শরীর সুস্থ থাকলে গর্ভাবস্থায় রোজা রাখতে পারেন, তবে পুষ্টির দিকে বিশেষ নজর দিন
“রোজা রেখে হটাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে নিশ্চয়ই উপবাস ভাঙতে পারেন”
- Total Shares
গর্ভাবস্থায় অনেকেই রোজা রাখেন। শরীর সুস্থ থাকলে রমজান মাসে গর্ভবতী মহিলারও রোজা রাখতে পারেন। তবে মাথা রাখতে হবে যে রোজায় একটা লম্বা সময় ধরে কোনও রকম খাবারদাবার এমনকি জলও খাওয়া যায় না, তাই এই সময় গর্ভবতী মহিলাদের একটু সচেতন থাকা প্রয়োজন।
মৌলানা মজরুল হুদা জানিয়েছে, "কোরানে নির্দেশ আছে যে অসুস্থ ব্যক্তি রোজা নাও রাখতে পারেন। তাই রোজার সময় যদি কোনও গর্ভবতী মহিলা শারীরিক ভাবে সুস্থ বোধ না করেন তাহলে তাঁর রোজা না রাখলেও চলবে। আবার কোনও গর্ভবতী মহিলা যদি রোজা রেখে হটাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে তিনি নিজের উপবাস ভেঙে ফেলতে পারেন। গর্ভাবস্থায় রোজা পালনের সিদ্ধান্ত নিলে স্বাস্থ্যকর খাবারদাবার খাওয়া উচিত।"

সারাদিন উপোষ থাকার পর খুব স্বাভাবিকভাবেই ইফতারের সময় বিভিন্ন খাবারদাবার দেখে খাওয়ার ইচ্ছে হবে, কিন্তু গর্ভবতী মহিলাদের তেলে ভাজা কিংবা ভারী খাবার থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুরাইয়া রহমান জানান, "গর্ভাবস্থায় কোনও রকম শারীরিক জটিলতা না থাকলে রোজার উপবাস করলে শরীরে কোনও ক্ষতি হয় না। তবে এই সময় শরীরে পুষ্টির প্রয়োজন থাকে তাই স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে নজর দিতে হবে।"
তবে গর্ভাবস্থায় কোনও ধরণের শারীরিক সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, তখন উপবাস না করাই ভালো।

ডা. রহমান বলেন সারাদিন জল খাওয়া হয় না বলে উপবাস শেষে প্রচুর জল খেতে হবে সঙ্গে রাখতে হবে ভালো ও পুষ্টিকর খাবার। গর্ভবতী মহিলাদের হালকা খাবার খাওয়া উচিত। সারাদিন উপবাস থাকার পরে খাবারের মধ্যে মিষ্টিপদ ও ফলমূল রাখতে হবে এতে শরীর তৎক্ষণাৎ শক্তি পাবে। সঙ্গে রাখুন বিভিন্ন ধরণের শাক-সবজিরও। যে সব খাবারের পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেড, ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে সে সব খাবার খাদ্য তালিকায় রাখুন।
মাংস, মাছ দুধ, ছানা, জুস, প্রবৃত্তি খাবারে প্রচুর ভিটামিন ও প্রোটিন রয়েছে তাই এইসব খাবার বেশি করে খান। ভাত, রুটি, আলু, প্রভৃতি খান খাবার অনেক পরিমাণে খান তাহলে শরীর যেমন শক্তি পাবে তেমন হজমও হবে খুব সহজে।

এই সময় শহরের বিভিন্ন রাস্তায় হরেকরকমের খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা গর্ভাবস্থায় বাইরের খাবার না খাওয়াই ভালো। রাস্তার কাটা ফল বা রস কিংবা শরবত খাওয়া ঠিক নয়। বেশী তেল জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।
এই সময় ঘরে ঘরে বিভিন্ন ধরণের মিষ্টিপদ বানানো হয়ে থাকে। গর্ভবতী মহিলা এই সময় নিশ্চয়ই মিষ্টি খাবেন তবে চিকিৎসকরা সব সময়ই বলেন যে যেকোনও খাবার এইসময় নিজের শরীরের চাহিদা বুঝে ও পরিমাণ মতো খাওয়া ভালো। বাড়িতে তৈরি খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

