কেরলে বন্যা: পশুপাখিদের কী ভাবে উদ্ধার করা হচ্ছে
পশুপ্রেমী সংস্থাগুলো আটকে পড়া প্রাণীদের উদ্ধার করতে একজোট হয়েছে
- Total Shares
২০১৭ সালে এক ভয়াবহ বন্যায় ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানে ৩১টি গণ্ডার-সহ মোট ৩৬১টি পশুপাখির জীবনহানি হয়েছিল। ২০১৭ সালে মোট দু'বার প্রবল বর্ষণে ব্রহ্মপুত্রের প্লাবনভূমি ও সংলগ্ন বুরহা পাহাড় ভেসে গিয়েছিল। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উদ্যানের ৯টি হাতিও মারা গিয়েছিল।
তবে কাজিরাঙ্গায় সব চেয়ে ভয়ঙ্কর বন্যা হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। সেই বন্যায় এক হাজারের বেশি পশুপাখির জীবনহানি হয়েছিল এই উদ্যানে। ২০০২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বন্যায় ১৩০টি গণ্ডারের মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় উদ্যান বলেই কাজিরাঙ্গায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত পশুদের সংখ্যা নথিভুক্ত করা হয়ে থাকে।
বন্যায় কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানে প্রায় হাজারখানেক জীবজন্তু হত হয়েছিল [ছবি: রয়টার্স]
কিন্তু কেরলে এ সবের বালাই নেই। যদিও, এবারের বন্যায় যে ভাবে দুর্যোগে আটকে পড়া জীবজন্তুদের উদ্ধার করা হয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রসংশনীয়। জীবজন্তুদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার বেশ কয়েকটি মর্মস্পর্শী গল্প এবার কেরলে শোনা গিয়েছে।
সাধারণত এই ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগে পশু উদ্ধারের গল্প খুব একটা শোনা যায় না। কারণ, সর্বদাই মানুষের জীবন এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে।
কেরল বন্যায় একটি কুকুরকে উদ্ধার করা হচ্ছে [এডিআরএফ/টুইটার]
তবে এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়েই থাকে।
কেরল বন্যায় সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ত্রিশূর। সেই ত্রিশূরের জনৈক গৃহবধূ সুনীতা নিজের বাড়িতে আটকে পড়েছিলেন। এর পর যখন উদ্ধাকারী একটি দল তাঁর বাড়িতে পৌঁছায় তিনি তাঁদের সঙ্গে যেতে রাজি হননি। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে তাঁর বাড়িতে আশ্রিত কুকুরদের উদ্ধার না করা হলে তিনি সেখান থেকে এক চুলও নড়বেন না। কিন্তু উদ্ধারকারী দল কুকুরদের উদ্ধার না করতে পারায় তিনি নিজ গৃহেই রয়ে যান।
এর পরে একটি পশুপ্রেমী সংস্থা হিউমেন সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল (এইচএসআই) সেখানে পৌছায়। সংস্থার আধিকারিকরা পৌছিয়ে দেখেন যে সুনীতার পোষ্যগুলো তাঁর বিছানায় আশ্রয় নিয়েছে এবং তাঁর বাড়িতে বন্যার জল প্রায় বিপদসীমা অতিক্রম করে ফেলেছে।
পশুপ্রেমীদের জন্য সুখবর যে সুনীতাকে তাঁর পোষ্যগুলো সহ সময়মত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
কুকুরদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে [টুইটার]
এইচএসআই-এর স্যালি ভার্মা জানিয়েছেন যে তাঁদের সংস্থার তরফ থেকে এখন অর্থসাহায্য চাওয়া হচ্ছে যাতে দুর্যোগে আটকে পড়া কুকুরদের উদ্ধার করে একটি কেনেলে রাখা সম্ভব হয়। এমনিতে কেরলে সেই অর্থে জীবজন্তুদের জন্যে কোনও পুনর্বাসন কেন্দ্র নেই। এ ছাড়া এইচএসআই ক্রমাগত প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে যাতে কেউ যেন জীবজন্তুদের বেঁধে বা বন্ধ ঘরে আটকে না রাখে। সংস্থার তরফ থেকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে পোষ্যর মালিকরা যেন পোষ্যদের গলায় নিজেদের নাম, ফোন নম্বর ও ঠিকানা লেখা কলার লাগিয়ে রাখেন।
Don't leave your #pets tied, caged or in closed rooms. If allowed please don't leave your pets behind. Remember to leave a tag on the collar with a contact person’s name & mobile number, written with a permanent marker. Contact Us @+918943322808. #KeralaFloodRelief #animalrescue pic.twitter.com/xOYqt10Exz
— HSI/India (@IndiaHSI) 20 August 2018
ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অনেকেই নিজেদের সাধ্যমত সাহায্যের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ফ্লোয়াপ বলে একটি পোষ্য সংস্থার প্রতিনিধি শ্রুতি ভি নীতীন জানাচ্ছেন যে অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে জীবজন্তুদের সাহায্য করতে চান। কিন্তু কী ভাবে সাহায্য করা সম্ভব সে বিষয়ে তাঁরা ঠিক ওয়াকিবহাল নন। তিরুঅনন্তপুরম ও এর্নাকুলামে জীবজন্তুদের জন্যে কোনও পুনর্বাসন কেন্দ্র না থাকায় অনেকে পড়ুয়াই উদ্ধার হওয়া জীবজন্তুদের দত্তক নিয়ে নিজেদের কাছে রাখছে। ফ্লোয়াপ ইতিমধ্যেই হ্যালের সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্জি জানিয়েছে তারা যেন আকাশপথে জীবজন্তুদের জন্যেও ত্রাণ পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
That Love❤???? Helping all ❤ frm kerala.Keep it up boys and go on and save yourself too.if we r living here we want dogs cats and others otherwise life is blank.their love can't calculate @Suriya_offl @selvaraghavan @anavenkat @Mohanlal @VigneshShivN @Karthi_Offl @sachin_rt pic.twitter.com/OVVEq0UvfJ
— Krishna Pradeep (@KPsfc_offl) 19 August 2018
১৯শে আগস্ট, ফ্লোয়াপের স্বেচ্ছাসেবকরা ছ'টি অন্তঃসত্ত্বা গরু সহ একটি পরিবারকে উদ্ধার করে। অন্তঃসত্ত্বা গোরুগুলোর হাঁটার ক্ষমতা ছিল না। তাই রীতিমতো একটি টেম্পোর ব্যবস্থা করে স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের ৬০ কিলোমিটার দূরে নিরাপদ স্থানে পৌঁছিয়ে দেয়।
হ্যাভন অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের তিনি ফ্রির জানিয়েছেন যে তাঁর সংস্থার তরফ থেকে বেশ কয়েকটি কুকুর, মুরগি, ছাগল, খরগোশ, সাপ ও গাউরকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই সংস্থাটি রাজ্যের বন দপ্তরের সঙ্গে বাচ্চা হাতিদের পরিচর্যা নিয়ে কাজ করছে। মহারাষ্ট্রের একটি পশুপ্রেমী সংস্থা পেটার সঙ্গে একজোট হয়ে কেরলে কাজ করে চলেছে।
Getting lots of photos from people in Kerala of this species of snake taking shelter in homes. The Common/Banded Kukri is non-venomous and gentle. Let them be. #KeralaSOS pic.twitter.com/cjl4Gf8rer
— Shiv Aroor (@ShivAroor) 19 August 2018
Kerala’s bountiful wildlife has very likely taken a hit in the floods. Friend sent me these 2 pictures she received from relatives in Pathanamthitta of an Indian Cobra & and a Banded Kukri (I think). Animals in distress too. (Don’t panic if you see one. @IndiaHSI can help.) pic.twitter.com/JJhVtnkJQb
— Shiv Aroor (@ShivAroor) 19 August 2018
কেরলের অভয়ারণ্যগুলোতে জীবজন্তুদের অবস্থা এখন কী রকম তার কোনও সম্যক ধারণা এখনও অবধি নেই। কিন্তু যে কয়েকটি ছবি ও ভিডিয়ো দেখতে পাওয়া গেছে তা কিন্তু রীতিমত শিহরণ জাগানোর মতো।
বন্যায় প্রচুর সাপ ভেসে গিয়ে জনবসতিতে ঢুকে পড়েছে। ভয় পেয়ে লোকেরা প্রচুর সাপ মেরে ফেলেছেন। জনবসতিতে ঢুকে পড়া সাপেদের উদ্ধারের জন্য কিছু হেল্পলাইন নম্বরও চালু করে হয়েছে।
যাক, শুধু মানুষ নয়, জীবজন্তুদের উদ্ধারের একটা চেষ্টাও চলছে কেরলে। এর থেকে একটা কথাই প্রমাণিত - পৃথিবী এখনও সুন্দর।
লেখাটি পড়ুন ইংরেজিতে

