সহায়ক মূল্য নিয়ে ঢাক পেটানোর পাশাপাশি লোকসভার দামামা বাজাতে মোদীর আগমন পশ্চিমবঙ্গে
২০১৯ নির্বাচনে উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলি এবং ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে গেরুয়া শিবিরের
- Total Shares
দুদিন আগেই রাজ্যে ঘুরে গিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। এবার ১৬ই জুলাই রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিজেপি জানিয়েছে, ধান সহ ১৪টি খরিফ শস্যের সহায়ক মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদীর মন্ত্রিসভা। তার জন্যই দেশ জুড়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে অভিনন্দন জানানোর সভা হবে। ১৬ই জুলাই মেদিনীপুরে সভা করে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে অভিনন্দন জানাবে বিজেপি।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষক আত্মহত্যা এবং কৃষক আন্দোলনে জেরে যথেষ্ট বিব্রত কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। রাজ্যে রাজ্যে বিরোধীরা যে ভাবে জোট বাধার প্রক্রিয়া শুরু করেছে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে কৃষক আন্দোলনে।সম্প্রতি মহারাষ্ট্রে কৃষক আন্দোলন ও সমাবেশে বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। লোকসভা ভোটের আগে বিরোধীদের এই হাতিয়ার ভোতা করতেই ভোটের প্রায় বছর খানেক আগে ফসলের সহায়ক মূল্য বাড়িয়ে পাল্টা চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার।
লোকসভা প্রচারের দামামা বাজাতেই মোদীর পশ্চিমবঙ্গে আগমন
লোকসভা ভোটে এর ফায়দা তুলতেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে অভিনন্দন জানানোর জন্য সমাবেশ করবে বিজেপি। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে মেদিনীপুরকে ওই কর্মসূচির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।এর পিছনে রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে।
পঞ্চায়েত ভোটে আদিবাসী অধ্যুষিত জঙ্গলমহলে বিজেপি ভালো ফল করেছে। সেই ফলের উপর দাঁড়িয়ে লোকসভা ভোটে জঙ্গলমহলের পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়ায় ভালো ফল করার আশা দেখছে বিজেপি। এই কারণেই কিছুদিন আগে পুরুলিয়ায় গিয়ে সভা করেছেন অমিত শাহ। পুরুলিয়ার নিহত এবং আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের লোকজনকে দিল্লির রাজঘাটে নিয়ে গিয়ে ধর্ণা দেওয়া হয়েছে।
এবার পশ্চিম মেদিনীপুরে গিয়ে সভা করবেন মোদী। মেদিনীপুরের জনসভায় কৃষকের সহায়ক মূল্য বাড়ানোর কৃতিত্ব জাহির করার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন বিষয় তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। সে ক্ষেত্রে, তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে লোকসভা ভোটের দামামা বাজানোর চালে এগিয়ে থাকবে বিজেপি।
উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান, বিহার ও ঝাড়খণ্ডে গত লোকসভার সাফল্য ২০১৯ সালে আসবে না বলেই মনে করছে বিজেপি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক
উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান, বিহার ও ঝাড়খণ্ডে গত লোকসভা নির্বাচনে যে সাফল্য এসেছিল তা ২০১৯ সালে আসবে না বলেই মনে করছে বিজেপি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। এই কারণেই উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলি এবং ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে গেরুয়া শিবিরের। এই রাজ্যগুলি থেকে আসন বাড়াতে না পারলে সমূহ বিপদ রয়েছে বলে মনে করছেন অমিত শাহরা।
ইতিমধ্যে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২২টি আসনের টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। সেই কারণেই ২০১৯ যত এগিয়ে আসবে ততই প্রধানমন্ত্রী মোদী ও অমিত শাহদের এই রাজ্যে আসা যাওয়া বাড়বে।
রাজ্য রাজনীতিতে যে পরিবর্তন হয়েছে তাতে কংগ্রেস ও বিশেষ করে বামেদের ভোট ব্যাঙ্ক বিজেপির দিকে যেতে শুরু করেছে। এই বাম ও কংগ্রেসের ভোট ব্যাঙ্কের জোরে বিরোধী পরিসরের ব্যাটন এখন বিজেপির হাতে। আর, এই অঙ্ক থেকে পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচনে আসন বাড়ানোর আশা করছে পদ্ম শিবির।

