বন্ধ্যাত্ব সমস্যা কী ভাবে দূর করবেন, একতা কাপুরের কাছ থেকে শিখুন

একতা কাপুরের ধারাবাহিকের সমালোচনা করেন যাঁরা, তাঁরাই আবার ধারাবাহিকগুলো দেখেন

 |  2-minute read |   31-05-2018
  • Total Shares

হিন্দি ধারাবাহিকগুলো যে ভাবে সময়ের বিপরীতে হাঁটছে তা কল্পনারও অতীত, আর এ কথা বলার জন্য কোনও প্রমাণ দরকার হয় না। একটি হিন্দি ধারাবাহিক 'ইয়ে হ্যায় মহব্বতেঁ'-এর প্রধান চরিত্র রমণের একটি সংলাপ নিয়ে সম্প্রতি হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল। রমণ রেগে তাঁর স্ত্রীকে অভিশাপ দেন, তিনি যাতে পরের জন্মে বন্ধ্যা হয়ে জন্মান। রমণের সংলাপ এবং তার পরে টেলিভশন জগতের সম্রাজ্ঞী একতা কাপুরের নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করা -- এই দুটোই আসলে টেলিভিশন এবং তার দর্শকদের ব্যাপারে একটি অপ্রিয় সত্যকে ঢাকা দিয়ে দিচ্ছে।

ধারাবাহিকটি ২০১৩ সালে শুরু হয়। এখন নতুন একটি প্রোমো চালিয়ে দেখানো হচ্ছে, ধারাবাহিকটি এক লাফে অনেকটা এগিয়ে গেছে। 

ধারাবাহিকের ঘটনাক্রম আচমকাই অনেকটা এগিয়ে গেছে। যাঁরা নিয়মিত টেলিভশনের ধারাবাহিক দেখেন তাঁদের কাছে এই সব ঘটনা আশ্চর্যের নয়। বেশিরভাগ সময়ই ধারাবাহিকগুলো নির্ধারিত সময়ের আগে এবং একটা মোটামুটি বিশ্বাসযোগ্য ভাবে শেষ করার জন্য লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে যান ধারাবাহিকগুলি। 

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধারাবাহিকগুলোকে শেষ করে যাতে অন্য ধারাবাহিক, যেগুলো বেশি মুনাফা এনে দিতে পারে সেই সব ধারাবাহিকগুলোকে জায়গা করে দেওয়ার জন্য চাপ দেয় চ্যানেল কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু ওয়াইএইচএম-এর ব্যাপারটা একটু অন্যরকম। ডা. ঈশিতা (দিব্যাঙ্কা ত্রিপাঠি) কখনও মা হতে পারবেন না। রমণের সন্তানের প্রতি ঈশিতা আবেগপ্রবণ হয় পড়েন। ধারাবাহিকে রমন চরিত্রে অভিনয় করেছেন করণ পটেল, যাঁর আগে একবার বিয়ে হয়েছিল। পরে ঈশিতাকে বিয়ে করেন রমণ।

যাঁরা এই ধারাবাহিকটি নিয়মিত দেখেন তাঁরা প্রত্যেকদিন এই অপেক্ষায় ছিলেন যে রমণ তাঁর স্ত্রীকে বন্ধ্যাত্ব নিয়ে কবে ভর্ৎসনা করবে সেটা দেখবে বলে।

e_body-1_053118020720.jpgওয়াইএইচএম-এর ব্যাপারটা একটু অন্যরকম

সমাজের প্রতি ধারাবাহিকগুলোর কোনও দায়বোধ্যতা নেই

এমন একটা সময় যখন ধারাবাহিক নির্মাতারা এমন সব ধারাবাহিক বানান যেখানে দেখানো সাপ একজন মহিলাকে ধর্ষণ করছে (নাগিন ৩ প্রোমো) দেখতে কুণ্ঠা বোধ করে না তখন বন্ধ্যাত্বের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে এতটা হালকা ভাবে দেখানোর জন্য যে প্রযোজক ক্ষমা চাইবেন সেটা মনে করা ভুল।

টেলিভশন ধারাবাহিকগুলো আমাদের সমাজের প্রতিচ্ছবি হতে পারে। ইচ্ছে করলে বন্ধ্যাত্বের মতো বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিকটি সমাজের উদ্দেশ্য একটা ইতিবাচক ও শিক্ষণীয় বার্তা দিতে পারত। কিন্তু এটা তো হিন্দি ধারাবাহিক!

ঈশিতাকে তাঁর বন্ধ্যাত্ব নিয়ে করণ যে ভর্ৎসনা করে তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। সমালোচনাটি দুটো ভাগে বিভক্ত হয় যায়। একটি ভাগ মনে করে যে এ ভাবে করণের চরিত্রকে খাটো করা হচ্ছে। আর অন্যদের যুক্তিটা অনেকটা যুক্তিসঙ্গত। একতা কাপুরের কাছে তাঁদের প্রশ্ন,  তিনি কী ভাবে বন্ধ্যাত্ব নিয়ে খারাপ মন্তব্য করাকে সায় দিলেন?

দর্শকদের সমালোচনার সম্মুখীন হয়ে টুইটারের একতা কাপুর বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। এর চেয়ে বেশি সোজাসুজি হয়ত বলা যায় না। একটু ধমকের ভঙ্গিতেই দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যে সবসময় দর্শকের চাহিদা অনুসারে ধারাবাহিকের গল্প চলতে পারে না।

ক্রিয়েটিভ দলের সদস্যদের টেলিভশন রেটিং পয়েন্ট (টিআরপির) বা ধারাবাহিকের বাণিজ্যিক দিকটাও মাথায় রাখতে হয়।

 

 

 

তবু আমরা ধারাবাহিকগুলো দেখি বন্ধ করি না

দর্শকদের দিকে তির্যক মন্তব্য করে ধারাবাহিকের প্রযোজক বলেন যে যাঁদের এই ধারাবাহিকটি দেখতে সমস্যা হচ্ছে তাঁরা ধারাবাহিকটি দেখবেন না।

এমন একজন প্রযোজক যাঁর ধারাবাহিক দেখার জন্য প্রত্যেকে রোজ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে তিনি যখন এমন একটা পরামর্শ দেন তখন টেলিভিশন ও তার দর্শকদের দীনতাটাই প্রকাশ পায়।

টুইটের যাঁরা ধারাবাহিকগুলোর সমালোচনা করেন তাঁরাই কিন্তু ধারাবাহিকগুলো দেখেন।

তাই 'নাগিন' বা 'শসুরাল সিমর কা'-র মতো ধারাবাহিকগুলোতে কোনও দিনও দর্শকের অভাব হবে না।

লেখাটি পড়ুন ইংরেজিতে

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

Comment