কিউইতে পর্যাপ্ত দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে তাই কিউই হার্ট ভালো রাখে, হজমে সহায়তা করে ও রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা ঠিক রাখে। এখানে এই দু'ধরণের ফাইবার সম্বন্ধে কিছু কথা বলে রাখি। দ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্রে থাকা জলের সঙ্গে মিশে গিয়ে থকথকে জেলের মতো একটি পদার্থ তৈরি করে শরীরে রক্তশর্করা ও কোলেস্টরলের মাত্রা ঠিক রাখে। শরীর থেকে অপকারী কোলেস্টরোলকেও সরাতে সাহায্য করে। অদ্রবণীয় ফাইবার মলের সঙ্গে মিশে যায় যার ফলে বড়হজম দূর হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অর্শ হয় না।
যাঁদের ডায়েবেটিস রয়েছে তাঁরাও নিশ্চিন্তে এই ফলটি খেতে পারেন কারণ এই ফলে গ্লিসেমিকের সংখ্যা মোটে ৫২। তাই এই ফলটি খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ে না।
কিউই শ্বসনতন্ত্রর বড় বন্ধু। কিউই খেলে বিভিন্ন শ্বাসকষ্ট যেমন এজমা হয় না। পাশাপাশি বাচ্চাদের পক্ষে কিউই খাওয়া খুব ভালো কারণ কিউই খেলে তাদের বিভিন্ন শ্বাসকষ্ট যেমন হাঁচি, হাফ ধরা বা রাতে ঘুমোনোর মধ্যে কাশি হয় না। বড়দের জন্যেও কিউই খুব উপকারী।
কিউইতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সেরোটোনিন থাকে যা আমাদের শরীরকে শান্ত করে। তাই কিউই খেলে রাতে ভালো ঘুম হয় ও ঘুমের সমস্যা দূর হয়। কিউই খেলে যেমন ঘুম ভালো হবে তেমনই শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
তাই এই বর্ষায় বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে কিউই খান।
লেখাটি ইংরেজিতে পড়ুন

