ভগ্ন হৃদয়কে জোড়া লাগাতে লালু প্রসাদ যাদব যে পাঁচটি টোটকা মেনে চলতে পারেন
কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে আর দুই ছেলের রাজনৈতিক দ্বন্ধের খবর পেয়ে ভেঙে পড়েছেন লালু
- Total Shares
বিহারের খবর ভালো নয়। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব, যাকে সর্বদাই খোশমেজাজে পাওয়া যেত, এখন মনমরা হয়ে রয়েছেন। তাকে নাকি বিষন্নতা গ্রাস করেছে।
দুটি কারণে ভেঙে পড়েছেন লালু প্রসাদ যাদব। এক, তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মামলা তাঁর পরিবারের উপর প্রভাব ফেলছে। দুই, সম্প্রতি একে ওপরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়েছেন তাঁর দুই পুত্র - তেজস্বী ও তেজ প্রতাপ।
এই বিষন্নতা থেকে মুক্তি পেতে লালু এখন কী কী করতে পারেন তা একবার দেখে নেওয়া যাক।
পশুদের সঙ্গে সময় কাটানো
মানসিক রোগের চিকিৎসকরা প্রায়শই বলে থাকেন যে পোষ্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারলে মানুষের মন ভালো হয়ে যায়। লালুর বাড়িতে প্রচুর গরু রয়েছে। আবার এও শোনা যায় যে সময় পেলে তিনি নিজেই গরুর দুধ দুইয়ে দেন।
সমস্যা একটাই, এই মুহূর্তে লালুর জীবনের সবচাইতে বড় সমস্যা এখন গরুকে ঘিরেই।
পোষ্যদের সঙ্গে সময় কাটালে মানসিক শানিত ফিরে আসে {ছবি: ইন্ডিয়া টুডে]
পশু খাদ্য, মানে গরুখাদ্য, কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। তাই, এই মুহূর্তে, যাদব পরিবার যদি গরুদের প্রতি আদিখ্যেতা দেখতে যায় তাহলে কিন্তু হীতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে। হাজার হোক, গরুদের ক্ষোভ বিক্ষোভ বা অভিযোগ যায় বলুন না কেন আদালতের সিলমোহর পেয়ে গেছে।
তেজ প্রতাপের মতো আধ্যাত্মিক পথ বেছে নেওয়া
কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওর্থের থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারেন লালু। কবি বলেছিলেন যে শিশু একজন মানুষের পিতা। ছেলের থেকে শিক্ষা নিতে কোনও লজ্জা নেই - এই সার সত্যটা মেনে নিয়ে তেজ প্রতাপের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিৎ লালুর। তেজ শুধু ঈশ্বরের সন্ধান করেই থেমে নেই, নিজেই ঈশ্বর হয়ে উঠছেন।

ঈশ্বর পুজো করতে করতে নিজেই ঈশ্বর হয়ে ওঠা [সৌজন্যে: টুইটার]
এই পন্থায় একটাই সমস্যা রয়েছে। ঈশ্বর একজন ঈশ্বরের বেশধারীকে কতটা করুনার চোখে দেখবেন তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
বন্ধুদের সন্ধান করা
অনেকেই বলে থাকেন যে ভালো বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারলে নাকি আত্মবিশ্বাস বাড়ে। লালুর সমস্যা, দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এমন কয়েকজন হাতেগোনা রাজনৈতিক নেতা ছাড়া তিনি আর রাজনৈতিক মহলে বন্ধু খুঁজে পাবেন না।
কঠিন সময়ে বন্ধু খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন [ছবি: ইন্ডিয়া টুডে]
নীতিশ কুমারের সঙ্গে লালুর সখ্যতা চিরদিনের জন্যে শেষ হয়ে গেছে। আর, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা হিসেবে তেজস্বীর উত্থান কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী মেনে নিলেও, লালুকে কোনও দিনও ধর্তব্যের মধ্যেই আনেননি তিনি।
জেলে ফেরত যাওয়া
দেশের জেলখানাগুলো সঠিক অর্থে সংশোধনাগার হয়ে উঠতে চেষ্টা করছে যেখানে বন্দিদের জীবন কিছুটা সুখের হতে পারে। তাই হাসপাতালে সময় না কাটিয়ে লালুর উচিৎ জেলে ফিরে গিয়ে বন্দিদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো।
হাসপাতালে নার্সদের সঙ্গে লালু প্রসাদ [সৌজন্যে: টুইটার]
ভারতের জেলখানাগুলোতে ভিড়ভাট্টা লেগেই থাকে। তাই ধরে নেওয়া যেতেই পারে এতগুলো বন্দিদের মধ্যে লালু নিজের পছন্দসই বন্দিকে খুঁজে পেয়ে যাবেন।
গরুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা
লোকে বলে, গরুর নাকি অগাধ ক্ষমতা। সেই ক্ষমতাগুলোর মধ্যে ঐশ্বরিক ক্ষমতাও রয়েছে। পশু খাদ্য কেলেঙ্কারির জন্যে লালু গরুদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ফেলতে পারেন। সাধারণ মানুষ, যাদের শুধু ভোট দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, তাদের কাছে ক্ষমা চাইতেন পারেন লালু। তার আমলে অরাজকতার তো শেষ ছিল না।
গরুর কাছে ক্ষমতা প্রার্থনা করতে পারেন লালু [ছবি: রয়টার্স]
এই টোটকাগুলো হয়ত তাঁর ভগ্ন হৃদয়কে আবার জোড়া লাগাতে পারে।
লালু প্রসাদে যাদব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক, এই কামনাই করি।
লেখাটি পড়ুন ইংরেজিতে

