শরীরের দুর্গন্ধ ঢাকতে অতিরিক্ত সুগন্ধি ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে
সুগন্ধির মধ্যে অ্যাসিড থাকে যা ত্বককে পুড়িয়ে দেয় এবং জায়গাটা কালো হয়ে যায়
- Total Shares
আমরা অনেকেই ডিওডোরেন্ট স্প্রে এবং নানা সুগন্ধি ব্যবহার করে থাকি। আবার কেউ হয়তো গায়ের দুর্গন্ধ দূর করতেও বিভিন্ন সুগন্ধি-দ্রব্য ব্যবহার করেন। গা থেকে সুন্দর গন্ধ বেরোলে সবার ভালো লাগে কিংবা আপনার আশেপাশের মানুষ যদি আপনার ব্যবহার করা সুগন্ধির প্রশংসা করে তাহলে মনটা আরও ভালো হয়ে যায়। যাঁরা সুগন্ধি ব্যবহার করতে খুব পছন্দ করেন তাঁরা অনেকেই মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে পুরো বোতলটাই শেষ করে ফেলেন। যাঁদের খুব বেশি ঘাম হয় তাঁরা সুগন্ধি তথা অ্যান্টিপার্স্পিরেন্টও ব্যবহার করেন।
তবে সতর্ক থাকুন অতিরিক্ত সুগন্ধি কিংবা ডিওডোরেন্ট স্প্রে ব্যবহার করে আপনি নিজের বিপদ ডেকেছে আনতে পারেন। অতিরিক্ত মাত্রায় ডিওডোরেন্ট বা পারফিউম ব্যবহার করলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি ত্বকের নানা সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যে কোম্পানির সুগন্ধি ব্যবহার করছেন সব সময় সেই কোম্পানিকে দোষ দিলে চলবে না, কারণ কোনও কিছুর অতিরিক্ত ব্যবহার কোনও কাজের কথা নয়।
দিন যত গড়াতে থাকে সকালবেলায় ব্যবহার করা সুগন্ধির গন্ধ উবে যেতে থাকে তাই আমরা সারাদিনে বার বার ডিও বা পারফিউম ব্যবহার করি। সাধারণত বগলে, গলার দু'পাশে, বুক এবং হাতের অংশে এর ব্যবহার বেশি হয়। বাজারে বিভিন্ন গন্ধের সুগন্ধি পাওয়া যায়।

ত্বক বিশেষজ্ঞ কৌশিক লাহিড়ী বলেন, “সুগন্ধির মধ্যে থাকা অ্যাসিড বা আলকালাইন জাতীয় রাসায়ন চামড়ায় লেগে চামড়ার সমস্যা হতে পারে। শরীরের যেখানে সুগন্ধি ব্যবহার করা হচ্ছে এই সব কেমিক্যালের জেরে জায়গাটা পুড়ে যায়, এর ফলে চুলনাকি হয় এবং ক্রমশ সেই অংশটা কালো হয়ে যায়। শরীরের যে অংশে দীর্ঘদিন এবং অতিরিক্ত মাত্রায় এই দ্রব্য ব্যবহার করা হচ্ছে সে অংশটির ক্ষতি করে।“
ইএনটি রোগ বিশেষজ্ঞ (নাক, কান ও গলা) অমিতাভ ভট্টাচার্য বলেন, "এই জাতীয় সামগ্রী অতিরিক্ত ব্যবহার করলে যেমন আমাদের চামড়ার ক্ষতি হয় তেমনই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা যেমন মাথা যন্ত্রনা, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি প্রবৃত্তি অসুবিধা দেখা দিতে পারে বা অ্যালার্জির উদ্রেক করতে পারে। এতে বিভিন্ন রসায়ন ব্যবহার করা হয় যা আমাদের নাক, গলা এবং ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে। এইসব কেমিক্যাল যেকোনও সময় আমাদের শ্বাসনালিতে গিয়ে অ্যালার্জির সৃষ্টি করতে পারে। উপসর্গ যেগুলো দেখা দেয় সেগুলো হল শ্বাসকষ্ট, বুকের মধ্যে সাইঁ সাঁই শব্দ হওয়া, প্রচন্ড হাঁচি হতে থাকা, নাক দিয়ে ক্রমাগত জল ঝরা, নাক-গলা চুল চুলকোনো এবং নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া। কেউ যদি অসাবধান হন তাহলে গলায় বা নাকের ভেতরে সুগন্ধি প্রবেশ করলে ষড়যন্ত্রর খিঁচ লেগে যেতে পারে। কথা বলতে অসুবিধা হয়। তাই এইধরণের কোনও সমস্যা শুরু হলে এবং বাড়তে থাকলে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।"

যাঁদের কোনও রকম গন্ধ বা খুব কড়া গন্ধটা অ্যালার্জি হওয়ার প্রবণতা রয়েছে তাঁদের কাছে যদি কেউ খুব করে সুগন্ধি ব্যবহার করে তাঁর কাছাকাছি আসেন তাহলে সেই গন্ধ থেকেও অসুবিধা হতে পারে। এইসব মানুষের ধূপের গন্ধ থেকেও নানা অস্বস্তি হতে পারে।
সুগন্ধি আমরা ত্বকে সরাসরি ব্যবহার করি তাই কম দামের সুগন্ধি বা ডিও ব্যবহার না করে ভাল ব্রান্ডের দামি সুগন্ধি ব্যবহার করুন।

নবজাতক এবং শিশুদের ডিও বা সুগন্ধি মাখবেন না। এমনকি যখন এই ধরণের প্রসাধন ব্যবহার করবেন খেয়াল রাখবেন সেখানে যেন কোনও শিশু না থাকে কারণ এর ফলে তাদের বিভিন্ন অসুবিধা দেখা দিতে পারে যেমন স্বাশকষ্ট প্রভৃতি। যেসব শিশুর অ্যালার্জির প্রবণতা যাচ্ছে কিংবা যদি কোনও শিশুর আজম থাকে তাহলে তার সামনে এই ধরণের দ্রব্য ব্যবহার না করে শ্রেয়। শিশুদের ত্বক খুব নরম এবং বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে ডিওডোরেন্ট ও পারফিউম বানাবো হয়। তাই তাদের চামড়ায় এগুলো ব্যবহার করা কোনও কাজের কথা নয়।
আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি জানিয়েছে যে অতিরিক্তি ডিওডোরেন্ট এবং পারফিউমের অতিরিক্ত ব্যবহারের মহিলাদের স্তন ক্যান্সারের সঙ্গে কোনও যে সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে সেটা এখনও প্রমান সাপেক্ষ্য। তবে একটি সার্ভার রিপোর্ট অনুসারে দেখা গেছে যে ক্যান্সারে আক্রান্ত বহু মহিলা আছেন যাঁরা অনেক অল্প বয়সে ডিও বা পারফিউম ব্যবহার করা শুরু করেন।

