কমিশন প্রথার বিকল্প বেতন, কিন্তু কিসের ভিত্তিতে এই বেতন নির্ণয় করা হবে
কমিশন ব্যবস্থায় যাত্রীরা ভাড়া দিলেও অনেক সময় মালিক কিন্তু এক শতাংশও ভাগ পান না
- Total Shares
কমিশন প্রথা বন্ধ হলেই কি বেসরকারি বাস মিনিবাসের বাসের রেষারেষি বন্ধ হবে? আরও ভেঙ্গে বলতে হলে, বাস চালকদের আর কন্ডাক্টরদের কমিশন প্রথা বন্ধ করলে পথ দুর্ঘটনা কমবে কি? রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় এই প্রশ্ন এখন বির্তকের কেন্দ্রবিন্দুতে।
কমিশন প্রথায় টিকিট বিক্রির অঙ্কের উপর ২৪ শতাংশ কমিশন পায় চালক ও কন্ডাক্টররা। এর মধ্যে চালকের প্রাপ্য ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ, বাকিটা পায় কনডাক্টর। বাকি ৭৬ শতাংশ পায়ে মালিকরা। যার থেকে জ্বালানি খরচ, ব্যাঙ্কের ইএমআই (অধিকাংশ বন্ মালিককেই বহন করতে হয়), রাতের পার্কিংয়ের খরচ ও গাড়ির রক্ষনাবেক্ষনের জন্য খরচ করে যা পড়ে থাকে তাই মালিকদের নীট আয়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কমিশন প্রথার জন্যই একই রুটের অন্য বাসগুলোর সঙ্গে চালকরা রেষারেষি করে যাতে তার বাসে যাত্রী বেশি হয়. অর্থাৎ, টিকিট বিক্রি বাড়ে এবং দিনের শেষে তার কমিশনের অঙ্ক, অর্থাৎ আয়ে, বেশি হয়। এই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে কমিশন প্রথা বন্ধ হলে রেষারেষি কমতে বাধ্য এবং এর ফলে পথ দুর্ঘটনা বিলুপ্ত না হলেও দুর্ঘটনার হার অনেকটাই হ্রাস পাবে।
বিশেষজ্ঞদের এই যুক্তি যদি মেনেও নেওয়া যায় তাহলে পাল্টা প্রশ্ন হচ্ছে এর বিকল্প ব্যবস্থা কী হতে পারে? এর বিকল্প ব্যবস্থা একটাই বেতন - এই বেতন ব্যবস্থা দৈনিকও হতে পারে, সাপ্তাহিকও হতে পারে আবার মাসিকও হতে পারে।

এই বার এই সংক্রান্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, যার উত্তর কোনও বিশেষজ্ঞর কাছেই নেই। কি ভাবে এই বেতন নির্ণয় কর হবে? পশ্চিমবঙ্গে সরকারি বাস চালক ও কন্ডাক্টদের নির্দিষ্ট বেতন রয়েছে। এর পর সরকারি পরিষেবার কি হাল তা সকলেই জানে। বেশিরভাগ রুটে বাস চলে না আর রাস্তায় বাস চললেও অধিকাংশ স্টপেজে যাত্রী থাকলেও তা থামে না। হালে, মানে গত কয়েক বছর, বেশ কয়েকটি কড়া পদক্ষেপের পরে সরকারি বাসের হাল কিছুটা হলেও উন্নতি করেছে।
সরকারি বাসের যদি এই হাল হয় তাহলে নির্দিষ্ট বেতন চালু হলে বেসরকারি বাসের কী অবস্থা হবে। এমনিতেই এখন বহু ক্ষেত্রে দেখা যায় যে বড় দল নিয়ে বাসে উঠলে সেই দলের প্রতিটি সদস্যের টিকিট কাটা হয় না। কেউ একজন কন্ডাক্টরের হাতে থোক টাকা দিয়ে টিকিট না দিয়ে নেমে পড়েন। শুধু দল নয়, অনেক সময়তেই একজন যাত্রীর ক্ষেত্রেও কন্ডাক্টর টিকিট দেন না। বেসরকারি বাসে পণ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক সময়ই কন্ডাক্টর আলাদা ভাড়া দাবি করেন। সেই ভাড়া আদায়ের সময়ও টিকিট দেওয়া হয় না। অর্থাৎ, কমিশন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেই বেশ কিছু সময় যাত্রীরা ভাড়া দিলেও মালিক কিন্তু এক শতাংশও ভাগ পান না। বেতন ব্যবস্থা চালু হলে তো চালক কন্ডাক্টরদের সোনায় সোহাগা।

পাল্টা যুক্তি হতেই পারে বাস মালিকরা সারাদিন ধরে কী করেন? পৃথিবীর কোনও কাজেই ঘরে বসে পায়ে উপর পা তুলে আয়ে করা যায় না। তাহলে পরিবহণ ক্ষেত্রে তা হবে কেন? কিন্তু এখানেও অন্য রকম সমস্যা রয়েছে। মাত্র একটি বাসের মালিক - এ ধরণের মালিকের সংখ্যা কলকাতায় নগন্য। বেশির ভাগ মালিকের একাধিক বাস রয়েছে। সে ক্ষেত্রে, এই নজরদারি সম্ভব নয়।
তাহলে উপায়?
উপায় আছে। রেষারেষির মূল কারণ কমিশন প্রথা নয়। একটি রাস্তায় মাত্রাতিরিক্ত রুট আর একই রুটে মাত্রাতিরিক্ত বাস। বাসের সংখ্যা কমাতে হবে। এমনিতেই, সরকারি এসি বাস রাস্তায় নামার পর বেসরকারি বাসে যাত্রী সংখ্যা কমেছে। তার উপর যদি বাসের সংখ্যা হু হু করে বাড়লে এক একটি বাসে যাত্রী সংখ্যাও হু হু করে কমবে। রেষারেষি বাড়বে।
আর, বিশেষজ্ঞদের মতে, রেষারেষি বাড়লে পথ দুর্ঘটনাও পাল্লা দিয়ে বাড়বে

