স্মরণাতীত কাল থেকে চলে আসা ন'টি পানীয় যা আমাদের শরীর সুস্থ রাখে
শরীর সুস্থ রাখতে এক সময় নানা জিনিসের শরবৎ বানিয়ে খাওয়া হত
- Total Shares
শরীর ভালো রাখতে আমরা কী খাই তার যেমন একটা গুরুত্ব রয়েছে ঠিক তেমন ভাবেই আমরা কী পান করছি তারও একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পানের সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। উপকারী পানীয় যেমন আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে ঠিক তেমনভাবেই স্বাস্থ্যের পক্ষে অনুপযোগী পানীয় আমাদের শরীরের ক্ষতি করে। কিন্তু আমরা বিষয়টা খুব ভালো ভাবে বুঝি না বলে হয়তো তেমন একটা গুরুত্ব দিই না। আগেকার সময় এমনটা হত না। শরীরকে ভালো রাখতে বিশুদ্ধ ও পুষ্টিকর পানীয় যে অপরিহার্য সে ব্যাপারে আগেকার মানুষ তেমন একটা মাথা না ঘামালেও তাঁরা সুস্থ থাকার জন্য সেই পানীয় পান করতেন। শুধু তাই নয় বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার জলের সঙ্গে মিশিয়ে নানান শরবত বানিয়ে খাওয়া হত তখন। এমন সব প্রাচীন আছে যা খুব সহজে যেমন বানান যায় তেমনই তা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত উপকারীও। আসুন সেই পানীয়গুলো আর একবার ফিরে দেখা যাক। খানিকটা গরম জলের মধ্যে অতি সাধারণ একটা কিছউ মিশিয়ে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে এইসব উপকারী শরবত।
আদা জল
আদা জল খেলে পেট ভালো থাকে এবং হজম শক্তি বাড়ে। প্রাতঃরাশের আগে আদা জল খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ ঠিক থাকে। খানিকটা জলে কিছুটা থেঁতো করা আদা মিশিয়ে এক ফুট দিয়ে নিতে হবে তারপর ঠান্ডা করে খেতে হবে।
পাতিলেবুর রসে ক্ষার জাতীয় দ্রব্য থাকে যা পেট ভালো রাখতে সহায়তা করে
লেবু জল
পাতিলেবুর রস শরীরে ক্ষারের মাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখে, খপে পেট ভালো রাখতে তা সহায়তা করে। নিয়ম মেনে না চললে অনেক সময় যে সব শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, জলের সঙ্গে পাতি লেবুর রস মিশিয়ে খেলে সেই সব সমস্যার থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ওজন কম রাখতে হলে পাতিলেবুর রস উপকারী। ভোরবেলায় উঠে এক কাপ গরম জলে অর্ধেক পাতিলেবুর রস মিশিয়ে সেই জল একটু একটু করে খেতে থাকুন।
বার্লি জল
বার্লি জলে বিটা-গ্লুক্যান্স (beta-glucans) থাকে যা শরীরকে বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ থেকে মুক্ত করে এবং শরীরের ভেতরটা পরিষ্কার রাখে। শরীরের কোলেস্টরলের মাত্রা ঠিক রাখে। কিছুটা জলে বার্লির দানা মিশিয়ে এক ফুট দিয়ে নিন এবার মিশ্রণটির সঙ্গে একটু বিটনুন মিশিয়ে কম আঁচে তিরিশ মিনিট মতো ফুটিয়ে নিন। এবার ঠান্ডা হলে ধীরে ধীরে খান।
শসার জল
শসায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি, পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে যা শরীরকে পরিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে। শসায় থাকা ম্যাগনেসিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কম করে। খানিকটা পানীয় জলে টুকরো করে কাটা কয়েকটি শসা বেশ কয়েক ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখুন। তারপর শসার টুকরো সমেত সেই জল অল্প অল্প করে খান।
দারচিনির জল
দারচিনি শরীরে রক্ত শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে যার ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা কমায়। এ ছাড়াও দারচিনির জল খেলে অসময়ে খিদে খিদে ভাব এবং অতিরিক্ত খাবার ইচ্ছে থেকে দূরে থাকা যায়। শরীরে কোথাও ব্যথা হলে দারচিনির জল সেই ব্যথা নিরাময় করতে সাহায্য করে।
নীচে যে আরও চার রকম মশলা দিয়ে শরবত তৈরির কথা লেখা আছে তার সবকটি বানাতে হলে চা চামচের দু'চামচ মসলা এক কাপ গরম জলে সারা রাত মিশিয়ে রাখতে হবে। পরের দিন সকালে জলটিকে এক ফুট দিয়ে, ছেঁকে নিয়ে ও ঠান্ডা করে খেতে হবে। অথবা পরের দিন সকালে জলটিকে ছেঁকে নিয়ে খালি পেটে খেতে হবে।
জিরের জল সকালে খেলে তা উৎসেচকের ক্ষরণে সহায়তা করে
জিরা ভেজানো জল
জিরাতে প্রচুর পরিমাণ লোহা আছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং রক্তাল্পতার হাত থেজে মুক্তি দেয়। নাক কিংবা কান বন্ধ বন্ধ লাগলে জিরার জল খেলে উপকার পাওয়া যায়। সকালে জিরের জল খেলে তা উৎসেচকের ক্ষরণে সহায়তা করে এবং হজম শক্তি বাড়ায়।
জোয়ানের জল
জোয়ানের জল খেলে হজম শক্তি ঠিক রাখে ও গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কম করে।
মৌরি ভেজানো জল
মৌরি ভেজানো জল খেলে যেমন শরীর ব্যথা বা যন্ত্রণা দূর হয় তেমনই তা হজম শক্তি ভালো করে। কারও যদি ঘন ঘন খিদে ভাব অনুভূত হয় বা অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছে হয় মৌরি ভেজানো জল খেলে তা কম হয়। একটি টোটকা: ভারী খাবার খাওয়ার আগে কিছুটা মৌরি দিয়ে খানিকটা চা বানিয়ে খেতে পারেন।
ধনে ভেজানো জল
যাঁরা থায়রয়েডের সমস্যা ভুগছেন তাঁরা যদি নিয়মিত ধনে ভেজানো জল খান তাহলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে যার ফলে থায়রয়েডও নিয়ন্ত্রণে থাকে। ধনে ভেজানো জল খেলে হজম শক্তি বাড়ে পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। শরীরের ওজন কম করতে এবং ব্যথা দূর করতে ধনে ভেজানো জলের অনেক উপকারিতা আছে। যাঁদের আর্থ্রাইটিস আছে তাঁরা যদি ধনে ভেজানো জল খান তা হলে শরীরের ব্যথা অনেকটা কম হয়।
লেখাটি ইংরেজিতে পড়ুন

