সারচার্জ নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, তবে যাত্রীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন
চাহিদার সঙ্গে সারচার্জের সম্পর্ক থাকবে না অ্যাপক্যাবের ক্ষেত্রে
- Total Shares
কথা ছিল সারচার্জ ভাড়ার সংজ্ঞা বেঁধে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে অ্যাপ ক্যাবগুলো সারচার্জ নিতে পারবে তার একটা পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিতে হবে। কিন্তু সেই পথে হাঁটলেন না সরকার। পরিবহন দপ্তর আপাতত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে একটি অ্যাপ ক্যাব সংস্থা প্রতিদিন যা ভাড়া খাটবে তার মাত্র ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সারচার্জ নিতে পারবে।
একটু তলিয়ে দেখলে বোঝা যাবে যে এই সিদ্ধান্তটা ঠিক কতটাই যুক্তিহীন। সরকার এর আগে অ্যাপ ক্যাবগুলোর ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছিল। সরকার জানিয়েছিল যে এসি ট্যাক্সির সরকারি স্বীকৃত ভাড়াই অ্যাপ ক্যাবগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, প্রতি কিলোমিটার ১৮ টাকা ৭৫ পয়সা। এর সঙ্গে এসি ট্যাক্সির মতো ওয়েটিং চার্জ, নাইট চার্জ ও সার্ভিস চার্জ যোগ করতে পারবে অ্যাপ ক্যাবগুলো। অর্থাৎ, এই চারটি চার্জ - দূরত্ব চার্জ, ওয়েটিং চার্জ, নাইট চার্জ (ক্ষেত্র বিশেষে প্রযোজ্য) ও সার্ভিস চার্জ - যোগ করে যে অঙ্ক দাঁড়াবে তাই অ্যাপ ক্যাবের মূল ভাড়া হিসেবে গণ্য হবে। এই ভাড়ার ৪৫ শতাংশের বেশি সারচার্জ হিসেবে ধার্য করা যাবে না।
সেই সময় আশঙ্কা করা গিয়ে ছিল যে সরকার ভাড়া ও সারচার্জের পরিমাণ বেঁধে দেওয়ার ফলে সারচার্জ ধার্য করবার প্রবণতা বাড়বে অ্যাপ ক্যাবগুলোর ক্ষেত্রে। সেই আশঙ্কা সত্যি হয়েছিল। সেই সময় নানা মহল থেকে দাবি উঠেছিল যে সরকারের উচিত সারচার্জ কখন কখন নেওয়া যাবে তার একটি পদ্ধতি নির্ণয় করে দেওয়া।
এবার সারচার্জ যুক্ত ভাড়ার পরিমাণ বেঁধে দিল সরকার
কিন্তু একদিন একটি অ্যাপ ক্যাব যতবার ভাড়া খাটবে তার মাত্র ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সারচার্জ ধার্য করে যাবে - এই সিদ্ধান্তটি অযৌক্তিক। অ্যাপ ক্যাবগুলো সাধারণত বলে থাকেন যে চাহিদা বেশি হলে তারা সারচার্জ ধার্য করে থাকে। কিন্তু এবার অ্যাপ ক্যাবগুলো চাইবে যেনতেন প্রকারে এই এক দিনের ২৫ শতাংশ সারচার্জযুক্ত রাইডের লক্ষ্য পূরণ করে ফেলতে। অর্থাৎ, তারা যে আর চাহিদা বাড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না তা বলাই বাহুল্য।
একজন যাত্রী হয়তো ছুটির দিন সকালে অ্যাপ ক্যাব বুক করতে চাইছেন। সেই সময় চাহিদা বাড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। অথচ, দেখা যাবে সেই সময় সারচার্জ যুক্ত ভাড়া চাইছে অ্যাপ ক্যাব সংস্থাগুলো। আরও একটি প্রবণতা দেখা দিতে পারে। বেশি দূরত্বের জন্যে ভাড়া নিলে সারচার্জ চাইতে পারে সংস্থাগুলো। কারণ সেক্ষেত্রে, দূরত্বের জন্যে মূল ভাড়া বাড়বে আর মূল ভাড়ার উপর ৪৫ শতাংশ হারে সারচার্জের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। তার মানে সারচার্জের সঙ্গে চাহিদার আর কোনও সম্পর্ক থাকবে না।
তবে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্তেও যাত্রীরা কিন্তু একটি ক্ষেত্রে লাভবান হবে। এখন, একদিনে একটি অ্যাপ ক্যাব সংস্থা যতবার ভাড়া খাটবে তার মাত্র ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সারচার্জ ধার্য করতে পারবে তারা। এর ফলে সারচার্জ যুক্ত ভাড়ার পরিমাণ অনেকটাই কমবে। একজন যাত্রী যদি এখন দিনে তিন বার একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ক্যাব বুক করেন তাহলে হয়ত একবার, খুব বেশি হলে দু'বার, তাঁকে সারচার্জ দিতে হতে পারে। কারণ ২৫ শতাংশ হয়ে গেলে যতই চাহিদা থাকুক অ্যাপ ক্যাবগুলো আর সারচার্জ নিতে পারবে না।
দেখা যাচ্ছে শেষ পর্যন্ত অ্যাপ ক্যাবগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করবার জন্যে 'শর্ট কাট' উপায় বেছে নিয়েছে সরকার। এই উপায় কোনও মতেই যুক্তিপূর্ণ নয়। তবে এই অযৌক্তিক উপায় কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে যাত্রীদের।

