যাঁদের ক্ষীণদৃষ্টি তাঁদের জন্য উন্নতমানের এই বিশেষ চশমা কতখানি কাজে দেবে?
এই বিশেষ চশমা দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাতে চলেছে
- Total Shares
ক্ষীণদৃষ্টি ঠিক করার চেষ্টায় অনেকেই লেজার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কিংবা চোখের অন্য কোনও অস্ত্রোপাচার অথবা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন। অনেককে আবার সাধারণ চশমা ব্যবহারও করেন কিন্তু এগুলোর একটাও ব্যবহার করে যখন আর কোনও কাজ হয় না তখন তাঁদের জন্য এবার বাজারে আসতে চলেছে বিশেষ একধরণের চশমা যার নাম অপটিক বাইঅপটিক টেলিস্কোপ।
যদিও বিদেশে এই ধরণের চশমার চল অনেক দিন ধরেই আছে তবে আমাদের দেশে ক্ষীণ দৃষ্টি জন্য এই রকম চশমা বেশ কয়েক বছর ধরে বাজারে পাওয়া গেলেও এই বিষয় সাধারণ মানুষের তেমন একটা সচেতনতা ছিল না বললেই চলে। আবার অনেকে দামের কথা ভেবেও এই চশমা কিনতে পারতেন না।

তাই এবার আরও অনেক ফিচার যোগ করে চশমাটিকে উন্নত করে বাজারে নিয়ে আসা হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাধ্যের কথাটাও মাথায় হয়েছে। তাই চশমাটি যিনি ব্যবহার করবেন তাঁর অনেক বেশি সুবিধা হবে।
যদিও এটিকে চশমা বলা হচ্ছে কিন্তু আসলে এটা একটি যন্ত্র যেটা ঠিক কপালের কাছে পড়তে হবে। যন্ত্রটা একটা রিস্ট ব্যান্ডের মতো যাতে একটা ছোট ক্যামেরা লাগানো থাকবে। ক্যামেরাটি ব্যাটারির দ্বারা চালিত হবে যার ফলে যিনি এটা ব্যবহার করছেন তিনি একই সঙ্গে কাছের ও দূরের জিনিস দেখতে পাবেন।
চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুভাশিষ চৌধুরী জানান, "যদিও মানুষ অন্ধত্ব ও ক্ষীণদৃষ্টি নিয়েই জীবন কাটাতে শিখে যায় কিন্তু চক্ষু বিশেষজ্ঞদের সব সময়ই চেষ্টা থাকে যাতে কিছুটা হলেও সেই সব মানুষের চোখের জ্যোতি ফিরিয়ে আনা যায়। চিকিৎসক হিসেবে এটা সম্ভব হলে আমাদেরও খুব ভালো লাগবে। তাই এই বিশেষ চশমা দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাতে চলেছে।"

যাঁরা এলবিনিজেম রোগটিতে ভোগেন তাঁদের জন্ম থেকেই দৃষ্টিশক্তি বেশ ক্ষীণ হয় তাঁরাও এবার এই চশমা ব্যবহার করে স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন বলে দাবি চিকিৎসকদের। এছাড়াও যাঁদের চোখের মনি কাঁপে কিংবা যাঁদের বয়সজনিত কারণে বেশ দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে গেছে অথবা ডায়াবেটিসের সমস্যায় চোখ খারাপ হয়ে গেছে কিংবা যাঁরা রাতকানা রোগে ভোগেন, কিংবা জন্ম থেকেই যাঁদের দৃষ্টিশক্তি খুব ক্ষীন তাঁরাও এবার এই যন্ত্রটি ব্যবহার করে স্বাভাবিক দৃষ্টি শক্তি ফিরে পাবেন।
আরও সহজ করে বলতে হলে বলা যায় যে, যাঁদের এক ফিট পর্যন্ত দৃষ্টিশক্তি আছে তাঁরা এই যন্ত্রটি ব্যবহার করলে স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন।

